Alexa শিক্ষকতায় সরকারি-বেসরকারি ফারাক

ঢাকা, সোমবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৪ ১৪২৬,   ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

শিক্ষকতায় সরকারি-বেসরকারি ফারাক

সাইফুল ইসলাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২৮ ২ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৮:৫৬ ২ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতে শিক্ষাদান পেশায় নিয়োজিত শিক্ষকদের বেতন ও সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তিতে ব্যাপক ফারাক রয়েছে। সমান যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সরকারি শিক্ষকরা যতোটা বেতন-ভাতা ও সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন সে তুলনায় বেসরকারি শিক্ষকরা পান সামান্যই।

বিষয়টি নিয়ে জানতে রাজধানীর বেশ কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা হয় ডেইলি বাংলাদেশের।

তাহমিদুল আফসার নামের এক শিক্ষক কর্মরত আছেন বেসরকারি বিদ্যালয়ে। স্কুল থেকে ১৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন পান তিনি। বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় না। ঢাকায় সামান্য বেতনে জীবনধারণ তার জন্য অনেক কঠিন।

শিক্ষক তাহমিদ বলেন, পড়াশোনা করেছি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। রেজাল্টও ভালো। কিন্তু প্রতিযোগিতার বাজারে টিকতে না পেরে স্কুলে পড়াতে এসেছি। আমার যোগ্যতা অনুযায়ী বেতন অনেক কম, কিন্তু একই যোগ্যতা নিয়ে আমার বন্ধুরা অনেক বেশি আয় করছেন। তারা সংসারও শুরু করে দিয়েছেন, কিন্তু আমার জন্য জীবনধারণ করাটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি জানান, ঢাকায় বাসা ভাড়া ও জীবন ধারণের জন্য খরচ বাড়ছে। স্কুলে পড়িয়ে তিনি যে টাকা আয় করেন তাতে রাজধানীতে টেকা মুশকিল। তারপরও থাকতে হচ্ছে, কারণ এর চেয়ে বেশি আয়ের কোনো চাকরি তার হাতে নেই।

কথা হয় হাজারীবাগ এলাকায় শিক্ষক রশিদ সরকারের সঙ্গে, এখানেই একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষা দান পেশায় যুক্ত আছেন। গণিতের এই শিক্ষক বলেন, আমাদের স্কুলটা এমপিও ভুক্ত হওয়ায় অন্যান্য বেসরকারি শিক্ষকদের তুলনায় কিছুটা বেশি সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকি। কিন্তু আসল সত্যটা হলো, যে টাকা বেতন পাই, সে টাকায় ঢাকায় তিন রুমের একটি বাসাও ভাড়া করা যায় না। দায়িত্বশীলরা বেসরকারি শিক্ষকদেরকে কেন এমন অসুবিধায় ফেলে রেখেছেন জানি না। এ অবস্থার উত্তরণ হওয়া জরুরি। 

বর্তমান দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ৯৮ শতাংশ শিক্ষক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। মাত্র ২ শতাংশ শিক্ষক চাকরি করছেন সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। তবে বেতন-ভাতা প্রাপ্তিতে সহকারী শিক্ষকরা বেসরকারিদের তুলনায় যোজন যোজন এগিয়ে রয়েছেন। 

শিক্ষা পেশায় সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের আয়ের পার্থক্য শিক্ষার জন্য অদূর ভবিষ্যতে কোনো ভালো ফল বয়ে আনবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, একই পেশায় থাকা মানুষের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে যদি বিস্তর পার্থক্য থাকে তাহলে বুঝতে হবে ওই পেশার নীতিনির্ধারকরা সুদূরপ্রসারী চিন্তা করে না। শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে হলে শিক্ষাদানের সঙ্গে যারা যুক্ত আছেন তাদের জীবনমান সমান ভাবে উন্নত করতে হবে। 

আরেফিন সিদ্দিক বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে সফল করতে হলে প্রপার শিক্ষা লাগবে। এজন্য প্রথম যেটি করতে হবে সেটা হলো শিক্ষার মান উন্নয়ন। শিক্ষার মান উন্নয়ন মানে সার্বিক উন্নয়ন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার উন্নয়ন। যেটা কম বেতন দিয়ে বা নিম্নমানের ক্লাসরুম দিয়ে করা সম্ভব নয়।

দেশের সরকারি শিক্ষকদের নিয়োগ দেয় সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। বেসরকারি শিক্ষকরাও কেন্দ্রীয়ভাবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ বা এনটিআরসিএ এর মাধ্যমে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। দুই ধরনের শিক্ষকদেরকেই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এ পেশায় প্রবেশ করতে হয়। শিক্ষার্থীদেরকে পাঠদানও করতে হয় একই শিক্ষাক্রমে। সবকিছু একই হলেও তাদের বেতন-ভাতা ও সুবিধায় কেন এত পার্থক্য?

এ প্রশ্নে শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষকদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে সব সিদ্ধান্ত নেয়।  শিক্ষকদের আয়ের পার্থক্য অনেকদিন থেকেই ছিল, আমরা সেটি কমিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। অনেক ক্ষেত্রে সফলও হচ্ছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিও ভুক্ত করছি। তবে সময় লাগলেও বিষয়টির সমাধান হবে। জাতীয় শিক্ষানীতিতেও (২০১০) শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্য ক্রমশ কমিয়ে আনার কথা বলা আছে। 

উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় আছে ৩৩৫টি, অপরদিকে বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে ১৬ হাজার ১০৯টি। সরকারি ২৭৪ কলেজের সঙ্গে বেসরকারি কলেজের সংখ্যা ২ হাজার ২৬২টি। সরকারি আলিয়া মাদরাসা ৪টি, আর বেসরকারি মাদরাসা সাত হাজার ৫৯৮টি। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৪২টি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১০৪টি। 

সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী, পুরনো বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাড়া, বার্ষিক পাঁচ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, স্কুল ভিত্তিক উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন। তাদের পদোন্নতিও হয় নিয়মিত। এছাড়া চাকরি থেকে অবসরের পর পূর্ণ পেনশন সুবিধার পাশাপাশি মাসিক ভাতাও পেয়ে থাকেন সরকারি শিক্ষকরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ