Alexa শিল্পীরা স্বাধীন, কারো প্রভাব মানে না: জায়েদ খান 

ঢাকা, শনিবার   ১৯ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৩ ১৪২৬,   ১৯ সফর ১৪৪১

Akash

শিল্পীরা স্বাধীন, কারো প্রভাব মানে না: জায়েদ খান 

চাপ, হুমকি কিছুই নয়, যা দেখছেন মিশা-জায়েদের কর্মের ফল

নাজমুল আহসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০৪ ৭ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৫:২৬ ১০ অক্টোবর ২০১৯

জায়েদ খান

জায়েদ খান

ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়ক জায়েদ খান শিল্পী সমিতির ২০১৭-১৯ দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে অংশ নিয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। আগামী ২৫ অক্টোবর শিল্পী সমিতির ২০১৯-২১ মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন। এ নির্বাচনেও একই প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করছেন তিনি। গত দুই বছরের সফলতা ও ব্যর্থতা এবং পুণরায় নির্বাচিত হলে কাজের পরিকল্পনা নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন জায়েদ খান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নাজমুল আহসান 

চিত্রনায়িকা মৌসুমী অভিযোগ করেছেন, আপনারা হুমকি দিয়ে অনেককেই নির্বাচন করতে দেননি?
পুরোটাই হাস্যকর। শিল্পীদের হুমকি দিয়ে বসানো যায় এমন ঘটনা আছে পৃথিবীতে। যে প্যানেলে ডিপজল আর রুবেলের মতো দুজন সহ-সভাপতি, রোজিনা, অঞ্জনা, অরুনা বিশ্বাসদের মতো শিল্পীরা প্রার্থী হয়েছে সেটা দেখেই হয়তো অনেকে নির্বাচন করার সাহস দেখায়নি। একটা কথা মনে রাখবেন, সরকারী দল যখন ভালো কাজ করে তখনও বিরোধী দল বলে খারাপ করছে। প্যানেল করতে না পেরে অনেক কথাই বলছে। শিল্পীরা স্বাধীন, কারো প্রভাব মানে না। অভিযোগ যেহেতু করেছে প্রমাণ করতে অন্তত একজন শিল্পীকে দেখানো হোক যাকে আমরা হুমকি দিয়ে বসিয়ে দিয়েছি।

উপর মহল থেকে নাকি চাপসৃষ্টি করা হচ্ছে?
একটা কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই, শিল্পী সমিতির নির্বাচনে আবার উপর মহল কারা? নাম বলতে বলেন। আমাদের উপর মহল নায়ক ফারুক, আলমগীর, সোহেল রানা, হাসান ইমামের মতো গুণীজনরা। এরা একেকজন দেশের মানচিত্র। সোহেল রানা বলেই দিয়েছেন মিশা-জায়েদ যা করেছে বিগত বিশ বছরেও তা কেউ করতে পারেনি। চাপ, হুমকি যা বলছে কিছুই নয়, যা দেখছেন মিশা-জায়েদের কর্মের ফল। দুই বছর কষ্ট করেছি, শিল্পীরা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

গত নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়েই সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারো জয়জয়কার এর কারণ কি?
শিল্পীদের পাশে থাকা। একটা জিনিস শিখেছি- পর্দার হিরো আর শিল্পী সমিতির নেতা হওয়া রাত দিন পার্থক্য। গত দুই বছরে পাইরেসি, অশ্লীলতা, নিয়ম না মেনে যৌথ প্রযোজনার সিনেমা নির্মাণ করা নিয়ে আন্দোলন করেছি। সব সময় চেষ্টা করেছি শিল্পীদের পাশে থাকার, তাদের বিপদে সঙ্গে থাকার। যার ফলশ্রুতিতে তারাও আমাদের পাশে রয়েছেন। একজন নায়ক রাজ রাজ্জাক, ফারুক, কবরী, ববিতাদের ভোট পাওয়া দুষ্কর। তাদের সম্মান দিয়েছি, তারা স্নেহ করেছে। দুই বছর পরীক্ষা দিয়েছি। কাজ না করলে আজকের অবস্থান থাকতো না, শিল্পীরা টেনে নামাতো। 

সাধারণ শিল্পীদের চাওয়া কাজ করা। শিল্পীদের কাজ করার ব্যাপারে বিগত দুই বছরে কি করেছেন?
মনে রাখবেন শিল্পী সমিতির কাজ সিনেমা বানানো নয়। আমরা চলচ্চিত্রের অনিয়মগুলো দূর করেছি। চলচ্চিত্রের মাদার অর্গানাইজেশন প্রযোজক সমিতির কার্যক্রম গত আট বছর অকার্যকর ছিল। আমরা বলেছি নির্বাচন করতে দিতে হবে। অবশেষে প্রযোজক সমিতি নির্বাচনের মাধ্যমে সচল। প্রযোজকদের কাজ সিনেমা নির্মাণ করা, আমাদের কাজ সহযোগিতা করা। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করে সিনেমা নির্মাণ করে আসছিল, সঙ্গে বিদেশি শিল্পীদের নিয়ে। সেটা এখন নিয়ন্ত্রণে এনেছি যাতে আমার শিল্পীরা কাজ করতে পারে। আমাদের টেকনিশিয়ানরা কাজ পায়। 

শিল্পীদের জন্য উল্লেখযোগ্য কি কাজ করেছেন?
শিল্পীদের জন্য একটি ফান্ড করেছি, যাতে কেউ বিপদে পড়লে আর্থিক সহয়তা করতে পারি। কোনো শিল্পী মারা গেলে সমিতির নিজস্ব খরচে তাদের প্রিয় কর্মস্থলে শেষবারের মতো সম্মান জানাতে নিয়ে এসেছি। প্রতিটি শিল্পীর মৃত্যবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিলের আয়েজন করেছি। শিল্পীদের জন্য বাৎসরিক মিলন মেলা পিকনিকের আয়োজন, ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছি। বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা, অনিয়ম করে বিদেশি শিল্পী আনা বন্ধ করেছি, যাতে আমাদের শিল্পীরা কাজ পায়। সমিতির ৫০০ সদস্যদের মধ্যে অনেকেই আছে কোরবানি দিতে পারে না। শিল্পীরা বড় অভিমানি, মুখ ফুটে বলতেও পারে না। আমরা তাদের জন্য কোরবানির ব্যবস্থা করেছি, বাসায় বাসায় সেই মাংস পাঠিয়েছি। যাতে তার পরিবারের কাছে সম্মান থাকে। শিল্পী কলাকুশলী নামের আরো একটি ৫০ কোটি টাকার ফান্ড করেছি। যেটা মন্ত্রণালয়ে পাশ হয়ে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে রয়েছে। আসছে চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন। এছাড়া সব-সময়ই শিল্পীদের স্বার্থরক্ষায় কাজ করেছি। 

ব্যর্থতা কি ছিল?
আমার দৃষ্টিতে যেটা মনে হয় শিল্পীদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে পারিনি। এটা দুই বছরের মতো অল্প সময়ে করা সম্ভবও নয়। সমিতির সদস্যদের মধ্যে সবার না, বেশ কিছু শিল্পী আছে যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই দরকার। সেটা ছোট্ট একটা বাসা হোক। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে শিল্পীদের জন্য এই একটা জিনিস চাইবো। প্রধানমন্ত্রী অনেক শিল্পী বান্ধব, মনে হয় প্রধানমন্ত্রী এটা চাইলেই হয়ে যাবে। আর একটা কথা বলবো, শিল্পীরা কারো কাছে হাত পাততে চায় না। শিল্পীরা কাজ চায়। বলবো না সিনেমার সোনালী যুগ ফিরে আসবে, তবে একটু যদি ভালো অবস্থা হয়, হলগুলো ঠিক হয়, প্রযোজকরা পুরোদমে সিনেমা নির্মাণ শুরু করেন তাহলেই শিল্পীদের কষ্ট দূর হবে। 

অভিযোগ আছে, আপনার সঙ্গে প্রশাসনের সুসর্ম্পক রয়েছে। প্রয়োজনে আপনি তাদের ব্যবহার করেন?
এটা সাধারণ শিল্পীরাই বলতে পারবেন। এখানে যারা প্রতিনিয়ত আসেন তারা কি কোনো দিন দেখেছেন প্রশাসনের লোক নিয়ে মিটিং করতে?

নির্বাচনে প্রশাসনের কোনো প্রভাব থাকবে?
কেনো থাকবে? আমাকে ভোট না দিলে মাথা নিচু করে চলে যাব। শিল্পীদের ভোট এখানে প্রশাসন কি করবে। প্রশাসনের লোকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা মানে শিল্পীদের সম্মান বাড়ানো; তাছাড়া আর কিছু্ই নয়। মুম্বাই পুলিশের অনুষ্ঠানে দেখবেন বলিউডের সব তারকারা হাজির হন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমাজের প্রতিচ্ছায়া। তাদের সঙ্গে ভালো সর্ম্পক রাখলে লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই। আমাদের যেকোনো শিল্পী বিপদে পড়লে তাদের কাছে পাই। 

গতবার নির্বাচনে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
এবার শিল্পী সমিতির নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে রয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি সর্বজন স্বীকৃত, সৎ মানুষ। শিল্পীদের বলবো কেউ যাতে এমন ঘটনা না ঘটায়। শিল্পী সমিতির নির্বাচন শুধু মালা বদলের নির্বাচন। যে জিতবে সে মালা পরবে, যে হারবে সেই মানুষটিও যেন পরেরদিন থেকে এক হয়ে যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ