Alexa শিশুর শৈশব রক্ষায় বাংলাদেশ ১৩৪

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯,   কার্তিক ২৭ ১৪২৬,   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

শিশুর শৈশব রক্ষায় বাংলাদেশ ১৩৪

 প্রকাশিত: ১৬:১৭ ১ জুন ২০১৭  

অপুষ্টি, অশিক্ষা, অন্ধ বিশ্বাস ও নানা পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সমস্যায় জর্জরিত কোমলমতি শিশুরা। ফুল হয়ে ফোটার আগেই ঝরে যাচ্ছে অনেক শিশুর স্বপ্ন ও শৈশব। যেখানে বিশ্বের ১৭২টি দেশে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, শিশুদের শৈশব রক্ষায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৪তম। শিশু-কিশোরদের শৈশব কোথায় সবচেয়ে নিরাপদ আর কোথায় অরক্ষিত এ বিষয়ে বৈশ্বিক সূচকে দক্ষিণ এশিয়াতে বাংলাদেশের অবস্থান মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, মিয়ানমার ও ভারতের পেছনে। তবে নেপাল, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের থেকে এগিয়ে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে আন্তর্জাতিক শিশু দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক শিশু-সাহায্য সংস্থা সেভ দ্যা চিলড্রেনের 'চুরি হয়ে যাওয়া শৈশব' শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশ্বে মাত্র ১০টি দেশে পৃথিবীর দুই তৃতীয়াংশ খর্বাকায় শিশু বাস করে। এর মধ্যে ভারতে সবচেয়ে বেশি ৪৮ দশমিক ২ মিলিয়ন। এছাড়া দশটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের স্থান অষ্টম, যেখানে প্রায় ৫৫ লাখ খর্বাকায় শিশুর বসবাস। এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বে প্রতি সাত সেকেন্ডে ১৫ বছরের কম বয়সী একজন মেয়ে শিশুর বিয়ে হচ্ছে। এদিকে বাংলাদেশে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী মেয়েদের বিয়ের হার শতকরা ৪৪ শতাংশ। এছাড়া প্রতি বছর প্রায় ১৭ মিলিয়ন কিশোরী মেয়ে সন্তান জন্ম দিচ্ছে এবং এই জন্মের অর্ধেকই ঘটছে বিশ্বের ৭টি দেশের মধ্যে। বাংলাদেশ ছাড়াও এ তালিকায় রয়েছে ব্রাজিল, কঙ্গো, ইথিওপিয়া, ভারত, নাইজেরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র। সেভ দ্যা চিলড্রেনের এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বিশ্বের প্রায় ৭'শ মিলিয়নের বেশি শিশু শৈশব নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। মূলত ৮টি কারণে শিশুরা শৈশব হারিয়ে ফেলছে, যা ইচ্ছে করলে যে কোনও সরকার সমাধান করতে পারে। শিশুর শৈশব চুরি হয়ে যাওয়া ৮টি কারণ উল্লেখ করে শিশুদের সহায়তা করা এই বেসরকারি সংস্থাটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যু (নিউমোনিয়া, ম্যালেরিয়াসহ কিছু রোগ), এরপর অপুষ্টিজনিত কারণ, স্কুলে যেতে না পারা, শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, অল্প বয়সে গর্ভধারণ, রাজনৈতিক সংঘাত, বিভিন্ন ধরনের অসংগত হত্যা (রাজন হত্যার মতো ঘটনা)। সেভ দ্যা চিলড্রেনের ডিসিডি ডা. ইশতিয়াক মান্নান হাড়িয়ে যাওয়া শিশুর শৈশবের বিষয়ে নানা আলোচনা করেন। এছাড়া সংস্থার প্রোগ্রামিং টনি মাইকেল প্রতিবেদনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্বের ২৬ কোটির বেশি শিশু স্কুলে যায় না। ১৬ কোটি শিশু সরাসরি শ্রমে জড়িত, ৪০ মিলিয়ন মেয়ে শিশুর বাল্যবিবাহ হয়, ১৬ মিলিয়ন শিশু অল্প বয়সে গর্ভধারণ করছে, ২৮ মিলিয়ন শিশু রিফিউজি হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ রয়েছে, ইউরোপীয় দেশগুলোতে শিশুরা ভালো অবস্থানে রয়েছে। আর সব থেকে খারাপ অবস্থানে রয়েছে নাইজেরিয়ার শিশুরা, যা ১৭২টি দেশের মধ্যে সর্বশেষ স্তরে রয়েছে। শিশুদের ভালো অবস্থানে প্রথমে রয়েছে নরওয়ে। সেভ দ্যা চিলড্রেনের ডিসিডি ডা. ইশতিয়াক মান্নান বলেন, ‘বিশ্বের এই পরিসংখ্যান প্রামাণ করে দেয় যে, শিশুর জন্মস্থান নির্ধারণ করে দেয় রাষ্ট্র তাকে কী ধরনের সুযোগ তৈরি করে দেয়।’ তিনি বলেন, “আমাদের দেশের সরকার শিশু অধিকার নিয়ে যে কথা বলে যে অহংকার করে তা বাস্তবের রূপ নেই। ৯৮ শতাংশ শিশুর নাম স্কুলে লেখা রয়েছে সরকার এমন কথা জানিয়েছে। কিন্তু স্কুলে নাম থাকলেই কি শিশুরা সুশিক্ষা পাচ্ছে?” এসময় সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্ক পিয়াস সহ সংস্থার বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই