Exim Bank
ঢাকা, বুধবার ২০ জুন, ২০১৮
Advertisement

‘শিক্ষাচোরের বোঝা বইবে না ফরিদপুর’

 হারুন আনসারী, ফরিদপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৪৭, ১৩ জুন ২০১৮

আপডেট: ১৯:৫২, ১৩ জুন ২০১৮

৯১০৪ বার পঠিত

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

‘যিনি শিক্ষা নিয়ে দুর্নীতি করতে পারেন তার শিক্ষক হওয়ার কোনো যোগ্যতা নেই। তার থেকে শিক্ষার্থীরা চুরিই শিখবে। আর এমন চোর শিক্ষকের বোঝা ফরিদপুর বইবে না। তাকে ফরিদপুর থেকে সরাতে হবে।’

আড়াই লাখ টাকায় জিপিএ-৫ বিক্রি করা চক্রের প্রধান অদ্বৈত কুমার রায়কে ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে বদলির প্রতিবাদ জানিয়ে কথাগুলো বলছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক বেলাল চৌধুরী।

সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অদ্বৈত কুমার রায়ের শিক্ষা নিয়ে দুর্নীতির চিত্র প্রকাশ পায়। এরপর তাকে রাজেন্দ্র কলেজে বদলি করা হয়। গত সোমবার তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বদলী আদেশ নিয়ে কলেজটির ব্যবস্থাপনা বিভাগে যোগ দিয়েছেন। আর এ খবর ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু ফরিদপুরে।

অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ ফরিদপুরের সাধারণ জনগণও এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঝড় বইছে। ফরিদপুরের শিক্ষার মান যেন বিনষ্ট না হয় সেজন্য অবিলম্বে তাকে রাজেন্দ্র কলেজ থেকে বদলির দাবি জানান সবাই।

রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন জানান, কলেজের শিক্ষার্থী ও ফরিদপুরের সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তবে এ বিষয়ে তার কোনো হাত নেই। সিদ্ধান্তটা মন্ত্রণালয়ের। বিষয়টি তিনি ডিজি মহোদয়কে জানিয়েছেন।

জানা গেছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে ঢাকার বাইরে বদলির আদেশ হয়। এর দীর্ঘদিন পর গত সোমবার তিনি রাজেন্দ্র কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদে যোগ দেন।

ফরিদপুরে এসেই তিনি সরকারি দলের প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে।

ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি আহম্মদ ফিরোজ রাজেন্দ্র কলেজে অদ্বৈত কুমার রায়ের বদলির খবরে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এমন একজন দুর্নীতিবাজকে চাকরি থেকে কেনো বরখাস্ত করা হয়নি সেটিই বুঝতে পারছি না। তাকে কোনোভাবেই রাজেন্দ্র কলেজে রাখা যাবে না। এতে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মক বিঘ্নিত হবে।

২০১৩ সালের ২৩ জুন শিক্ষা অধিদফতর থেকে ঢাকা বোর্ডের উপ-কলেজ পরিদর্শক পদে প্রেষণে যোগ দেন অদ্বৈত কুমার। ঝিনাইদহ জেলা শহরের কেসি কলেজ পাড়ার বাসিন্দা অদ্বৈত কুমার রায় এলাকায় পরিতোষ নামে পরিচিত।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর

সর্বাধিক পঠিত