শত বছরের ডাকবাংলো 

ঢাকা, বুধবার   ২৭ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

শত বছরের ডাকবাংলো 

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৫৯ ১৫ মে ২০২০   আপডেট: ১৩:০২ ১৫ মে ২০২০

শত বছরের ঐতিহাসিক ডাকবাংলো

শত বছরের ঐতিহাসিক ডাকবাংলো

সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শত বছরের ঐতিহাসিক ডাকবাংলোটি তার ঐতিহ্যকে জলাঞ্জলি দিয়ে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে কালের আর্বতে। সরকারি এই সম্পদ আজ পরিচর্চার অভাবে শ্রীহীন হয়ে পড়েছে। 

প্রাচীন এই স্থাপনাটি সুনামগঞ্জ জেলা সড়ক ও জনপদের দায়িত্বে থাকলেও এদিকে কারো ভ্রুক্ষেপ করার সময় নেই। ডাকবাংলোর বর্তমান অবস্থা দেখে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

ডাকবাংলোটি উপজেলার পাগলা বাজারে মূল কেন্দ্র ও সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাশে অবস্থিত। অদূর ভবিষ্যতে ভূমি খেকুদের দখলে যেতে পারে সরকারি এই সম্পদ বলে মনে করছেন সচেতনতা মহল। 

ব্রিটিশ শাসনামালে নির্মিত এই বাংলো অব্যবহৃত থাকায় বলতে গেলে পুরোপুরি নষ্ট হয়েই গিয়েছিলো। ২০০৫-২০০৬ সালের দিকে তত্কালীন পশ্চিম পাগলা ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল আলম নিক্কুর উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে পুরনো আদলে পুনঃনির্মাণ করা হয় চৌচালা বিশিষ্ট্য এই ভবনের। ভবনটির আশপাশে প্রচুর খালি জায়গা রয়েছে। আনুমানিক এক একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত এই বাংলো। বাংলোর শ্রী বর্ধন করার কথা থাকলেও ক্রমশ ডাস্টবিনের বুথে পরিণত হয়েছে। 

স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, দেশ বরেণ্য কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতাসহ অনেক জ্ঞাণী-গুণী ব্যক্তিবর্গের আশ্রয়স্থল ছিল এই ডাকবাংলো। 

এর ভেতরে মেহগনি, সেগুণ, জাম আর অর্ধশত বছরের পুরনো বিশালাকার দুটি রেইন্ট্রি গাছ শুধু ডাকবাংলোকেই নয় সারা বাজারকেই বৃষ্টি, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস থেকে ছাতার মত আগলে রেখেছে। ফলে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যায় তার দৃশ্যপট। অন্ধকারে ডুবে যায় বাংলোর প্রাঙ্গণ।

এলাকাবাসী জানায়, ডাকবাংলোর সামনে সড়ক ও জনপদের জায়গার ওপর গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। ফলে এসব স্থাপনার আড়ালে অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে ডাকবাংলোটি। এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার। এর চারদিকের ময়লা পরিষ্কার করে লাইটিং করে আলোকিত করতে পারলে বাংলোটি তার পুরনো ঐতিয্য কিছুটা হলেও ফিরে পাবে।

পশ্চিম পাগলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল আলম নিক্কু বলেন, পাগলা বাজার ডাকবাংলো একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। এখানে অনেক বড় বড় জনসভা ও সমাবেশ হয়েছিল। তৎকালীন সময় এটার তত্ত্বাবধানে ছিলেন ময়না মিয়া নামের এক ব্যক্তি। তিনি মারা যাওয়ার পর ধীরে ধীরে নব্বই দশকে এটা পরিত্যক্ত হতে থাকে। এক সময় আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়। ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর এটাকে আমার অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করি। ১/১১ এর সময় এই স্থাপনা ছেড়ে দেয়ার পর থেকে পুণরায় পরিত্যক্ত ও আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

পশ্চিম পাগলা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক বলেন, বাংলোটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের। চেষ্টা করবো মন্ত্রীর মাধ্যমে এই বাংলোটির জন্য কিছু করার।

সুনামগঞ্জ জেলা সড়ক ও জনপথের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ডাকবাংলোটি স্থানীয় কর্মচারীরা দেখে রাখেন। প্রধান গেইট বন্ধ থাকে সব সময়। বাংলোটির কথা আমাদের মাথায় আছে। বাংলোটি পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে