লুৎফার খোঁজ কেউ রাখেনি, এগিয়ে এলেন চেয়ারম্যান    
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=157651 LIMIT 1

ঢাকা, শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৩ ১৪২৭,   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

লুৎফার খোঁজ কেউ রাখেনি, এগিয়ে এলেন চেয়ারম্যান    

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪১ ১৯ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:২০ ১৯ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

অজপাড়া গ্রামের অবহেলিত গরীব পরিবারের মেয়ে লুৎফা বেগম। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ছে। বাবা হারা এই মেয়েটিকে নতুন জীবন দিয়েছেন তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল। ‘হাওর দরদী বন্ধু’ নামে এলাকায় পরিচিত এ উপজেলা চেয়ারম্যান নিজের অর্থে লুৎফা বেগমের চিকিৎসা করিয়ে স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনে এনে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু লুৎফা বেগমই নয়, সততা, ভদ্রতা, নম্রতা, উদারতা আর সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বার বার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল। 

জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপির গোপালপুর (জালালপুর) গ্রামে লুৎফা বেগমের বাড়ি। বছর চারেক আগে শীতে আগুনে তাপ পোহানোর সময় তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ও একটি পা পুড়ে যায়। এতে চলাফেরা করা একবারেই বন্ধ হয়ে যায়। স্বাভাবিক জীবন হারিয়ে হয়ে যান ‘পঙ্গু’। 

এরপর তার পরিবার বিভিন্নজনের কাছে চিকিৎসার সহযোগিতার আবেদন করেও সাড়া পাননি। চলতি বছর বন্যায় এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণের সময় করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুলের চোখে পড়ে মেয়েটি। তখন অনেকেই অসহায় মেয়েটির পরিবারের কথা তাকে জানায়। তখন লুৎফা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাকে দেখেন ও চিকিৎসা করানোর আশ্বাস দেন। 

সেই কথা মোতাবেক লুৎফা বেগমকে নিজ খরচে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান। তার পায়ে প্লাস্টিক সার্জারি করান। এক মাসের বেশি সময় সেখানে কাটান। পরে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডা. সুমন চন্দ্র বর্মনের তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান লুৎফা বেগম।

এদিকে সুস্থ হয়ে আনন্দে আত্মহারা লুৎফা বেগম জানান, এখন হাঁটাচলা, খেলাধুলাসহ আগের মতো সব কিছুই করতে পারি। শুধু চেয়ারম্যান সাহেবের কারণেই স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছি।

লুৎফা বেগমের মা জানান, দাদা পাশে দাঁড়ানোর কারণে আমার মেয়েটি আজ সুস্থ জীবন ফিরে পেয়েছে। শরীর পুড়ে গিয়ে মেয়েটি অচল হয়ে পড়েছিল। অনেকেই তার চিকিৎসা করাবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু কেউ কথা রাখেন নি। তবে কয়েক মাস পূর্বে দাদা আমার মেয়ের চিকিৎসা করাবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। 

তিনি আরো বলেন, ঠিক কথা দেয়ার কিছুদিনের মধ্যেই দাদার তহবিল থেকে নিজের গাড়ি দিয়ে সিলেট নিয়ে চিকিৎসা করান। এখন মেয়েটি আগের মত স্বাভাবিক হাসিখুশি জীবন কাটাচ্ছে। তিনি সম্প্রতি আমার মেয়ের খোঁজ নিতে বাড়িতে এসেছিলেন। 

তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, লুৎফা বেগমের দুরবস্থার কথা শুনে তাকে দেখতে যাই। দেখে আরো কষ্ট পেয়েছি। আমি চিকিৎসা করানোর কথা দিয়েছিলাম। আমার সাধ্যমতো তার চিকিৎসা করে সুস্থ জীবন ফিরিয়ে দিয়েছি। নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর