শরীরের ওজনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি খাবার খায় এসব প্রাণীরা

ঢাকা, শুক্রবার   ২৯ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪২৭,   ০৬ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

শরীরের ওজনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি খাবার খায় এসব প্রাণীরা

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩৮ ৬ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৯:১০ ৬ এপ্রিল ২০২০

ছবি: সর্বাধিক ক্ষুধার্ত প্রাণীরা

ছবি: সর্বাধিক ক্ষুধার্ত প্রাণীরা

প্রাণীকূলের জীবন ধারণের জন্য খাদ্য গ্রহণ অপরিহার্য। প্রাণী জগতের বৈচিত্র্য ভেদে খাদ্যের ধরণ কিংবা পরিমাণেও রয়েছে পার্থক্য। মূলত কোনো প্রাণীর খাবার গ্রহণের পরিমাণ নির্ভর করে সেটির আকৃতি, স্বভাব, পরিশ্রম প্রভৃতি বিষয়ের উপর।  

শরীরের চাহিদা অনুযায়ী ছোটো কিংবা বড় প্রাণী খাবার গ্রহণ করে থাকে। তবে কিছু প্রাণী আছে যারা তুলনামূলকভাবে বেশি খাবার গ্রহণ করে। এমনকি দিনে শরীরের ওজনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি খাবার গ্রহণ করে। তেমনই কয়েকটি বেশি খাবার গ্রহণ করা প্রাণী সম্পর্কে আজকের লেখা-

 আমেরিকান পিগমি শ্রিউ১। আমেরিকান পিগমি শ্রিউ

দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী প্রাণী হলো আমেরিকান পিগমি শ্রিউ। এই প্রাণিটির হার্টবিট অত্যন্ত বেশি। প্রতি মিনিটে এর হৃৎস্পন্দন এক হাজার বারেরও বেশি। কোনো ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ১৫০০ বারও হতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই প্রাণীটির শরীর সক্রিয় রাখতে অনেক বেশি খাদ্যের প্রয়োজন হয়। আমেরিকান পিগমি প্রতিদিন নিজের শরীরের ওজনের তিনগুণ খাদ্য গ্রহণ করে। 

প্রাণীটি বেঁচে থাকার জন্য এতো খাদ্য গ্রহণ করতে হয় যে, একটানা শুধু খাবার গ্রহণ করতেই থাকে এবং কয়েক মিনিটের বেশি ঘুমায় না। এমনকি টানা এক ঘণ্টা কিছু না খেলে আমেরিকান পিগমি শ্রিউ এর মৃত্যু হতে পারে। সারাক্ষণ খেতে থাকা এই প্রাণীটির গড় আয়ু অবশ্য বেশি নয়, তারা গড়ে এক বছর বেঁচে থাকে।  

নীল তিমি২। নীল তিমি

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী হলো নীল তিমি। স্বাভাবিকভাবেই এরা খাদ্য গ্রহণও করে থাকে অনেক বেশি। আধা মিটার লম্বা ও ১৭০ টন ওজনের একটি নীল তিমি দিনে প্রায় চার টন ক্রিল খেয়ে থাকে। যা প্রায় দেড় মিলিয়ন ক্যলোরির সমান। ক্রিল সমুদ্রের অতিক্ষুদ্র এক প্রকার মাছ। যার আকর আকৃতি অনেকটাই চিংড়ি মাছের মতো। একটি নীল তিমি দিনে গড়ে ৪০ মিলিয়ন ক্রিল খেয়ে থাকে। নীল তিমির কোনো দাঁত নেই। 

দাঁতের পরিবর্তে এদের ২৭০ থেকে ৩৯৫টি ব্যালিন থাকে। যা অনেকটা ফিল্টারের মতো কাজ করে। নীল তিমির ব্যালিনগুলো উপরের চোয়াল থেকে নিচের চোয়াল পর্যন্ত ঝুলে থাকে। এরা যখন ক্রিল খাওয়ার জন্য হাঁ করে তখন ক্রিলের সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর পানিও মুখে ঢোঁকে। পরবর্তীতে ব্যালিনের মাধ্যমে মুখে ঢোকা পানি ছেঁকে বের করে দিয়ে ক্রিলগুলো খায়। 

 হামিং বার্ড৩। হামিং বার্ড

পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্রাকৃতির পাখি হামিং বার্ড। উড়ার সময় হামিং বার্ড প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৮০ বার ডানা ঝাপটায় এবং উড়ার সময় এদের হৃৎস্পন্দন থাকে প্রতি মিনিটে গড়ে ১২০০ বারেরও বেশি। পাখিটি প্রতি মিনিটে প্রায় ২৫০ বার শ্বাস নেয় এবং উড়ার সময় এই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পায়। 

সুতরাং পাখিটির এমন সক্রিয় শরীরের চাহিদা মেটাতে প্রচুর খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। হামিং বার্ড প্রতি দিন নিজের শরীরের দ্বিগুণ খাবার গ্রহণ করে। এরা গড়ে প্রতি ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে। অতি দ্রূত ডানা ঝাঁপটানোর সক্ষমতার কারণে পাখিটি শূন্যে স্থির হয়ে ভেসে থাকতে পারে এবং স্থির অবস্থায় খাবার খেতে পারে।

 জায়ান্ট ওয়েটা৪। জায়ান্ট ওয়েটা

জায়ান্ট ওয়েটা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পোকাদের অন্যতম। এর ওজন ৭০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। নিউজিল্যান্ডের দ্বীপে এদের দেখা মেলে। এরা উড়তে পারে না কারণ উড়ার মত পাখনা নেই। জায়ান্ট ওয়েটা পৃথিবীর অন্যতম ক্ষুধার্ত প্রাণী। মাওরি শব্দ ‘ওয়েটাপুঙ্গা’ থেকে এদের নামের উৎপত্তি, যার অর্থ কুৎসিত বস্তুর দেবতা।

স্টার-নোসড মোল৫। স্টার-নোসড মোল

স্টার-নোসড মোল পৃথিবীর অন্যতম খাদক প্রাণী। যে কোনো প্রাণীই ক্ষুধার্ত থাকলে দ্রুত খাবার গ্রহণ করে। তবে স্টার-নোসড মোলের খাদ্য গ্রহণের দ্রুততার কথা শুনলে সবাইকেই অবাক হতে হয়। এরা সাধারণত সেকেন্ডের এক চতুর্থাংশেরও কম সময়ে খাদ্য খুঁজে গ্রাস করতে পারে যা অন্য যে কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণী থেকে দ্রুত। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস