Alexa শারদীয় দুর্গাপূজা: মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা আজ 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২২ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৬ ১৪২৬,   ২২ সফর ১৪৪১

Akash

শারদীয় দুর্গাপূজা: মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা আজ 

ধর্ম ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:০৩ ৬ অক্টোবর ২০১৯  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা আজ। 

নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন, ষোলো উপাদান আর ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদানের মধ্য দিয়ে শনিবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী। 

চণ্ডি পাঠ, ঢাকের বোল, মন্ত্র, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনি, অঞ্জলী, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ সব মিলিয়ে প্রতিটি মণ্ডপেই ছিল উৎসবের সমারোহ। আজ রবিবার মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা।

দেবী দুর্গার আরেক নাম কুমারী। সব নারীর মধ্যে মাতৃভাব উপলব্ধি করার জন্যই মহাঅষ্টমীতে কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়। আজ সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দুর্গাদেবীর মহাঅষ্টমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা হয়েছে। আছে সন্ধিপূজাও। রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনে আয়োজন করা হয়েছে কুমারী পূজা। 

শাস্ত্র অনুসারে সাধারণত এক থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা কুমারীকে পূজা করা হয়। ব্রাহ্মণ অবিবাহিত কন্যা অথবা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও পূজার বিধান রয়েছে। বয়সভেদে কুমারীর নাম হয় ভিন্ন। শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছেন, শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর প্রকাশ। কুমারী পূজার মাধ্যমে নারী জাতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দ কলকাতার বেলুড় মাঠে ৯ কুমারীকে পূজা করেন। তখন থেকে প্রতিবছর দুর্গোৎসবের অষ্টমী তিথিতে মহা ধুমধামে কুমারী পূজার প্রথা চলে আসছে।

বনানীর কাকলি মোড় থেকে গুলশান দুই নম্বর মোড় পর্যন্ত সড়কজুড়ে আলোজসজ্জা। সন্ধ্যা নামতেই ঝলমলিয়ে ওঠে কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ। বনানী মাঠে মহাসমারোহে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসব। বিশাল প্যান্ডেলে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। উত্তর পাশে মণ্ডপে প্রতিমা বসিয়ে সকাল-সন্ধ্যা পূজা ও আরতি চলছে। পশ্চিম পাশের মঞ্চে প্রতিদিন রাতে থাকছে আলোচনাসভা ও সংগীতানুষ্ঠান। ডিজিটাল ডিসপ্লেও বসানো হয়েছে মাঠে। চারপাশে রয়েছে বই ও খাবারের স্টল।

গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই দুর্গোৎসবের এবার দ্বাদশ বর্ষপূর্তি হলো। এ উপলক্ষে সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১২ গুণী ব্যক্তিকে শারদীয় সম্প্রীতি সম্মাননা দেয়া হয়েছে। তারা হলেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত (মরণোত্তর), শিল্পী সুবীর নন্দী (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার চিত্ত রঞ্জন দত্ত (মরণোত্তর), ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, লেখক শিক্ষাবিদ মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি জিয়াউদ্দিন তারিক আলী, চিকিৎসক ডা. সামন্ত লাল সেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল, চিত্র শিল্পী হাসেম খান ও সাংবাদিক আবেদ খান।

গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা উদ্যাপন ফাউন্ডেশনের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শুক্রবার রাতে এই গুণীজনদের হাতে সম্মাননার ক্রেস্ট তুলে দেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

রাজধানীর অন্যান্য মন্দির ও মণ্ডপেও শনিবার ছিল ভক্তদের ভিড়। ধানমণ্ডির কলাবাগান মাঠ, উত্তরা মাঠ, বাসাবো বালুর মাঠ, ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মাঠ, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, পুরনো ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, রামকৃষ্ণ মিশন, রমনা কালীমন্দির, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির ও জগন্নাথ হলের পূজায় ছিল ভক্ত-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। মন্দির ও মণ্ডপগুলোতে গভীর রাত পর্যন্ত চলে ভক্তদের আনাগোনা।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের উদ্যোগে গতকাল সকালে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান স্বামীবাগ লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম পরিদর্শন করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে