Alexa শরিয়ত বিরোধী কথা বলে কারাগারে গেলেন শরিয়ত বয়াতি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ৯ ১৪২৬,   ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

শরিয়ত বিরোধী কথা বলে কারাগারে গেলেন শরিয়ত বয়াতি

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:১৮ ১৪ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

শরিয়ত বিরোধী কথা বলে কারাগারে গেলেন বাউল শরিয়ত বয়াতি। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গ্রেফতার হওয়া শরিয়ত বয়াতিকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশে দেয়।

মামলায় শরিয়তের বিরুদ্ধে যে কথাগুলো বলার অভিযোগ আনা হয়েছে তা তিনি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। 

এদিকে শরিয়ত কারাগারে গেলেও গ্রামে তার পরিবারের লোকজন রয়েছেন নিরাপত্তাহীনতায়। তার তিন সন্তানের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় কিছু লোকজন তাদের প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শরীয়তে স্ত্রী, ভাই ও বোনেরা। 

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আগধল্লা গ্রামের বাউল শরিয়ত বয়াতি গত ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার একটি বাউলে গানের আসরে যান। 

সেখানে পালা গানে বলেন, ‘গান বাজনা হারাম কোরআনে কোথাও এ কথা বলা নেই। কেউ যদি হারাম প্রমাণ দিতে পারেন তবে তাকে ৫০ লাখ টাকা দেয়ার চ্যালেঞ্জ করেন।’ 

এছাড়া ইসলাম ও কোরআন হাদিস নিয়েও কিছু কথা বলেন। ইউটিউবে তার এই বক্তব্য তার নিজ গ্রামের কিছু মানুষ দেখে। তারা এলাকায় শরিয়ত ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছে বলে অভিযোগ আনেন। শরিয়তের বিচারের দাবিতে তারা এলাকায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেন। 

গত ৯ জানুয়ারি আগধল্লা গ্রামের মাওলানা মো. ফরিদুল ইসলাম বাদী হয়ে শরিয়তের বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় একটি মামলা করেন। 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় শরিয়তে বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতি বা ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর আঘাতের অপরাধ করার অভিযোগ আনা হয়।

গত শনিবার পুলিশ শরিয়তকে ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে গ্রেফতার করে। ওইদিনই তাকে টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার এসআই মুহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, মামলায় বাদী শরিয়তের বিরুদ্ধে যে কথাগুলো বলার অভিযোগ এনেছেন রিমান্ডে শরিয়ত তা বলেছেন বলে স্বীকার করেছেন। তবে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোসহ সরকারকে বেকায়দায় ফেলানোর উদ্দেশ্যে এসব বক্তব্য দিয়েছেন কিনা সে বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

মঙ্গলবার রিমান্ড শেষে শরিয়তকে টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। 

শরিয়তের আইনজীবী জিনিয়া বখ্শ জানান, তারা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে শরিয়তের জামিনের আবেদন করেছেন।

শরিয়তকে আদালতে হাজির করা হবে এ খবর পেয়ে প্রায় শতাধিক বাউল এবং শরিয়তের আত্মীয় স্বজন আদালত এলাকায় ভিড় করে। 

শরিয়তের ভাই মারফত আলী জানান, প্রতি বছর তাদের বাড়িতে বাউল গানের আসর হয়। এ গান বন্ধ করার জন্য এ মামলার বাদী মাওলানা ফরিদুল ইসলাম এলাকার কিছু মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কয়েক বছর ধরে হুমকি দিচ্ছে। তারা চাঁদাও দাবি করেছিল। 

শরিয়তের স্ত্রী শিরিন বেগম জানান, তারা সব সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যে চক্রটি শরিয়তের বিরুদ্ধে নানা অপ্রচার ও মামলা করেছে তারা তাদের (শিরিনদের) হুমকি দিচ্ছে। তার ছেলে সাদিকুল ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। ছোট দুই মেয়ে পড়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। হুমকির মুখে ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেতেও পারছে না। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ