হাজিরায় স্বাক্ষর না করেও বেতন নিচ্ছেন শিক্ষক!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৫ ১৪২৬,   ১৪ শা'বান ১৪৪১

Akash

হাজিরায় স্বাক্ষর না করেও বেতন নিচ্ছেন শিক্ষক!

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০৬ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৫:১৪ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

খোন্তাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

খোন্তাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

বাগেরহাটের শরনখোলায় শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজশে বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করেও প্রায় তিন বছর ধরে বেতন-ভাতা তুলছেন এক সহকারী শিক্ষক। 

এক মৌখিক নির্দেশে ওই শিক্ষক বর্তমানে উপজেলার ১৩নং খোন্তাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার খোন্তাকাটা এলাকার বাসিন্দা মোসাম্মৎ ছবি আক্তার ২০১৬ সালে সহকারী শিক্ষক পদে ৮৯নং গাজী পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। কিছুদিন পর তার বাড়ির কাছাকাছি ১৩নং খোন্তাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হওয়ার জন্য তৎকালীন শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। পরে ২০১৭ সালের জুলাই মাস থেকে বর্তমানে কর্মরত বিদ্যালয়ে ক্লাস নেয়া শুরু করেন ছবি আক্তার। 

সেই থেকে শিক্ষিকা ছবি আক্তার বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় কোন ধরনের স্বাক্ষর না করেও নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা তুলছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, বর্তমান শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজশে এমন নিয়ম বহির্ভূত কাজ হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে গাজীপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাকসুদা আক্তার বলেন, প্রায় তিন বছর আগে আমার স্কুল থেকে বদলি হয়ে গেছে ছবি আক্তার। স্কুলের হাজিরা খাতায় তার কোন স্বাক্ষর নেই এবং তিনি এখানে আসেন না।  তবে তার বেতন কোথা থেকে কিভাবে হয়, তা আমার জানা নেই। 

এছাড়া ১৩নং খোন্তাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক বিপুল বিহারী রায় বলেন, তৎকালীন শিক্ষা কর্মকর্তা মোহম্মদ আক্তার হোসেনের এক মৌখিক নির্দেশে আমি গাজিপাড়া স্কুলের সহকারী শিক্ষক ছবি আক্তারকে আমার স্কুলে ক্লাস করতে বলি। সেই থেকে তিনি এখানে ক্লাস নিচ্ছেন। তবে আমাদের শিক্ষক হাজিরা খাতায় তার কোন স্বাক্ষর নেই। এমনকি স্কুলে কোনো শিক্ষক সংকট নেই। এছাড়া তার বদলিসংক্রান্ত কোন কাগজপত্র এ পর্যন্ত আমি পাইনি এবং কোন স্কুল থেকে তার বেতন-ভাতা হচ্ছে, তা কিছুই জানি না। 

এ বিষয়ে শিক্ষক ছবি আক্তার বলেন, আমি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ২০১৭ সালে বদলি হয়ে ১৩নং খোন্তাকাটা স্কুলে যোগদান করি। আপনি কিছু জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন বলে অন্য কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি। 

তবে এ ব্যাপারে খোন্তাকাটা ক্লাস্টারের তদারকির দ্বায়িত্বে থাকা সিনিয়র সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান পাইক বলেন, শিক্ষক ছবি আক্তার ১৩নং খোন্তাকাটা বিদ্যালয়ের তালিকাভুক্ত কোন শিক্ষক নয়। সুতারাং ওই স্কুলের হাজিরা খাতায় সে স্বাক্ষর করল কি না, তা আমার দেখার বিষয় নয়। নিয়মতান্ত্রিকভাবে যারা ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন, তারা সঠিকভাবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন কি না, সে বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব আমার। 

গাজি পাড়া স্কুল তদারকির দ্বায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বিধান চন্দ্র রায় বলেন, ওই শিক্ষক গাজি পাড়া স্কুলে আগে ছিল, সেটা আমি জানতাম না। আপনার মাধ্যমে অবগত হলাম। শিগগিরই বিষয়টির খোঁজ নেয়া হবে।

অপরদিকে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি তা রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর