শাকিব ইজ টু গুড

ঢাকা, রোববার   ৩১ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৮ ১৪২৭,   ০৮ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

‘শাকিব ইজ টু গুড’

 প্রকাশিত: ১১:২২ ২৪ মে ২০১৮   আপডেট: ১১:৩৬ ২৫ মে ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বাংলা সিনেমার একটি সময় গল্প, গান এবং নির্মাণ শৈলিতে ওপাড় বাংলার থেকেও অনেক দূর এগিয়ে ছিল। দুম করে সিনেমা শিল্পটিতে ধ্বস নেমে আসে। এক্ষেত্রে দায়ী অনেকগুলো টার্ম। অশ্লীলতার পাশাপাশি একই গল্পের সিনেমা তৈরি অরুচির সৃষ্টি করে দর্শকদের ভেতরে।

যে দর্শক একসময় হুমড়ি খেয়ে পড়তো সিনেমা হলে সেই দর্শককে আর সহজে টানা যায়নি হলমুখে। তরুণ প্রজন্মের কাছে বাংলা সিনেমা মানেই নাক সিটকানো ভাব এসে পড়েছিল। যার কারনে তরুণ প্রজন্মের মধ্য থেকে সিনেমা পরিচালনা করাকে পেশা হিসেবে সম্মানের মধ্যে ধরতেই চায়নি। এটার ফল ভোগ করেছে এদেশের সিনেমা জগত। নতুনরা যদি এতে আকর্ষিত না হয় তবে পরিবর্তন সম্ভব নয়।

rased raha

সিনেমা সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যক্তিই বলে থাকেন, বাংলাদেশের সিনেমাতে ভারতের মতো লগ্নি নেই। তাই আমাদের পক্ষে নাকি ভালো সিনেমা করা সম্ভব হয় না। এটা বোধহয় আর বলার খুব একটা সুযোগ নেই। ‘মনপুড়া’ বা ‘আয়নাবাজির’ মতো সিনেমাগুলো খুব বেশি বাজেটের সিনেমা না হলেও কি পরিমাণ দর্শক টানতে সক্ষম হয়েছে তা তো চাক্ষুষ প্রমাণ।

অতএব এটা প্রমাণ হল যে, সিনেমা হিট করার জন্য বা দর্শক টানার জন্য সবসময় বিগ বাজেট যেমন প্রয়োজন হয় না তেমনি অশ্লীলতারও প্রয়োজন হয় না। দর্শক সবসময় ভালো একটি গল্প শুনতে চায়। ‘মনপুড়া’ বা ‘আয়নাবাজি’র মতো দুটি সিনেমা বাংলা সিনেমাকে জাগিয়ে তোলার জন্য একটা শুরু হতে পারে। কারণ, এ দুটো সিনেমা তরুণ প্রজন্মকে টানতে সক্ষম হয়েছে।

nolok

সিনেমা জগতকে জাগাতে হলে তরুণ প্রজন্ম থেকে সাহসী পরিচালক আসাটা খুব জরুরী ছিল। এ সময়ে তেমনই একজন চিত্র পরিচালক রাশেদ রাহা। বর্তমানে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন ‘নোলক’ সিনেমা নিয়ে। কথা বলছিলাম তার সঙ্গে। জিজ্ঞাসা ছিল ‘নোলক’, শাকিব খান এবং বাংলা সিনেমার হাল হাকিকত নিয়ে।

ডেইলি বাংলাদেশ: এটাই আপনার প্রথম সিনেমা। একেবারে তরুণ এবং তার উপর শাকিব খানই প্রথম সিনেমার নায়ক। অনুভূতি কেমন?

রাশেদ রাহা: অসাধারণ অনুভূতি। খান সাহেবের সঙ্গে প্রথম সিনেমা করছি অবশ্যই ভাগ্যবান। উনি দারুণ সহযোগিতাপূর্ণ একজন মানুষ।

ডেইলি বাংলাদেশ: তরুণ পরিচালক হিসেবে শাকিব খানের মতো এতো বড় সুপার স্টারকে সামলানোর বিষয়টি কতোটা কঠিন ছিল?

রাশেদ রাহা: একেবারেই কঠিন ছিল না। শাকিব ভাই কাজের ব্যাপারে ঠিক কতোটা সিরিয়াজ এটা আমরা যারা কাজ করছি তারা বুঝতে পেরেছি। দেখুন উনি কিন্তু ঠিকই পশ্চিম বঙ্গে সম্মান আদায় করেছেন। উনি যদি কাজের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সিরিয়াজ না হতেন তবে এই সম্মান আদায় করতে পারতেন না।

ডেইলি বাংলাদেশ: শাকিব খানের এই সিনেমায় ঠিক কতোটা দিতে পারলেন? কতোটা সন্তুষ্ট?

রাশেদ রাহা: শাকিব খান ইজ ঠু গুড। উনি অভিনেতা হিসেবে বলুন আর সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবের কথা বলুন অসাধারণ একজন ব্যক্তিত্ব।

ডেইলি বাংলাদেশ: একটু ভিন্ন প্রশ্নে যাই। শাকিব খান সম্পর্কিত সবচেয়ে বড় সমালোচনা হল, তিনি তার লুকিং এর বিষয়ে সতর্ক নন। টালিউড উনাকে প্রথম হিরো লুকিং দিতে পেরেছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কথা হয়েছে। আর সেই লুকই বাংলাদেশের পরিচালকরা ব্যবহার করছে। শাকিব খানকে নতুন কোনো লুকে এদেশের পরিচালকরা দিতে পারেনি।

nolok
রাশেদ রাহা: দেখুন উনি যদি পশ্চিম বাংলায় সিনেমা নাও করতেন তবু আমি তাকে নতুন লুক দিতাম। নোলকে তাকে নতুন লুকেই দেখা যাবে। একজন পরিচালকের উপর নির্ভর করে তিনি অভিনেতাকে কিভাবে উপস্থাপন করবেন। এখানে ইউটিলাইজের বিষয়টা গুরুত্ববহন করে।

ডেইলি বাংলাদেশ: কিন্তু এক্ষেত্রে শাকিব খানের কি দায় নেই?

রাশেদ রাহা: দেখুন একজন পরিচালক তাকে যে লুক দেবেন তিনি সে লুকই করবেন। এটা পরিচালকদের ব্যাপার। হয়তো আমাদের এখানে সেভাবে গবেষণা হয়নি। এখন নতুনরা কিন্তু গবেষণা করছে। তাই পরিবর্তন আসছে।

ডেইলি বাংলাদেশ: নোলক কি ধরনের সিনেমা?

রাশেদ রাহা: একেবারেই পারিবারিক গল্প নির্ভর একটি বিনোদনমূলক সিনেমা। দর্শককে পুরোপুরিভাবে বিনোদন দেয়ার জন্যই এটা বানানো।

ডেইলি বাংলাদেশ: সিনেমার পুরো শুটিং কি শেষ?

রাশেদ রাহা: আর ২০ ভাগের মতো কাজ বাকি আছে।

ডেইলি বাংলাদেশ: এটা কি যৌথ প্রযোজিত?

রাশেদ রাহা: নাহ। সাফটা চুক্তির অধীনে অনেক দেশেই মুক্তি পাবে।

nolok

ডেইলি বাংলাদেশ: পুরো শুটিং কি ভারতেই নাকি বাংলাদেশেও হয়েছে?

রাশেদ রাহা: হায়দ্রারাবাদেই পুরোটা। একটা সেট রেডি হয়ে গেলে খরচের ব্যাপার আছে। এ কারণে পুরোটা ওখানেই।

ডেইলি বাংলাদেশ: এখনো গান কতদূর হয়েছে?

রাশেদ রাহা: গানের কাজ এখনো ঠিক সেভাবে হয়নি। কাজগুলো এখনো বেশ বাকি আছে। কিছু অংশ হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ: ছবিটি কবে মুক্তি পাচ্ছে?

রাশেদ রাহা: আশা করছি কুরবানি ঈদেই পারবো।

ডেইলি বাংলাদেশ: এখনো বাংলাদেশ মৌলিক গল্প নির্ভর সিনেমা করছে না সেভাবে। দর্শক অনেক সময়ই
বিরক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে মৌলিক গল্প নির্ভর সিনেমা দর্শক সাদরে গ্রহণ করছে। আমরা তার পরেও কেন ওদিকে যাচ্ছি না?
রাশেদ রাহা: দেখুন বলিউড কিন্তু হলিউডের চেয়ে ২০ বছর পিছিয়ে আর আমরা ওদের চেয়ে অন্তত ৩০ বছর পিছিয়ে। বলিউড এখনো হলিউড থেকে গল্প নিচ্ছে। যদিও তাদের প্রচুর লগ্নি। আমরা এই জায়গায় এখনো পিছিয়ে আছি। এ কারণে হচ্ছে। আমাদের ওই পর্যাযায়ে যেতে কিছু সময় লাগবে। আরো নতুন পরিচালক আসবে এবং যে উন্নতির ধারা চলছে এটা ঠিক থাকলে দেখবেন আমরাও সে পর্যাযায়ে যাবো।

ডেইলি বাংলাদেশ: এক সময় কিন্তু আমরা ওদের থেকে এতো পিছিয়ে ছিলাম না...

রাশেদ রাহা: ছিলাম না কিন্তু গেছি। যে কারনেই হোক একটা সংকট গেছে আমাদের উপর। এটা থেকে উঠে আসতে হলে কিন্তু একটা বিশাল সংখ্যক তরুণ প্রজন্মকে উঠে আসতে হবে। এটা রাতারাতি হবে না। একটা নতুন ছেলে এসে দুম করে মৌলিক গল্পের সিনেমা বানাতে পারবে না। তাকে সময় দিতে হবে, শিখতে দিতে হবে, উতসাহ দিতে হবে।

nolok

এরপর একসময় এটা হয়ে যাবে। আমি কখনোই এই বয়সে সিনেমা করার সাহস করতে পারতাম না যদি না অমিতাভ ভাইরা (অমিতাভ রেজা) সাহস না যোগাতেন। উনারা আমাদের সাহস দিচ্ছেন বলেই আমি বা আমার মতো অনেকেই বাংলা সিনেমা বানানোর সাহসটা করতে পারছি। আমাদের এখনো যেসব ক্ষেত্রে ল্যাকিংস আছে কিন্তু আমাদের অনেক বিষয়ই আছে বাইরের চেয়ে এগিয়ে।

ডেইলি বাংলাদেশ: শাকিব খান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফিল্ম তারকা। তিনি কতোটা সহযোগিতা করছেন? তার কিছুটা দায়িত্ব তো রয়েছে।

রাশেদ রাহা: দেখুন যারা শাকিব ভাইকে কাছ থেকে জানেন তারা জানেন তিনি কতটা আন্তরিক বাংলা সিনেমা এগিয়ে নেবার ক্ষেত্রে। তিনি কিন্তু বলেছেন, তিনি বছরে দুটো আন্তর্জাতিকমানের সিনেমা করবেন। তিনি কিন্তু এটা মজা করেননি। তিনি সত্যিই করবেন। আপনারা সামনেই দেখতে পাবেন খান সাহেবকে আরো ভিন্নভাবে। এছাড়া তিনি নতুন পরিচালকদের সঙ্গে সিনেমা করছেন। এটা নতুনদের জন্য ভালো একটি দিক।

ডেইলি বাংলাদেশ: নোলক নিয়ে কতোটা আত্মবিশ্বাসী?
রাশেদ রাহা: ভীষণ। দর্শক পুরো মাত্রায় বিনোদন পাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ: নোলক ও আপনার জন্য শুভকামনা।
রাশেদ রাহা: আপনাকেও শুভকামনা।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস