শিক্ষার্থীদের করোনাকালীন অবসরের গল্প
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=191595 LIMIT 1

ঢাকা, শনিবার   ০৮ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৪ ১৪২৭,   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

শিক্ষার্থীদের করোনাকালীন অবসরের গল্প

তেহসিন আশরাফ প্রত্যয় ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৮ ২ জুলাই ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রায় তিন মাস ধরে ঘরবন্দী আছে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ব্যতিক্রম নন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীরাও। তবে অবসর সময়কে কাজে লাগাতে শুরু করেছেন অনেক শিক্ষার্থী। খুবিতে অধ্যয়নরত বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে করোনা পরিস্থিতিতে তাদের অবসর সময় কাটানোর গল্প নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশের আয়োজন।

ছালেহা খাতুন রিপ্তা, এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিন 
১৬ ই মার্চ শেষ ক্লাসটি করার পর থেকে টানা তিনমাস গৃহবন্দী। প্রথম দিকে বনের পাখি খাঁচায় আটকা পড়ার মতো অনুভুতি ছিলো। কিছুদিন কাটার পর মনে হলো সারাদিন ক্লাস, ল্যাব, টিউশনসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামের যাতা-কলে পিষ্ট যন্ত্রমানবটি স্বস্থি পেয়েছে। এখন রিপোর্টিং, এডিটিং  গ্রাফিক্স ডিজাইন, অনলাইন ইভেন্ট পরিচালনা, ফেসবুক লাইভ পরিচালনা, ইত্যাদি অনলাইন ভিত্তিক কাজ করে ভালোই সময় কাটছে৷ অনলাইনে নিজের একটা ভালো উপস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছি।
     
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে৷ তবে ক্যাম্পাসে ফিরতে বড্ড ইচ্ছা করে। মাঝে মধ্যেই তপনে, ক্যাফেটেরিয়ায় বন্ধুদের সাথে কাটানো তিন বছরের স্মৃতিচারন করি। অনলাইন ক্লাস করবো কি করবো না, এ নিয়ে বেশ একটা বিতর্ক রয়েছে। অন্যদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অবশ্যই এগিয়ে যেতে হবে, এ কথা সত্য। তেমনি আরো একটি কথা সত্য যে, অনলাইন ক্লাস করতে আমার কোনো আপত্তি না থাকলেও, আমার বন্ধুরা সকলে অনলাইন ক্লাস করার মতো পরিস্থিতিতে নেই। অনলাইন হোক বা অফলাইন, ব্যক্তিগতভাবে আমি চাই আমার সকল সহপাঠীর সাথে মিলেমিশে এক সঙ্গে ক্লাস করবো। এখন সময় সবাই একসঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার। ইনশাল্লাহ, অতি শীঘ্রই মুক্তি মিলবে৷

অনিরুদ্ধ বিশ্বাস, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিন
এবারের মতন দীর্ঘ ছুটি শেষ কবে পেয়েছিলাম ভুলেই গেছি। শখের গীটারটা মেসেই রাখা আসা হয়েছে। যখন বুঝলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার দিনক্ষণ অনিশ্চিত, তখন বাধ্য হয়েই বাড়ির কাছ থেকেই ডিভাইজারের একটা কম দামী গীটার কিনে নেই। একাডেমিক চাপ আর বিভিন্ন কাজের ভিড়ে এই শখটা প্রায় হারিয়েই গিয়েছিল। লকডাউনে আবার নতুন করে গীটারের দক্ষতা ঝালিয়ে আর বাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছি। এছাড়াও, এক্সপেরিমেন্টাল রান্না, কোর্সেরায় বিভিন্ন কোর্স করা, ক্যাম্পাস জার্নালিজম করে কেটে যাচ্ছে সময়।  
তবু গীটার, অনলাইন কোর্স কিংবা বাড়ির ভালো খাওয়া-দাওয়া কিছুই যেন আর এই বন্দী জীবনের বিষাক্ত বাষ্প পরিশোধন করতে পারেছে না। ফিরে আসুক সুদিন, ফিরে যাবো প্রাণের ক্যাম্পাসে। তার আগে এইটুকু কামনা, হে সৃষ্টিকর্তা, একটি প্রিয় মুখও যেন না হারায়।

রেজওয়ান আহমেদ, ইংলিশ ডিসিপ্লিন
করোনার ভয়াল থাবায় থমকে গেছে আমাদের স্বাভাবিক জীবন, ঘরে বসেই দিনাতিপাত করতে হচ্ছে সবাইকে।  ছুটি শুরু হওয়ার প্রথমদিকে খুব আতঙ্কিত ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু যখন দেখলাম এ পরিস্থিতি মেনেই নিতে হচ্ছে, তখন মন্দের ভালো দিক খুজতে শুরু করলাম। বেশকিছুদিন ধরেই বইয়ের সাজেশন রাখতে রাখতে লিস্টটা অনেক লম্বা হয়ে গেছিলো কিন্তু সময়ের অভাবে পড়া হয়ে ওঠেনি। বিগত তিনমাসের লম্বা অবসরে অনেকগুলো বই শেষ করে ফেলেছি। আগে থেকেই কয়েকটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদের বিভিন্ন ইভেন্টের ফান্ড কালেক্ট করছি। নিজের সফট স্কিলগুলো একটু ঝালিয়ে নিচ্ছি। ভর্তিচ্ছুদের সার্বিক সহযোগিতায় নিয়োজিত ‘এডমিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট’ এর সেন্ট্রাল টিমে কাজ করার সুবাদে বেশ ব্যস্ত সময়ই কাটাতে হচ্ছে। অনলাইনে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি তাদের খোঁজখবর রাখছি। পরিবারের সঙ্গে লম্বা সময় কাটাতে পারছি তাদের ছোটোখাটো কাজে সহযোগিতা করছি। আশেপাশের মানুষগুলোকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। সবমিলিয়ে খুব খারাপ সময় যাচ্ছে না।

নাদিম মোর্শেদ, সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিন
বন্ধুবান্ধব যেন হৃদয়ের আরেক স্পন্দনের নাম। জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার ও বটে। করোনার কারণে যখন সমগ্র পৃথিবী স্থবির তখন বাসায় বসে বন্ধু-বান্ধবের স্মৃতিচারণ করায় এখন আমার একান্ত কর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহামারী এই করোনার থাবা মুছে দিয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোলাহল। জীবন হয়ে পড়েছে বেদনাদায়ক। প্রিয় ক্যাম্পাস আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকে। কবে তার বুকে আবার ফিরে যেতে পারবো। প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গে হলের ক্যান্টিনে একসঙ্গে খাবার খাওয়া। একসঙ্গে ক্লাস। পকেটে টাকা না থাকা স্বত্বেও বন্ধুদের মায়া ভরা চোখের চাহনিতে ৭নং ঘাট, রুপসা ব্রিজ ঘুরতে যাওয়া। একসঙ্গে বিকেলে খাজার মাঠে খেলা করা, খেলায় বন্ধুদে সঙ্গে অভিমান করে হলে ফেরা। আবার তখনি তাদের ফোনে শাড়া দিয়ে তপনে চায়ের চুমুক। গিটার, উকুলেলে হাতে পলাশে উদ্যমে গান। মধ্য রাতে গার্ড এর চোখ ফাকি দিয়ে অপরাজিতা, বঙ্গমাতা হলের সামনে থেকে ডাবচুরি, হলের সামনে দুষ্টুমি।ক্লাসের ফাঁকে ক্যাফেটেরিয়াতে আড্ডা,প্রিয় ভলিবল টুর্নামেন্টের। আজ যেন রূপকথার সেই আলাদীনের জিনির মতন। সেই দুরন্ত, চঞ্চল মুখ আজ করোনার ভয়ে গৃহবন্দী। জীর্ণ প্রতিটি প্রহর আমার নিকট মৃয়মান। এই ছুটিতে আমার পরিবারের সাথেই সময় কাটছে। সময় যেন হেমন্তের সাদা মেঘ যেতেই চাই না। অধিকাংশ সময় আমি অনলাইনে আর্টিকেল পড়ি,আর নিজে শিখি কিভাবে গবেষনা করতে হয়। আর ফেসবুক ইউটিউব এবং ঘুম এই তো আমার বিরক্তিকর কোয়ারান্টাইন। আমাদের জীবন থেকে খুব দ্রুতই এই কালমেঘ যেন কেটে যায়।


জান্নাতুল নাঈম, অর্থনীতি ডিসিপ্লিন
প্রায় তিন মাস ধরে গৃহবন্দী। কিছুটা ডিপ্রেসিং সময় যাচ্ছে সবার জন্য কিন্তু আমি এইটা খুব করে বিলিভ করি যে প্রতিটা জিনিসের ভাল-খারাপ উভয় দিক থাকে। এই যে করোনা পরিস্থিতির জন্য চলমান লকডাউন সবাই বাড়িতে বসে আছে এর সব থেকে বড় পজিটিভ দিক আমি মনে করি আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিবারকে সময় দেয়ার সময়টা পাওয়া যাচ্ছে। আমিও এই অ্যাডভান্টেজটা নিচ্ছি। ফ্যামিলির সবার সঙ্গে বেশি-বেশি সময় কাটাচ্ছি, মাকে টুকটাক কাজে হেল্প করছি, মাঝেমধ্যে কিছু রান্নার এক্সপেরিমেন্ট করছি। এর বাইরে ফটোগ্রাফির উপর একটা ঝোঁক অনেক আগে থেকেই আছে।  ইউটিউবে একটা বড় সময় কাটাচ্ছি ফটোগ্রাফি রিলেটেড  ভিডিও দেখে এর পাশাপাশি ছবিও তুলছি। বাকি সময়টা কাটছে গল্পের বই পড়ে, মুভি/সিরিজ দেখে নাহলে বারান্দায় রাখা গাছপালার পরিচর্যা করে। এইসময় সবচেয়ে বেশি  দরকার মানসিক এবং শারিরীক ভাবে সুস্থ থাকা। কারণ আমরা সুস্থ থাকলেই পৃথিবী সুস্থ হবে। সুতরাং চেষ্টা করছি সব ধরনের নেগিটিভিটি এড়িয়ে চলার। আর সবকিছুই আমাদের জীবনে শিক্ষা না হয় অভিজ্ঞতা হয়ে আসে। সুতরাং প্যানিক না হয়ে আমাদের সবার উচিত ধৈর্য ধরে সুদিনের অপেক্ষা করা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর