Alexa শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে না বেদে শিশুরা

ঢাকা, শনিবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৬ ১৪২৬,   ২১ মুহররম ১৪৪১

Akash

শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে না বেদে শিশুরা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১২:৪৩ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৫:০১ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

 

বেদে সম্প্রদায়ের শিশুরা ভাসমান। ভেসে বেড়ায় নদী-বন্দর, গ্রামগঞ্জ ও শহর-নগরে। বেদে বহরের চারপাশে দুরন্তপনা, সাপ খেলা, বানর খেলা, কানামাছি, এক্কাদোক্কায় মেতে থাকে সারা বেলা। হাটে-বাজারে সাপ, বাদর খেলায় বাবা-মা’কে করে সহযোগিতা তারা।

দারিদ্রতা ও যাযাবর জীবনের কারণে শিক্ষার আলো থেকে বেশির ভাগ বেদে সম্প্রদায়ের শিশুরা বঞ্চিত। এ কারণে বংশানুক্রমে একই পেশায় থাকছে তারা। সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুর জন্য সরকারি-বেসকারি উদ্যোগ থাকলেও তার দেখা নেই ঠাকুরগাঁওয়ে। অন্যদিকে বন্য প্রাণী ধ্বংস ও নদ-নদীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছে বেদে পরিবারগুলো। শিক্ষা তো দূরের কথা দু’বেলা খাবার জোগান দেয়াই এসব পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

জন্ম নিবন্ধন নেই বেদে পল্লীর অধিকাংশ শিশুর। তারা পায় না সরকারি কোনো সহযোগিতা। অবস্থানরত পল্লীর কাছাকাছি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান থাকলেও স্কুলের বারান্দা পর্যন্ত পৌঁছায় না তাদের পা। সারাক্ষণ দূরন্তপনায় দিন কাটায় তাবুর আশেপাশে। শুধু শিক্ষা বঞ্চিতই হচ্ছে না বেদে শিশুরা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতেও রয়েছে তারা। জন্মের পর টিকা দেয়নি কোনো শিশুই। স্বাস্থ্য সেবায় ডাক্তারের প্রয়োজন হয় না তাদের। বাল্যবিয়ে বেদে জীবনে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। মেয়েদের খুব অল্প বয়সেই বিয়ে দেওয়ার কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে তারা। একটি শিশুর মাও যেন আরেকটি শিশু।

সমাজ হতে বিচ্ছিন্ন এসব শিশুরা নোংরা পরিবেশে সমাজের বোঝা হিসেবে বেড়ে উঠছে। এ উপলব্ধি কেবল সুশীল সমাজের নয়, খোদ বেদে পরিবারগুলোও জানেন তাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ। তবুও অর্থাভাবে বিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখতে পারছে বেদে পরিবারের শিশুরা। 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা জগন্নাথপুর এলাকায় মহাসড়কের পাশে কালো প্লাষ্টিক দিয়ে তাঁবু টাঙ্গিয়ে ১০টি বেদে পরিবার থাকছে ১মাস ধরে। কথা হয়

বেদে পল্লীর সরদার নজরুল ইসলাম বলেন, আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। তাদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে চাই। অনেকেই এসে সাহায্যের আশ্বাস দেন। কিন্তু কোনো পরিবর্তন নেই। হয়না যাযাবর জীবনের কোনো অবসান। বেদে পল্লীর অনেকেই ছেলে-মেয়েদের শিক্ষিত করতে চান। কিন্তু জাত-ব্যবসার টানে আবার তারা ছুটে চলেন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়। এভাবে চলছে জীবন।

তবে বিভিন্ন মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এসব শিশুরা যেন আধারের পথেই হাটছেন।

স্কুলে যাওয়ার কথা জানতে চাইলে আপন, শান্ত তানজিনা, তুফান ও আজিরুনা বলে, বাবা-মায়ের জায়গা জমি নেই। নেই টাকা-পয়সা এ কারণে তারা পড়াশুনা করতে পারিনা। পেশাগত কারণে অনেক সময় বাবা-মা সঙ্গে করে নিয়ে যায়। এখন থেকে সবকিছু শিখতে হবে তাদের নইলে বড় হয়ে কি করবো।

হোসেনের পিতা মাহতাব বলেন, সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা উপার্জন করতে গ্রামগঞ্জের পাড়া মহল্লায় ঘুরে বেড়াই। সারাদিন শেষে ফিরতে ফিরতে প্রায়ই সন্ধ্যা। কোনো কোনো দিন আমাদের সাহায্যের জন্য তাকেও নিয়ে যাই। এ কারণেই তাদের স্কুলে ভর্তি করিনি।  

বেদে পল্লীর জসিম উদ্দীন বলেন, সরকারিভাবে যদি আবাসস্থল ও কাজের ব্যবস্থা থাকতো তাবে কাজ করে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠানো যেত।

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষক আলতাফ হোসেন বলেন, বেদে সম্প্রদায়ের মত যাযাবররাও দেশের নাগরিক। শিক্ষাগ্রহণ একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। যা বেদে শিশুদের রয়েছে। এসব শিশুদের শিক্ষাদানের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম