Alexa শিক্ষক সংকটে শেবামেক

ঢাকা, বুধবার   ২০ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৫ ১৪২৬,   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

শিক্ষক সংকটে শেবামেক

শামীম আহমেদ, বরিশাল  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩৭ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৯:৫৯ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) সেবাখাতে পাঁচ দশক পার করেছে। এখন কলেজে ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা পাঠগ্রহণ করছেন। এই সফলতার মধ্যে কলেজের সবচেয়ে পিছু টান হচ্ছে শিক্ষক সংকট। তাই ফেরেনসিক বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে নেফরোলজি বিষয়ে পড়ানো হচ্ছে। এতে বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষক থেকে জ্ঞান অর্জন করতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। 

১৯৬৪ সালে মেডিকেল কলেজটি স্থাপনের পর ১৯৬৮ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু হয়। ওই সময় কলেজের পাঁচটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক পাঠদানের জন্য অভিজ্ঞ শিক্ষকদের প্রাধান্য দিয়ে অর্গানোগ্রাম তৈরি হয়। কিন্তু মেডিকেল কলেজের শুরু থেকে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের রুটিন অনুযায়ী পাঠদান দেয়া সম্ভব হয়নি। 

মেডিকেল কলেজের তথ্যানুযায়ী, শেবামেকের ১০টি বিভাগে সাতটি ক্যাটাগরিতে ২০২ শিক্ষকের পদ রয়েছে।  তবে এর বিপরীতে হাসপাতালে ১০৪ শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। ফলে মঞ্জুরিকৃত পদের অনুকূলে ৪৮ দশমিক ৫১ ভাগ পদে শিক্ষক সংকট রয়েছে। যার মধ্যে অধ্যাপকের ৩০টি পদের অনুকূলে কর্মরত রয়েছেন সাতজন, সহযোগী অধ্যাপকের ৪৬ পদের অনুকূলে রয়েছেন ১৬ জন, সহকারী অধ্যাপকের ৬৯ পদের অনুকূলে রয়েছেন ৩৯ জন, প্রভাষক ৪৭ পদের অনুকূলে রয়েছেন ৩৪ জন, মেডিক্যাল অফিসার ছয় পদের অনুকূলে রয়েছেন চারজন। 

এমনকি ডেন্টাল অনুষদের ১০টি পদের মধ্যে মাত্র তিনটি পদের শিক্ষক রয়েছে। তবে কিউরেটরের দুটি ও প্যাথলজিস্টের দুটি পদে সমান সংখ্যক জনবল রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা শিক্ষক সংকটের মধ্যে শেবামেকের ৪৪তম ব্যাচ পর্যন্ত আট হাজার ৯৫৬ শিক্ষার্থী এমবিবিএস পাস করেছে। 

৫০তম ব্যাচ পর্যন্ত এক হাজার ২০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। শিক্ষক সংকট নিয়ে বিভিন্ন সময় কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। প্রফেসর পদ মর্যাদার শিক্ষক দ্বারা মেডিকেল কলেজের পাঠদান দেয়ার নিয়ম থাকলেও সেখানে লেকচারার দিয়ে পাঠদানে বাধ্য হচ্ছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। এতে মানসম্পন্ন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।  

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ মাকসেমুল হক জানান, কলেজে ফরেনসিক, কমিউনিটি মেডিসিন, ফিজিওলজি, অ্যানাটমি, নিউরোলজিতে শিক্ষক সংকট প্রকট। আর নেফরোলজিতে তো কোনো শিক্ষকই নেই। 

তিনি বলেন, আমরা শিক্ষকের চাহিদার কথা জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে কাগজ পাঠিয়েছি। এখন শুধু যোগাযোগ করতে পারি। তবে মন্ত্রণালয়ই পারে, আমাদের কলেজের জন্য শিক্ষক নিয়োগ দিতে। 

সৈয়দ মাকসেমুল হক বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে নানা সংকট দেখা দিয়েছে। তবে পাঠাদানে বিঘ্নতা রোধে অন্য শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ