.ঢাকা, শুক্রবার   ২২ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৮ ১৪২৫,   ১৫ রজব ১৪৪০

শিশু তারিফের পরিবারে শোকের মাতম

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৯:০৯ ১২ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৯:০৯ ১২ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যশোরের মণিরামপুরে অপহরণের পর হত্যার শিকার শিশু তারিফের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। ছেলে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বাবা সিদ্দিকুর রহমান। ছেলের ছবি বুকে নিয়ে ডুকরে ডুকরে কাঁদছেন তিনি। একই অবস্থা তারিফের মা রোজিনা বেগমের। 

পরিবারটিকে সান্তনা দিতে এলাকাবাসীসহ দূর-দূরন্ত থেকে আসা নারী-পুরুষরা ভিড় জমাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। আত্মীয়-স্বজন বা গণমাধ্যম কর্মীদের দেখলেই কেঁদে ওঠেন সিদ্দিকুর রহমান। দাবি করেন খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি, ফাঁসি। 

শনিবার দুপুরে সরেজমিন উপজেলার ফেদাইপুর গ্রামে সিদ্দিকুর রহমানের বাড়িতে গেলে এমন চিত্র চোখে পড়ে।

শিশু তারিফ হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা বিল্লাল ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেলেও তার সহযোগী পিতা কাঠু মোস্তফা ও মা মরিয়ম ধরা না পড়ায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিজেদের ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন এলাকার নারীরা। রাত হলেই তাদের আতঙ্ক বেড়ে যায়।  

এদিকে তারিফ খুন হওয়ায় ঘটনায় এলাকাবাসী বিল্লালের বাড়িঘরে আগুন জ্বালিয়ে ও ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। ঘটনার পর থেকে বিল্লালের বাবা মোস্তফা ওরুফে কাঠু মোস্তফা স্ত্রী মরিয়মকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আর এলাকাবাসীর বাঁধার মুখে বিল্লালের মরদেহ গ্রামে এনে দাফন করতে পারছে না তার স্বজনরা। ফলে বুধবার থেকে তার লাশ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে। আ

শনিবার বিল্লালের এক মামা তার মরদেহ গ্রহণের জন্য পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে, এলাকাবাসী খুনি বিল্লালের মরদহে গ্রামে দাফন করতে দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

সিদ্দিকুর রহমানের বাড়ির পাশেই সরকারি সাত শতক খাস জমিতে পরিবার নিয়ে থাকতেন কাঠু মোস্তফা। জমিজমা না থাকায় স্থানীয় সিলুমপুর বাজারে ফরিকের জন্য তৈরি একটি দোকানও পেয়েছিলেন তিনি। 

ছেলের খুনের বর্ণনা দিতে গিয়ে ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বিল্লাল ও তার বাবা-মা সবাই বেপরোয়া ছিলো। তুচ্ছ কোন ঘটনায় তারা দা-বটি নিয়ে আমাদের মারতে আসত। কয়েকদিন আগে বিল্লাল আমাদের পুকুর থেকে চুরি করে আড়াই কেজি মত মাছ ধরে। যা দেখে ফেলে তারিফ। তারিফ বিষয়টি আমার বাবা মুক্তার গাজীকে বলে দেয়। বাবা এই নিয়ে বকাঝকা করার পর থেকে তারিফের ওপর চটে যায় বিল্লাল। এরপর কৌঁশলে গত রোববার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে তারিফকে সড়ক থেকে ধরে নিয়ে যায় বিল্লাল। 

ওই রাতেই বিল্লাল ও তার মা-বাবা মিলে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে মুখে টেপ মেরে বিদ্যুতের শক দিয়ে এবং ঘাড় মচকে আমার ছেলেকে হত্যা করে। ছেলেকে মেরে তারা প্রথমে মরদেহ ঘরের মধ্যে গর্ত করে পুঁতে রাখতে চেয়েছিল। পরে সেই মরদেহ বাড়ির অদূরে একটি কালভার্টের মধ্যে বস্তাবন্দি করে ফেলে আসে তারা। খুনের ঘটনা জানাজানি হলে বিল্লালদের ঘরে ঢুকে লেপ-তোষকে রক্ত লেগে থাকতে এবং ঘরের এক কোনে মাটি খোঁড়া দেখতে পেয়েছেন এলাকাবাসী, এমনটিই দাবি ছেলে হারা ছিদ্দিকুর রহমানের। 

এদিকে শিশু তারিফ খুনের ঘটনায় জড়িত নিহত বিল্লালের পিতা-মাতাকে গ্রেফতার করে ফাঁসিতে ঝোলানোর দাবি এলাকাবাসীর।

মণিরামপুর থানার ওসি সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পারিবারিক কলহের জেরে শিশু তারিফকে অপহরণের পরে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত করছে পুলিশ। আমরা বিল্লালের পিতা-মাতাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।’ 

রোববার উপজেলার খানপুরের ফেদাইপুর গ্রামের তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া তারিফ হোসেন নিখোঁজ হয়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্বজনরা জানতে পারেন প্রতিবেশী বিল্লাল নামের এক তরুণ তারিফকে অপহরণ করেছে। একপর্যায়ে পাঁচলাখ টাকাও দাবি করে বিল্লাল। 

বিষয়টি থানা পুলিশকে জানালে পার্শ্ববর্তী কেশবপুর উপজেলা থেকে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ বিল্লালকে আটক করে। আটক বিল্লাল তার পিতা-মাতার সহযোগীতায় তারিফকে হত্যা করেছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেয়। পরে রাত ১১টার দিকে পুলিশ বিল্লালকে সঙ্গে নিয়ে লাশ উদ্ধারে গেলে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় সে। এই ঘটনার পর থেকে বিল্লালের পরিবার বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। 
 
ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে