শরণখোলায় ডাক্তার সংকট, তবুও বদলি!

ঢাকা, শুক্রবার   ০৩ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ১৯ ১৪২৭,   ১১ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

শরণখোলায় ডাক্তার সংকট, তবুও বদলি!

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৪ ১১ জুন ২০২০  

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শরণখোলা

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শরণখোলা

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবায় এখন মাত্র পাঁচজন ডাক্তার। এর মধ্যে গত বুধবার একজনকে খুলনায় বদলি করা হয়েছে।

অথচ জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে আটটিতেই ১১ জনের অধিক ডাক্তার আছেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক নিয়োগে এমন বৈষম্যের কারণে চরম ক্ষুব্দ এলাকাবাসী।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে বাগেরহাট জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে ফকিরহাটে ১৭ জন, মোল্লাহাটে ১১ জন, চিতলমারিতে ১২ জন, রামপালে ১২ জন, মোংলায় ১২ জন, বাগেরহাট সদরে ২২ জন, কচুয়ায় ১৩ জন, মোরেলগঞ্জে ১২ জন এবং শরণখোলায় মাত্র পাঁচজন ডাক্তার কর্মরত আছেন। 

পাঁচজনের মধ্যে আবার করোনার কারণে দুইজনকে রিজার্ভ রাখতে হয়। গত তিনদিন ধরে একজন ডাক্তার শারীরিকভাবে অসুস্থ। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকেন। বর্তমানে করোনাভাইরাস আক্রান্তের দিক থেকে জেলার মধ্যে শরণখোলা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী চিকিৎসা সেবা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

এদিকে ছয় মাস আগে ডা. সিরাজুল ইসলামকে গত বুধবার খুলনার উপ-পরিচালকের দফতর থেকে র‌্যাব-৬ এর করোনা আইসোলেশন সেন্টারে বদলি করা হয়। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।  

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন মুক্তা ও রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, চিকিৎসক সংকটের মধ্যে ডা. সিরাজুল ইসলাম সাধারণ মানুষের কাছে একজন ভাল ডাক্তার হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছিল। এই মুহূর্তে তার বদলি এলাকাবাসীর আরো ক্ষতি হয়ে গেছে। 

উপজেলা পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান রাহিমা আক্তার হাসি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিনের পর দিন ডাক্তার সংকট থাকার কারণে মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আট মাস আগে যোগদান করে এখানে মাত্র দুইজন ডাক্তার পাই। এখন পাঁচজনের মধ্যে থেকে করোনা পরিস্থিতিতে দুইজন ডাক্তারকে পালাক্রমে রিজার্ভ রাখতে হয়। একজনকে জরুরি বিভাগ ও ইনডোরের ভর্তি রোগী দেখা আবার অপর একজনকে আউটডোরের রোগী দেখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। 

জানতে চাইলে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডাক্তার হুমায়ুন কবির বলেন, প্রতিটি উপজেলায় একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, একজন আবাসিক মেডিলেল অফিসার, একজন ডেন্টিস্ট ও পাঁচজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থাকার নিয়ম। এরপরে ইউনিয়ন ভিত্তিক ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে। শরণখোলায় চারটি ইউপিতে তাই ডাক্তার নিয়োগ কম।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে