লিলি এলবে: লিঙ্গ পরিবর্তনকারী ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি
SELECT bn_content_arch.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content_arch.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content_arch.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content_arch INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content_arch.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content_arch.ContentID WHERE bn_content_arch.Deletable=1 AND bn_content_arch.ShowContent=1 AND bn_content_arch.ContentID=40066 LIMIT 1

ঢাকা, রোববার   ০৯ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৬ ১৪২৭,   ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

লিলি এলবে: লিঙ্গ পরিবর্তনকারী ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি

 প্রকাশিত: ১৭:০৯ ৬ জুন ২০১৮   আপডেট: ২১:৪৭ ৬ জুন ২০১৮

লিলি এলবে- পূর্বে ও পরে

লিলি এলবে- পূর্বে ও পরে

আমাদের সমাজে এমন মানুষ অহরহই দেখা যায় , যাদের শারীরিক গঠন পুরোপুরি পুরুষের মত হলেও আচরণে , অঙ্গভঙ্গিতে নারীদের মতো থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আবার অনেক নারীকে দেখা যায় পোশাক আশাক বা ব্যবহার অনেকটা পুরুষের মতো। এরা আসলে কেউই তৃতীয় লিঙ্গ বা হিজড়া নন। সত্যি কথা বলতে ব্যাপারটি খুবই স্বাভাবিক। যারা আধুনিক চিন্তাভাবনা করেন তাদের মতে, শুধুমাত্র যৌনাঙ্গ দেখেই নারী কিংবা পুরুষ নির্ধারণ করা উচিৎ নয়। একজন জন্মগতভাবে পুরুষ যদি নিজেকে নারী ভাবেন তাহলে তার লিঙ্গ পরিচয় হওয়া উচিৎ নারী , ঠিক তেমন কোনো নারী যদি নিজেকে পুরুষ ভাবতে সবাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তবে তাঁর পরিচয় হওয়া উচিৎ পুরুষ হিসেবেই। অর্থাৎ , মানুষের লিঙ্গভিত্তিক পরিচয় মানুষ নিজেই ঠিক করবে, সমাজ বা অন্য কেউ নয়।

লিঙ্গ রূপান্তরের এই অদম্য ইচ্ছা থেকেই অনেকেই `সেক্স রিএসাইনমেন্ট সার্জারি` বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে লিঙ্গ পরিবর্তন করে থাকেন। পশ্চিমা বিশ্বে আজকাল অহরহই জেন্ডার ট্রান্সফরমেশন হচ্ছে। তো কে ছিলেন ইতিহাসের প্রথম লিঙ্গ পরিবর্তনকারী? লিলি এলবে নামের একজন ড্যানিশ চিত্রকর সর্বপ্রথম এই সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

লিলির পুরুষজীবনের নাম ছিল এইনার ওয়েগনার। তিনি ছিলেন তখনকার কোপেনহেগেনের বিখ্যাত ল্যান্ডস্কেপ আর্টিস্ট। তাঁর স্ত্রী গেরদা ওয়েগনার ছিলেন একজন পোরট্রেট আর্টিস্ট। ভালোই চলছিলো এই চিত্রকর দম্পতির দাম্পত্যজীবন। ১৯২০ সালের মাঝামাঝি কোন সময়ে গেরদা একজন নারীর বিশেষ অঙ্গভঙ্গির পোরট্রেট আঁকছিলেন। একদিন মডেলের আসতে দেরি হওয়ায় গেরদা তাঁর স্বামী এইনারকেই মডেলের জামাকাপড় গায়ে চাপিয়ে ওই বিশেষ অঙ্গভঙ্গিতে বসিয়ে দেন। এই ব্যাপারটিই পুরুষ এইনারের ভেতরে সুপ্ত থাকা আজন্ম নারীসত্তাকে জাগিয়ে দেয়। এইনারের মধ্যে একজন নারী হিসেবে পরিচয় পাবার অদম্য ইচ্ছা জাগ্রত হয়। সে নিজের নাম দেয় লিলি , লিলি এলবে। এইনারের এই হঠাত পরিবর্তন দিশেহারা করে দেয় গেরদাকে। কিন্তু একসময় গেরদাও এইনারের মধ্যে থাকা লিলিকে মেনে নেয়।


গেরদা ওয়েগনার

এদিকে গেরদার সেই পেইন্টিং ব্যাপক প্রশংসা পায়। প্যারিস থেকে এক্সিবিশনের ডাক আসলে এইনারকে নিয়ে সেখানে চলে যায় লিলি। অনেক পেইন্টিং এর ব্যবসায়ীদের সাথে গেরদার আলাপ হতে থাকে যারা তাঁর ছবিটি কিনতে আগ্রহই। এদেরই মধ্যে একজন ছিলেন হ্যান্স এগজিল। লিলি জানতে পারে হ্যান্স ছিলেন এইনারের বাল্যবন্ধু। হ্যান্স ছিলেন সমকামী। হ্যান্স গেরদাকে জানান, ছোটবেলায় একবার এইনারকে চুম্বন করতে গেলে এইনারের বাবা হ্যান্সকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং বাড়ি থেকে বের করে দেন। আসলে সেই ঘটনাটিই এইনারের মনে লিলি হওয়ার বাসনা সৃষ্টি করে।


লিলি এলবে (১৯২৬)

সালটা তখন ১৯৩০।এইনারের মাঝে জন্ম নেয়া লিলি আস্তে আস্তে প্রকট হতে থাকে। এই দোদুল্যমান জীবন এইনারের জন্য অসহনীয় হয়ে ওঠে। বহু সাইকোলজিস্টের সহায়তা নিয়েও এইনারের অবস্থা আরও খারাপ হতে লাগলো। শেষমেশ হ্যান্স এর পরামর্শ অনুযায়ী গেরদা এইনারকে নিয়ে যান বিখ্যাত জার্মান গাইনিকোলজিস্ট ডঃ কার্ট ওয়ারনেক্রসের কাছে। ডক্টর কার্ট তার দীর্ঘদিনের গবেষণার প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেন এইনারের উপর। এইনারও রাজি হয়ে যান পৃথিবীর সর্বপ্রথম সেক্স রিএসাইন্মেন্ট সার্জারি নিতে। সময় নষ্ট না করে গেরদা ও এইনার সার্জারির জন্য জার্মানি রওনা করেন। এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট যে, কতটা অসহনীয় হইয়ে উঠলে একজন মানুষ এরকম একটি ভয়ানক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন!

সার্জারিটির দুইটি ধাপ ছিল । প্রথমে এইনারের বাইরের যৌনাঙ্গ অপারেশন করে ফেলে দিতে হবে, অতঃপর কিছুদিন পর প্রথম ধকল সামলে উঠলে সেখানে একটি নারী যৌনাঙ্গ তৈরি করা হবে। দুই বছর ধরে চারটি সার্জারি সম্পন্ন হয়।

এরই মধ্যে এইনারের গল্প ডেনমার্ক আর জার্মানিতে বেশ মুখরোচক খবর হয়ে ওঠে। ১৯৩০ সালের অক্টোবরে ডেনমার্কের একটি আদালত এইনার ও গেরদার বিয়ে আর বৈধ থাকতে পারবে না বলে রায় দেয় এবং এইনারকেও তাঁর নাম ও লিঙ্গ পরিবর্তনের আইনি বৈধতা দেয়। এইনারের নাম হয় লিলি ইলসে এল্বেন্স। এইনার থেকে লিলি হওয়ার পর সে পেইন্টিং করা বন্ধ করে দেয়। কারণ লিলির ধারণা ছিল , পেইন্টিং এর শখ এইনারের পরিচয় বহন করে এবং লিলি কিছুতেই চাইত না এইনারের ওই দুঃসহ জীবনটাতে ফিরে যেতে।

এর মধ্যেই ফরাসী চিত্র ব্যবসায়ী ক্লদ লেউনের সাথে লিলির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং লিলি ক্লদকে বিয়ে করে গর্ভধারণের ইচ্ছাও প্রকাশ করে। কিন্তু চার নম্বর অপারেশন ; যেটিতে লিলির যোনিপথ এবং মূত্রনালি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিলো, সেটাতে কিছু গড়বড় লেগে যায়। লিলির ইমিউন সিস্টেম তাঁর নতুন মূত্রনালির সাথে মানিয়ে নিতে না পারাও তাঁর রক্তে ইনফেকশন ছড়িয়ে পরে । ফলশ্রুতিতে ১৯৩১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ; অপারেশনের তিন মাস পরে মারা যায় লিলি এলবে। জার্মানির ড্রেসডেনেই তাকে সমাহিত করা হয়।


The Danish girl (201 6) ছবির পোস্টার

লিলি এলবেই প্রথম লিঙ্গ পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে বহু রূপান্তর কামীদের সেক্স রিএসাইনমেন্ট সার্জারি নিতে অনুপ্রাণিত করে।

লিলির জীবন নিয়ে ২০১৬ সালে ফোকাস ফিচারের ব্যানারে `দ্বয় ড্যানিশ গার্ল` নাম্বে একটি সিনেমা নির্মাণ করেন নির্মাতা টম হুপার । লিলি চরিত্রে অভিনয় করেন প্রখ্যাত অভিনেতা এডই রেডমেন। গেরদা ওয়েগনার চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য অস্কার পুরস্কার পান অভিনেত্রী এলিসিয়া ভিকান্দার। ছবিটি সমালোচক মহলে বেশ জনপ্রিয়তা পায়।

লিলি এলবের বিচিত্র জীবন সম্পর্কে আগ্রহী হলে দেখে নিতে পারেন সিনেমাটি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই