শাহজালালে ভুয়া কর্নেলের হিম্মতে ফ্লাইটে ১০ মিনিট বিলম্ব, অতঃপর...

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২০,   আশ্বিন ১৭ ১৪২৭,   ১৪ সফর ১৪৪২

শাহজালালে ভুয়া কর্নেলের হিম্মতে ফ্লাইটে ১০ মিনিট বিলম্ব, অতঃপর...

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:২৮ ১২ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ২১:৩০ ১২ আগস্ট ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রিজেন্টের সাহেদের মতো আরো এক প্রতারক ধরা পড়েছে শাহজালাল বিমানবন্দরে। এই প্রতারকের নাম মোশাররফ হোসেন। সে নিজেকে কর্নেল ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন বড় কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে একটি ফ্লাইট দশ মিনিট বিলম্ব করানোর মতো হিম্মত দেখিয়েছে। 

শেষ পর্যন্ত এপিবিএন এর জিজ্ঞাসাবাদে স্বরূপ উন্মোচন হওয়ায় তাকে ধরা পড়তে হয়েছে। এখন সে রয়েছে জেলহাজতে। 

মঙ্গলবার তাকে পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে হাজির করার পর তা মঞ্জুর না করে সরাসরি জেলহাজতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। বিমানবন্দর থানার ওসি (তদন্ত) কাজী কায়কোবাদ বলেন, মোশাররফও সাহেদের মতোই প্রতারক।

এ বিষয়ে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসাইন শিমুল জানিয়েছেন, সোমবার সকালে মোশাররফ হোসেন ঢাকা থেকে নভোএয়ারের একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন। চেক ইন কাউন্টারে নিজেকে একজন কর্নেল পরিচয় দিয়ে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে গিয়ে বসেন। সেখান থেকে তিনি নভোর ফ্লাইটে গিয়ে বসেন। সকাল সাড়ে ৭টার আগে সব যাত্রী নিজ নিজ আসনে বসার পর প্লেনের ডোর ক্লোজড করে পাইলট ঘোষণা দেন টেক অফের। এমন সময় নিজের আসন থেকে উঠে এসে কেবিন ক্রু তানিয়ার কাছে মোশাররফ হোসেন পরিচয় দেন তিনি একজন কর্নেল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্বে রয়েছেন। তার পকেটে থাকা মোবাইল ফোনটি ভিআইপি লাউঞ্জে ফেলে এসেছেন। সেটা আনতে যেতে হবে। এ সময় তানিয়া তাকে সরি বলার পর তিনি হুমকি দেন, ফ্লাইট কয়েক মিনিট বিলম্ব হলেও সেটা করতে হবে, ফোন ছাড়া যাওয়া যাবে না। পরিস্থিতি বিপজ্জনক দেখে পাইলট বাধ্য হন ফ্লাইট দশ মিনিট বিলম্ব করতে। এ সময় মোশাররফ প্লেন থেকে নেমে আবার ভিআইপি লাউঞ্জে গিয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে আসেন। এরপর ওই ফ্লাইট দশ মিনিট বিলম্বে চট্টগ্রামের পথে রওনা হয়। 

আটক প্রতারক মোশাররফ হোসেন

আলমগীর হোসাইন শিমুল জানান, ফ্লাইট বিলম্বের খবর নভোর শীর্ষ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছলে তাদেরও সন্দেহ দেখা দেয়। এ অবস্থায় তার সম্পর্কে আরো ভালো করে খোঁজখবর নেয়ার পর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে তাকে আবারো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। 

তখন ধরা পড়ে তিনি কর্নেল নন বলে স্বীকার করেন। এক সময় সেনাবাহিনীতে হাবিলদার পদে চাকরি করতেন। ১৯৯৫ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে ডিওএইচএসে এক সেনা কর্মকর্তার বাসার কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত। এমন পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে তুলে দেয়া হয় বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের কাছে। 

এ সময় তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের ফুলবাড়ি থানায় ফোন করা হলে সেখান থেকে বলা হয়, তার বাড়ি কড়াই গ্রামে, তার নামে প্রতারণার একাধিক মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। 

এ বিষয়ে এপিবিএন এসআই অসীম কুমার মোদক বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়েরের পর তাকে সোপর্দ করা হয়। 

গতকাল দুপুরে তাকে ঢাকার একটি আদালতে ৫দিনের রিমান্ড চেয়ে হাজির করা হলে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/এসআই