Alexa ‘শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যা সমাধানে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছি’

ঢাকা, সোমবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৪ ১৪২৬,   ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

‘শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যা সমাধানে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছি’

হাবিপ্রবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২১ ১ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৩:১১ ৪ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) যোগ দেন প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম। এর আগে তিনি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হেকেপ প্রকল্পের ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি স্পেশালিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের প্রফেসর ছিলেন তিনি। 

তার সঙ্গে কথা বলেছেন ডেইলি বাংলাদেশের হাবিপ্রবি প্রতিনিধি মিরাজুল মিশকাত।   

উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে কোন বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন?

- যোগদানের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, বহিরাঙ্গন কর্মসূচি সমানভাবে ত্বরান্বিত ও বেগবান করার কাজে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি। পাঠদানের উপর জোর দিলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উৎকর্ষ সাধন হয় না। প্রয়োজন সমানুপাতিক হারে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদির উপরও গুরুত্ব দেয়া। শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছি। গবেষণা, ল্যাব ও ক্লাসরুম সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপরে জোর দিয়েছি। 

অবকাঠামোগত উন্নয়নে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন?

- একটি ১০তলা একাডেমিক ভবনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এই ভবনের কাজ শেষ হলে ক্লাসরুম ও ল্যাব সংকট অনেকটা কেটে যাবে। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নিয়মিত ভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে যাচ্ছি। আগে এ ধরনের কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না বললেই চলে। বিশ্ববিদ্যালয়কে সর্বোচ্চ পরিমাণ সময় দেয়ার চেষ্টা করেছি। এরপরও কিছু কিছু সমস্যা এখনও থেকে গেছে। 

দায়িত্ব নেয়ার পর কোন ইস্যুটি আপনি কঠিনভাবে মুখোমুখি হয়েছিলেন? 

- বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মধ্যে অর্ন্তদ্বন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে আমার যোগদানের পূর্বে লিভ ভ্যাকেন্সিতে নিয়োগকৃত শিক্ষকদের নিয়মিতকরণ নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। এছাড়া আমি দায়িত্বগ্রহণের পর থেকেই একটি স্বার্থেন্বেষী মহল প্রতিনিয়ত অসহযোগিতা করে আসছে। কোনো ইস্যু ছাড়াই তারা বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ এনে বারবার বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। এটি কাম্য নয়। এ ব্যাপারে ইউজিসি ও সরকারের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের  অভিযোগ উঠেছে, এ বিষয়ে আপনার ভূমিকা কি? 

- নিয়োগ নিয়ে আমি শুধু কয়েকটি কথা বলতে চাই। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। লিখিত পরীক্ষা, ভাইভা, ডেমো প্রেজেন্টেশন ও অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট উপর জোর দেয়া হয়েছে। তবে এই নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনকে জড়িয়ে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ মনগড়া ও পুরোপুরি ভিত্তিহীন। এসব নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে জনগণের সামনে ছোট করার মানে হয় না। 

পরিবহণ সংকট নিরসনে আপনি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন? 

-যোগ দেয়ার আগে ছিলো ২৪টি যানবাহন। দায়িত্ব নেয়ার তিন বছরে ১১টি যানবাহন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছে। আরো দুই থেকে তিনটি নতুন বাস কেনার জন্য নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করি নতুন বাসগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলেই পরিবহন সংকট অনেকাংশেই কমে যাবে। 

টিএসটিতে শিক্ষার্থীদের স্থান সংকুলান হয় না এ ব্যাপারে আপনি কি চিন্তা করছেন?

- সবার আগে শ্রেণিকক্ষের সমস্যার সমাধান দরকার। আর এ জন্যই শিক্ষক ছাত্র কেন্দ্রের চতুর্থ ও পঞ্চম তলা ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদকে সাময়িক সময়ের জন্য ব্যবহার করতে দেয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ে ১০তলা ভবনের কাজ শেষ হলে টিএসসির আরো দুই/একটি তলা শিক্ষার্থীদের জন্য ফাঁকা করে দেয়া হবে। সেক্ষেত্রে এই সমস্যা অনেকটা কেটে যাবে।  

বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেটে গবেষণা ও গ্রন্থাগার খাত অবহেলিত। এ বিষয়ে যদি কিছু বলেন?

- গবেষণা, গ্রন্থাগার, একাডেমিক অবকাঠামোসহ সব দিকেই সমান নজর দেয়ার চেষ্টা করছি। প্রতি বছর দুই হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। মোট শিক্ষার্থী প্রায় ১২ হাজার। ল্যাব সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি ১০তলা একাডেমিক ভবনের কাজ শুরু করেছি। ছয়তলা পর্যন্ত কাজ এগিয়ে চলছে। গ্রন্থাগার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করেছি। বইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য হ্যাচারী স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। এর কাজও প্রায় শেষের দিকে। গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার এবং গবেষণাগারের কাজও এগিয়ে চলছে। শিক্ষকদের গবেষণামুখী করার লক্ষ্যে গবেষণা প্রকল্পের তহবিল আশানুরুপভাবে বৃদ্ধি করেছি। এতে করে প্রায় সব শিক্ষকগণ গবেষণা কাজের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ পাচ্ছেন।    

বর্তমানে জাতীয় উন্নয়নে এই বিশ্ববিদ্যালয় কতটুকু অবদান রাখছে বলে আপনি মনে করেন? 

- হাবিপ্রবি কৃষিতে (অ্যাগ্রিকালচার, ফিশারিজ, ভেটেরেনারি) অনেকটা ভূমিকা রাখছে। অন্যান্য বিভাগগুলোও পিছিয়ে নেই। কয়েকদিন আগেই ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাত হোসেন সরকারের নেতৃত্বে একদল গবেষক ‘টু স্টেজ গ্রেইন ড্রায়িং’ মেশিন তৈরি করেন। এটিই দেশের প্রথম কৃত্রিম পদ্ধতিতে দ্রুত শস্য শুকানোর মেশিন। এই মেশিন ব্যবহার করে ভুট্টা, গম ও ধানসহ অন্য ফসল দ্রুত শুকাতে পারবেন কৃষকরা। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কৃষক সেবা কেন্দ্র’ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে ‘মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক’। এই মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক কৃষকদের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে অপারেশনসহ গবাদিপশুর অন্যান্য চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে। তাই জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে হাবিপ্রবি যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে।  

যদি আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট থেকে থাকে তবে তা নিরসনে কি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন?

- উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সেশনজট নেই। শিক্ষার্থীরা সন্তানের মতো। চাই না সন্তানরা ভোগান্তির শিকার হোক। সেশনজট নিরসনে হাবিপ্রবির শিক্ষকরা যথেষ্ট আন্তরিক। প্রয়োজনে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে হলেও তারা এদিকে নজর রাখেন। পরিবশে স্বাভাবিক থাকলে সব সময় সেশনজটমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সম্ভব। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার ডিজিটালাইজেশনের কাজ চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দ্রুত গতিতে রেজাল্ট দিয়ে সেশন জট নিরসন করা যাবে। এছাড়া সেশনজট নিরসনের লক্ষ্যে দ্রুত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের জন্য একজন পূর্ণকালীন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিয়োগ দিয়েছি। ফলে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের গতি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আশা করছি অতিদ্রুত হাবিপ্রবি সেশনজটের বেড়াজাল থেকে মুক্তি পাবে। 

শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে কি?

- আবাসিক সমস্যা সমস্যা নিরসনে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। ছাত্রদের ডরমিটরি- ২ হল তিনতলা থেকে ৫ তলায় উন্নিত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল উদ্বোধন করেছি। ছাত্রীদের আধুনিক ৬ তলা হলের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেছি। আরো কয়েকটি ১০তলা ছাত্রছাত্রী হল নির্মাণের বাজেট ধরা আছে। কিছুটা সময় লাগবে, তবে এগুলো হয়ে গেলে আবাসন সংকট প্রায় কেটে যাবে।   

নতুন বিভাগ খোলার যৌক্তিকতা কতটুকু? 

- সময়ের প্রয়োজনে শুধুমাত্র একটি নতুন বিভাগ খোলা হয়েছে। পুরনো ৩ টি অনুষদের কিছু আসন কমিয়ে এই নতুন বিভাগ খুলেছি। এ কারণে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়েনি। তবে সময়ের চাহিদার কারণে অনেক সময় কিছু কিছু বিভাগ খুলতে হয়।

মাদকমুক্ত হাবিপ্রবি গড়তে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন?

- নিয়মিতভাবে মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। ৩১ অক্টোবর ডরমেটরি- ২ থেকে ১০টি ইয়াবা উদ্ধার হয়। পরে হলের দুইটি রুম সিলগালা করে দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়, ওই মামলায় এরইমধ্যে একজন বহিরাগত ও হাবিপ্রবির একজন সাবেক শিক্ষার্থীসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া একটি অভিযোগ বাক্স করা হয়েছে যেখানে যে কেউ মাদকের তথ্য আমাদেরকে দিতে পারবে সেক্ষেত্রে তথ্য দানকারীর পরিচয় গোপন করা হবে। এ ব্যাপারে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি, তবে প্রশাসনের একার পক্ষে এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, সবার উদ্যোগ প্রয়োজন।  

শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা বিকাশ ও মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে আপনার কি কি পরামর্শ?

- সামাজিক বন্ধনগুলো দিন দিন হালকা হয়ে যাচ্ছে। যে কারণে সমাজে নৈতিক অধঃপতন এবং মূল্যবোধের অবক্ষয় ব্যাপক হারে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর প্রভাব আছে। কারণ শিক্ষার্থীরা এখন পরিবারকে সময় দেয়ার চেয়ে এগুলোর প্রতি বেশি ঝুঁকছে। ছাত্র-ছাত্রীদেরকে শিক্ষা সম্পর্কিত নানা ধরণের হোম-ওয়ার্ক, লাইব্রেরি ওয়ার্ক, গ্রুপ ওয়ার্ক প্রদান করে অতিমাত্রায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর ব্যবহার কমানো সম্ভব। 

সন্ধ্যকালীন কোর্স নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিভঙ্গি কি? 

- হাবিপ্রবিতে এ বিষয়টি খুব বড় সমস্যা না হলেও সান্ধ্যকালীন কোর্সটি যদি মূল কোর্স সমূহের পাঠদানের বিষয়ে অন্তরায় বলে প্রতীয়মান হয় তাহলে সান্ধ্যকালীন কোর্সটি নিরুৎসাহিত করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো শিক্ষক-কর্মকর্তা সংকট রয়েছে, এ ব্যাপারে আপনার ভাবনা কি?

- কিছুদিন আগেই একটি শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেছি। শিগগিরই শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের জন্য আরেকটি সার্কুলার দেয়া হবে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলেই আশা করি সংকট কেটে যাবে।   
 
শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে আপনার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও কৌশল সম্পর্কে বলুন? 

- এই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অনেকগুলো পরিকল্পনা আছে। কোর্স কারিকুলাম যুগোপযোগী করার জন্য এটি পরিবর্তন, পরিমার্জন ও সংশোধনের কাজে হাত দিয়েছি। পাশাপাশি গবেষণা, প্রশিক্ষণ, গ্রামোন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদির উপরও সমানভাবে গুরুপ্ত দিয়ে কাজ এগিয়ে নিতে আমি বদ্ধপরিকর। এই অর্থ বছরে ৪২৯ কোটি টাকার ডিপিপি জমা দিয়েছি। এটি পাশ হলে, এই টাকার কাজ আমি করে যেতে না পারলেও বিশ্ববিদ্যালয় এর সুবিধাভোগী হবে। অনেকগুলো বড় বড় প্রকল্প ধরা আছে। বাস্তবায়ন হলে হাবিপ্রবির গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম