Alexa শিক্ষাবঞ্চিত গুপ্তমণি চরের শিশুরা

ঢাকা, রোববার   ২০ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৪ ১৪২৬,   ২০ সফর ১৪৪১

Akash

শিক্ষাবঞ্চিত গুপ্তমণি চরের শিশুরা

এবিএম ছাত্তার, গাইবান্ধা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:০২ ৯ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউপির গুপ্তমণি চর। এখানে বসবাস করছে প্রায় তিনশ পরিবার। পানীয় জল, স্যানিটেশন সমস্যা থাকলেও প্রচুর ফসল ফলায় অন্যসব সমস্যা তেমন আমলে নেয়নি এখানকার মানুষ। কিন্তু কোনো বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা।

সাত বছর আগে প্রাকৃতিক পরিবেশের গুপ্তমণি চরটি জেগে উঠতে শুরু করে। ধীরে ধীরে চরটি বিস্তৃত হতে থাকে। বছর তিনেক আগে এখানে বসবাস শুরু করে অন্যান্য চরাঞ্চলের নদী ভাঙন কবলিত চরাঞ্চলগুলোর মানুষ। এরইমধ্যে পার্শ্ববর্তী পাশের উজালডাঙ্গা চরের বিরাট অংশ ব্রহ্মপুত্রে বিলীন হওয়ায় অনেকেই গৃহহারা হয়ে পড়ে। উজালডাঙ্গা চরের গৃহহারাই আশ্রয় নিয়েছে এই চরে।

স্থানীয় কৃষক রহিম উদ্দিন জানান, এই চরের অনেক শিশুই উজালডাঙ্গা চরের কাবিলপুর ও উজালডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আগে থেকেই শিক্ষার্থী। তবে উজালডাঙ্গা ভাঙার সময় স্কুল কমিটির সভাপতিসহ অন্যরা কোচখালী চরে বাড়ি সরিয়ে নেন। সে সময় তারা প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও নিয়ে যান। কিন্তু উজালডাঙ্গার বেশির ভাগ মানুষ এসেছে গুপ্তমণিতে। তাই কথা ছিল স্কুল আসবে গুপ্তমণিতেই। বাস্তবে তা হয়নি।

এ এলাকার শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, এই চরে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। অন্তত একশ শিশু স্কুলে যাওয়ার উপযোগী। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর এসব সন্তান গুপ্তমণি চর থেকে অন্য চরে আসা-যাওয়া করতে নানা সমস্যায় পড়ে। সময়মতো নৌকা পাওয়া যায় না। আবার প্রত্যেক শিক্ষার্থীর যাতায়াতের জন্য ২০ টাকা নৌকা ভাড়া দিতে হয়। চরাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারগুলোর পক্ষে দৈনিক ২০ টাকা নৌকা ভাড়ার জোগান দিতে না পারায় তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চরাঞ্চলের শিশুরা লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

উজালডাঙ্গা থেকে গুপ্তমণি চরে নতুন বসতি স্থাপন করা ফজলুপুর ইউপির ২নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য শামসুল হক জানান, এখানকার বাসিন্দাদের পানীয় জল ও স্যানিটারি সমস্যা সবচেয়ে বেশি। চরবাসী ব্রহ্মপুত্রের পানি দিয়েই দৈনন্দিন কাজকর্ম সারেন। বিগত বন্যায় অনেক জমিতে বালুর স্তর পড়ে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখানে সরকারিভাবে টিউবওয়েল স্থাপন এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর