শাহজালালে সেদিন ভয়াবহ সংঘর্ষ থেকে রক্ষা পায় দুটি বিমান

ঢাকা, শুক্রবার   ১০ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৭ ১৪২৬,   ১৬ শা'বান ১৪৪১

Akash

শাহজালালে সেদিন ভয়াবহ সংঘর্ষ থেকে রক্ষা পায় দুটি বিমান

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৪০ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভয়াবহ ও শ্বাসরুদ্ধকর একটি ঘটনাটি ঘটেছিল। একটুর জন্য দুই বিমান সংঘর্ষ থেকে রক্ষা পেয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, বিমানবন্দরের রানওয়েতে যখন একটি উড়োজাহাজ অবতরণ করছিল ঠিক একই সময়ে ওই রানওয়েতে অপর একটি উড়োজাহাজ টেকঅফ (উড্ডয়ন) করছিল। ওই সময়ে আকাশে থাকা পাইলট তার উড়োজাহাজ ল্যান্ড না করেই অন্যদিকে সরে গিয়ে উড়ে যাওয়ার জন্য বিমানটিকে জায়গা করে দেয়। 

কন্ট্রোল টাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী বিমানের পাইলটকে ‘উড্ডয়ন হোল্ড (থামা)’ করতে বলা হয়েছিল। কারণ ওই সময়ে ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজকে অবতরণের জন্য অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু বিমানের ফ্লাইটটি টাওয়ারের তথ্য না মেনে উড্ডয়ন শুরু করে। অবতরণের ঠিক আগমুহূর্তে আকাশে থাকা উড়োজাহাজের পাইলটের বুদ্ধিমত্তায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় ওই দুই এয়ারক্রাফট। এতে তিনশর বেশি যাত্রীও রক্ষা পায়। 

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, মাত্র ৫০ সেকেন্ডের ব্যবধানেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হতো শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে। জানা গেছে, আকাশে থাকা উড়োজাহাজটি রানওয়ে থেকে তখন মাত্র ৮-৯শ’ ফুট উপরে ছিল।

কুয়াশায় আকাশ থেকে রানওয়েও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। কুয়াশা কাটিয়ে যখন ল্যান্ড করার জন্য উড়োজাহাজটি রানওয়ের ঠিক কাছাকাছি আসে তখনই দেখা যায় রানওয়ের বিপরীত থেকে বাংলাদেশ বিমানের অপর একটি উড়োজাহাজ টেকঅফের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কন্ট্রোল টাওয়ার কিংবা বিমানের সংশ্লিষ্ট কোনো পাইলটের বিরুদ্ধে। কার ভুলে এই দুর্ঘটনাটি ঘটতে যাচ্ছিল নয়দিন পেড়িয়ে গেলেও তা নির্ধারণ হয়নি।

সিভিল এভিয়েশনের মেম্বার ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশন (এফএসআর) চৌধুরী জিয়াউল কবির বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। একজন সিনিয়র পাইলট, একজন কন্ট্রোলার এবং একজন আইনজ্ঞকে দিয়ে এই কমিটি গঠন করা হবে।

প্রাথমিক তদন্ত হয়ে গেছে। কন্ট্রোল টাওয়ারের আলোচনা ও দুই এয়ারক্রাফটের ব্ল্যাকবক্সের আলোচনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। দুই এয়ারক্রাফটের পাইলট ও ওই সময় কন্ট্রোল টাওয়ারে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তারপর জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস