Alexa শিশুজন্মে বেড়েছে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রপচার

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৩ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৮ ১৪২৬,   ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪০

শিশুজন্মে বেড়েছে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রপচার

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:০৮ ২০ জুন ২০১৯  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

শিশুজন্মের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রপচার। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন প্রকাশিত নতুন এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালে এ অস্ত্রোপচারের সংখ্যা বেড়ে ৫১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশে গতবছর প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার অপ্রয়োজনীয় প্রসবকালীন অস্ত্রপচার হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রসবকালীন অস্ত্রপচারের ক্রমবর্ধমান বিস্তৃতির দিকে গুরুত্ব দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে মা ও শিশু দুইজনের ঝুঁকির কথা জেনেও দেশের ধনী শ্রেণির মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ অস্ত্রপচারের দিকে ঝুঁকছে।

বিশ্লেষণ বা রিপোর্টের মূল পর্যবেক্ষণগুলো হল-

১. ২০১৮ সালে বাংলাদেশি বাবা-মায়েরা সিজারিয়ানের পেছনে খরচ করেছে ৪৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় ছিল। এ খরচ প্রতি জনে গড়ে ৬১২ মার্কিন ডলার।

২. ২০১৮ তে হওয়া সমস্ত প্রসবকালীন অস্ত্রপচারের মধ্যে ৭৭ শতাংশই অর্থাৎ ৮ লাখ ৬০ হাজার অস্ত্রপচারই চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় ছিল যেখানে ২০১৬ তে এ সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৭০ হাজার অর্থাৎ বৃদ্ধি ঘটেছে ৫১ শতাংশ।

৩. একই সময়ে প্রায় ৩ লাখ নারী থেকে যাচ্ছেন যাদের অস্ত্রপচার প্রয়োজন হলেও ব্যয় বহনের সামর্থ্য না থাকায় কিংবা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছেন না।

৪. ২০০৪ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রসবকালীন অস্ত্রপচার ৪ শতাংশ থেকে ৩১ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ বিষয়ে নবজাতক ও মাতৃস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. ইশতিয়াক মান্নান বলেন, অস্ত্রপচারের এই জনপ্রিয়তা এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে যে, দিনকে দিন মায়েরা আরো বেশি এই অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রপচারের দিকে ঝুঁকছেন। তারা বিশ্বাস করেন যে হয়ত এটি আরো বেশি আরামদায়ক হবে কিংবা তারা তাদের চিকিৎসকদের কথায়ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হল, যে দরিদ্র্য মায়েদের সত্যিই সিজারিয়ান প্রয়োজন হয় তারা সেটি পর্যন্ত পৌঁছাতেই পারেন না।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে হওয়া সমস্ত জন্মের ৮০ শতাংশই হয় অস্ত্রপচারের মাধ্যমে। এর জন্য আংশিকভাবে বাংলাদেশের মেডিকেল সেক্টরের অব্যবস্থাপনা দায়ী এবং কিছু অসাধু চিকিৎসক দায়ী, যাদের কাছে সিজারিয়ান একটি লাভজনক ব্যবসা।

ড. মান্নান জানান, শিশুজন্মে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রপচারের ফলে ইনফেকশন, মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, অঙ্গহানি, জমাট রক্ত ইত্যাদির কারণে সুস্থতা ফিরে পেতে প্রাকৃতিক প্রসবের তুলনায় অনেক দীর্ঘ সময় নেয় এবং মা ও শিশু উভয়কে ঝুঁকিতে ফেলে। এটি প্রাকৃতিক জন্মের লাভজনক দিকগুলোও নষ্ট করে ফেলে। যেমন- শিশু মায়ের প্রসব রাস্তা দিয়ে বের হবার ফলে তার শরীরে কিছু ভালো ব্যাকটেরিয়া গ্রহণ করতে পারে যা কিনা তার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে, অস্ত্রপচারের ফলে এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সে যেতে পারে না। এছাড়া মায়ের বুকের দুধ পান করার জন্য মায়ের সঙ্গে শিশুর যে শারীরিক নৈকট্যে আসা দরকার সেটি প্রয়োজনের তুলনায় দেরিতে ঘটে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএসআই/এমআরকে/আরএইচ