শতবর্ষী বেকারি, খাবারের লোভে পেটুকরা ছুটছেন পুরান ঢাকায়

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ১৯ ১৪২৬,   ০৮ শা'বান ১৪৪১

Akash

শতবর্ষী বেকারি, খাবারের লোভে পেটুকরা ছুটছেন পুরান ঢাকায়

কানিছ সুলতানা কেয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৩৯ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:৪২ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিকেলের বা সকালে চায়ের সঙ্গে বাঙালির একটা টা তো চাই! তা হোক বিস্কুট বা টোস্ট। আবার হালকা খিদে মেটাতে কেক বা প্যাটিসের বিকল্প আর কি হতে পারে! আচ্ছা জানেন কি? আপনার এই অল্প খিদে মেটানোর খাবারগুলোর উৎপত্তি এই বাংলায়। 

এর গোড়াপত্তন ঘটেছিল ব্রিটিশ আমলে বাংলাতেই। আজ আপনাদের জানাবো ভোজনবিলাসীদের প্রিয় বেকারি খাবারের আঁতুড়ঘর আনন্দ কনফেকশনারির আদ্যোপান্ত। বনেদি ভাল বেকারি আইটেমের জন্য ভোজনবিলাসীরা এখনো ছুটে যান সাতরওজার আনন্দ বেকারিতে। গায়ে হলুদ বলুন আর সুন্নতে খতনার অনুষ্ঠান, পুরান ঢাকার আস্ত ইলিশের কাবাব চাই-ই চাই। আর যুগ যুগ ধরে এর জোগান দিয়ে আসছে ঐতিহ্যবাহী আনন্দ কনফেকশনারি। ঢাকাবাসীর কাছে যা ‘আনন্দ বেকারি’ নামেই বেশি পরিচিত।

আনন্দ বেকারির রুটিশেখ চান মিয়ার হাতে ধরেই এই বেকারির সূত্রপাত ঘটে। এটি ব্রিটিশ আমলের কথা। তখন নগরে বেকারির সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। পুরান ঢাকার সাতরওজা এলাকার আবুল হাসনাত রোডের বাসিন্দা চান মিয়ার বেকারির সুনাম একসময় ছড়িয়ে পরে সারা বাংলায়। সেসময় বেকারির কোনো দোকান ছিল না। 

বাজারে গিয়ে বেকারির খাবার বিক্রি করা হতো। তবে তখন শুধু বিস্কুটই বিক্রি করতেন চান মিয়া। সপ্তাহের একেক দিন একেক এলাকায় হাট বসত। আঁটিবাজার, জিঞ্জিরা বাজার, মিরপুর ও টঙ্গীর হাটের দিনে শেখ চান মিয়া যেতেন তার বানানো বিস্কুট নিয়ে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ হাটে আসত চান মিয়ার বিস্কুট কিনতে।   

ফ্রুট কেকএরপর নগরের বিভিন্ন সিনেমা হলে বিরতির সময় প্যাটিস ও ক্রিম রোল বিক্রি শুরু করেন শেখ চান মিয়া। তবে আনন্দ বেকারির আরেকটি জনপ্রিয় পদ হচ্ছে ফ্রুট কেক। এই কেক তারাই প্রথম বাজারে আনে। শেখ চান মিয়ার মৃত্যুর পর ছেলেরা ব্যবসার হাল ধরেন। এখনকার আনন্দ কনফেকশনারির জায়গায় তাদের প্রথম দোকানকেন্দ্রিক ব্যবসা শুরু হয়। 

এরপর হাজি আবদুল ওয়াজেদ ও তার সাত ভাই মিলে দোকানের নাম দেন আনন্দ কনফেকশনারি। এভাবেই তাদের বেকারির ব্যবসা নতুন রূপ পায়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত সুনামের সঙ্গে আনন্দ কনফেকশনারি চলছে। তাদের জনপ্রিয়তার রহস্য জানান আনন্দের বর্তমান কর্ণধার আবদুর রহমান, খাঁটি ঘি  ব্যবহার করা হয় খাবারে। খাবারের মান ঠিক রাখতে কোনো কিছুতে ঘাটতি রাখেন না তারা।

দোকানে সাজানো বাহারি খাবারশুধু ইলিশের কাবাব আর ফ্রুট কেক নয়, আনন্দ বেকারির সব পদই জনপ্রিয়। বয়স ১০০ বছর পার হয়েছে, তবু তার খাবারের স্বাদে এতটুকু চিড় ধরেনি। এখনো ভোজনবিলাসীরা ছুটে যান সাতরওজার আনন্দ বেকারিতে। আনন্দ কনফেকশনারিতে পাওয়া যায় নানা রকম খাবার। এর মধ্যে আছে চিকেন পিৎজা, প্যাটিস, ক্রিম রোল, টিকিয়া, টানাপরোটা, সমুচা, বিস্কুট।

এছাড়াও রয়েছে আস্ত মুরগির কাবাব, মুরগির রোস্ট, আস্ত খাসির কাবাব, সুতিকাবাব, বাকরখানি, পনির, কেক ও লাচ্ছা সেমাই। শবে বরাত, রমজান মাস ও ঈদে থাকে বিশেষ আয়োজন। ইলিশ মাছের কাবাব, আস্ত খাসির কাবাব, সুতি কাবাব, বাকরখানি ও টানাপরোটার জন্য আগেই ফরমায়েশ দিয়ে রাখতে হয়। ইলিশের কাবাবের ফরমায়েশ দিতে হয় তিন-চার দিন আগে। 

বাহারি স্বাদের বিস্কুটআনন্দ কনফেকশনারির পাশেই আছে আনন্দ মিঠাই নামে একটি মিষ্টির দোকান। এখানকার মিষ্টিও সমান জনপ্রিয়। আনন্দ বেকারি এখন আর শুধু সাতরওজায় সূমাবদ্ধ নেই। চকবাজার শাহী মসজিদের কাছে, ওয়ারিতে এবং বিএএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশেও রয়েছে তাদের শাখা।  

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস