ঢাকা, রোববার   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৫ ১৪২৫,   ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪০

শিল্পীর ঘরে জন্ম তাই শিল্পী হতে চাই

ভোলা প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৮:০১ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৮:০৯ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান। আমার মায়ের আদেশ বাবার মত গাইতে হবে গান। সেদিন থেকে গানই জীবন, গানই আমার প্রাণ। শিল্পীর ঘরে জন্ম তাই শিল্পী হতে চাই। সঙ্গীতটাকে সারা জীবন সঙ্গী করতে চাই।’’

গানের মতো ছন্দে ছন্দে কথাগুলো বলেন ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউপির ৪ নং ওয়ার্ডের ‘বেলী’ কিশোরী ক্লাবের উদীয়মান শিল্পী রিতা আক্তার। এ বছর আলী নগর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী রিতা।

রিতা বলেন, আমি যখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি তখন বাবা চাঁন মিয়া বয়াতি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ইউনিসেফ এর সহায়তায় কোস্ট ট্রাস্টের ‘শিশু সুরক্ষা বৃত্তি’ হিসাবে ১৫ হাজার টাকা পাই। তা  দিয়ে সেলাই মেশিন কিনে কাপড় সেলাই করি। এ থেকে যা অর্থ আয় হয় তা দিয়েই আমাদের সকল ভাই বোনের পড়াশোনারা খরচ চালিয়ে যাচ্ছি। এমনকি বাবার ভাঙ্গা হারমোনিয়াম ঠিক করে নতুন করে পড়াশোনার পাশাপাশি গানে তালিম নেয়া শুরু করি। সেলাই এর পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় শো করে বাড়তি কিছু অর্থ আয় করছি।

রিতা বলেন, আমার মায়ের স্বপ্ন ছিলো একজন সংগীত শিল্পী হবেন। মায়ের সেই স্বপ্ন পূরণ করার জন্য হলেও আমি সংগীত শিল্পি হতে চাই। আমার এখন প্রথম টার্গেট এসএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা। তারপরে আমি সংগীত নিয়ে পড়াশোনা করতে চাই। এখন ভয় হচ্ছে পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতা।

রিতা আরো বলেন, আমার গাওয়া বিভিন্ন শিল্পীর আধুনিক বাংলা গান, বাবার কাছ থেকে শেখা। বাউল গান, নজরুল এর গান বিদ্রোহী গান গাইতে পারি। আমি সবার ভালোবাসা ও দোয়া নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। এই সঙ্গীতকে ঘিরে আমার অনেক অনেক স্বপ্ন। আমি দেখিয়ে দিতে চাই মানুষের ইচ্ছা শক্তি থাকলে মানুষ যে কোন অসাধ্যকেও সাধন করতে পারে। আমার  স্বপ্ন পূরণের পথে পাশে থাকার জন্য ইউনিসেফ ও কোস্ট ট্রাস্টকে ধন্যবাদ।

রিতার মা আকলিমা বেগম বলেন, ওর বাবা চাঁন মিয়া বয়াতি যখন অসুস্থ হয়ে পড়েন তখন কোস্ট ট্রাস্ট যদি আমাদের পাশে না দাঁড়াতো, তাহলে রিতাকে পড়াশোনা করাতে পারতাম না। আর ওর স্বপ্ন হয়ত স্বপ্ন থেকে যেত। এখন ওর স্বপ্ন পূরণে সরকারের সহায়তা কামনা করি। 

ভোলা ডিসি ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন, আমরা রিতার মতো যেসব মেয়েরা পড়াশোনা পাশাপাশি গানেও ভালো। কিন্তুু আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে তাদের মেধা সঠিক ভাবে বিকাশ ঘটাতে পারেনা। সেই সব কিশোর-কিশোরীদের পাশে আমরা থাকবো। জেলা শিল্পকলা থেকে তাদেরকে সর্বাত্মক সহায়তা করবো। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে