শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী প্যাকেজের প্রস্তাব

ঢাকা, বুধবার   ১৫ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ৩১ ১৪২৭,   ২৩ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

অনলাইন ক্লাসের সুবিধার্থে

শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী প্যাকেজের প্রস্তাব

সাঈদ চৌধুরী, চুয়েট ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৫৪ ২ জুন ২০২০  

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

করোনাভাইরাসের প্রকোপে অন্যান্য খাতের মতো স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষাব্যবস্থাও। দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন ক্লাসের প্রক্রিয়া শুরু করেছে এরইমধ্যে। বিভিন্ন মহলে কথা উঠেছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট কমিয়ে আনতে অনলাইন ক্লাসের যৌক্তিকতা নিয়ে। তবে কিছু সিমাবদ্ধতাও রয়েছে। এই দুর্যোগকালীন সময়ে অর্থসমস্যায় জর্জরিত কোনো পরিবারকে ইন্টারনেট খরচে চাপ দেয়া মোটেই সমীচীন নয়। সেজন্য মোবাইল ইন্টারনেটের ব্যাপারে ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আলাদাভাবে কোনো সাশ্রয়ী প্যাকেজ চালু করা যায় কিনা এমন প্রস্তাব রেখেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে রোববার চুয়েটের কাউন্সিল কক্ষে উপাচার্যের সভাপতিত্বে সকল ডীন,পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, সেন্টার চেয়ারম্যান, প্রভোস্ট, অফিস প্রধান, শাখা প্রধানের উপস্থিতিতে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এসব তথ্য জানান অনলাইন ক্লাস সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্য ও স্থাপত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. জিএম সাদিকুল ইসলাম। সভায় অনলাইন ক্লাসের উপযুক্ততা এবং সামগ্রিক সম্মুখীন সমস্যার বিষয়ে নানা আলোচনা করা হয়। 

ড. জিএম সাদিকুল ইসলাম জানান, অনলাইন ক্লাসের প্রয়োজনীয় উপকরণ হলো মোবাইল এবং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন। শতকরা ৪০ ভাগ শিক্ষার্থীদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন রয়েছে। বাকি শিক্ষার্থীদের মোবাইল এবং ল্যাপটপ দুটোই রয়েছে। তবে ১ শতাংশ শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ল্যাপটপ এবং অ্যান্ড্রয়েড ফোন দুটোই নেই। এছাড়া জরিপে জানা যায়, ৪০শতাংশ শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস চালিয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারনেট প্যাকেজ কেনার সামর্থ্য নেই। 

তিনি বলেন, অনলাইন জরিপে শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া সন্তোষজনক না। আমরা জরিপের বিস্তারিত ফলাফল এবং শিক্ষার্থীদের সম্মুখীন নানা সমস্যার কথা সভায় তুলে ধরেছি। এই দুর্যোগকালীন সময়ে অর্থসমস্যায় জর্জরিত কোনো পরিবারকে ইন্টারনেট খরচে চাপ দেয়া মোটেই সমীচীন নয়। সেজন্য মোবাইল ইন্টারনেটের ব্যাপারে ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আলাদাভাবে কোনো সাশ্রয়ী প্যাকেজ চালু করা যায় কিনা সে প্রস্তাবনা দিয়েছি। পরিশেষে শিক্ষার্থীদের সীমাবদ্ধতা আমলে নিয়ে স্বল্প পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শীঘ্রই পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন ক্লাস শুরু করতে চায়। পরে যদি শিক্ষার্থীদের সীমাবদ্ধতাগুলো কঠিন হয়ে যায় তখন বিষয়গুলো পুনঃবিবেচনা করা হবে। এছাড়া যখনই সরকার থেকে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে আসার ব্যাপারে ঘোষণা আসবে তখনই চতুর্থ বর্ষ ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে এনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। 

এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, করোনাকালীন মুহূর্তে সরকার ঘোষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধে শিক্ষার্থীরা গত আড়াই মাস ধরে পড়াশোনার বাইরে। সময় নষ্ট না করে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিষয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাসায় বসে কিছুটা হলেও পড়াশোনায় মনোনিবেশ করা উচিত। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসই একমাত্র ভরসা। তাছাড়া অনলাইন জরিপে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের কিছু ব্যক্তিগত ঘাটতির কারণে  অধিকাংশ শিক্ষার্থীই অনলাইনে ক্লাস করতে অনিচ্ছুক। তাছাড়া সরকার থেকে শিক্ষা ঋণের কোনো বাজেট নেই। তবে আশা করছি শীঘ্রই আমরা অনলাইন ক্লাস শুরু করব। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর