লিভার দান করা মেয়ে বাবাকে নিয়ে দেশে ফিরেছেন

ঢাকা, সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৪ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪১

Akash

লিভার দান করা মেয়ে বাবাকে নিয়ে দেশে ফিরেছেন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:১৬ ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১০:০৮ ১ মার্চ ২০২০

বাবা নারায়ন আচার্য্যের সঙ্গে উর্মি আচার্য্য

বাবা নারায়ন আচার্য্যের সঙ্গে উর্মি আচার্য্য

নারায়ন আচার্য্যের কিছুদিন ধরেই পেটে ব্যথা। খেতে পারতেন না কিছুই। হাসপাতালে ভর্তির পর জানা গেল দীর্ঘদিন লিভার সিরোসিসে ভুগছেন। সুস্থ করার জন্য লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে হবে! 

কিন্তু কে দেবে লিভার? এগিয়ে এলেন মেয়ে উর্মি আচার্য্য। এই সাহসী মেয়েই তার ৬৭ শতাংশ লিভার বাবাকে দান করেছেন।

শর্মী আচার্য্য ও উর্মি আচার্য্য দুইবোন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থী। বড়বোন শর্মী ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের (৭ম ব্যাচ) গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী। ছোটোবোন উর্মি ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের (৮ম ব্যাচ) অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগে পড়েন। 

চিকিৎসকদের পরামর্শে বাবাকে নিয়ে উর্মিরা ভারত যান গেল বছরের ২৬ ডিসেম্বর। ভর্তি হন দিল্লির ম্যাক্স হেলথকেয়ার হসপিটালে। গত ১৭ জানুয়ারি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের অপারেশন হয়। উর্মি দান করেন ৬৭ শতাংশ লিভার। ২৭ ফেব্রুয়ারি বাবা নারায়ন আচার্য্যকে নিয়ে দেশে ফেরেন উর্মি।

এর আগে বাবার চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন উর্মি। সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, দেশের জনগণ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

এ নিয়ে উর্মি আচার্য্য বলেন, সবার সহযোগিতায় বাবার অপারেশন হয়েছে। কৃতজ্ঞতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বড় ভাই-বোন, সহপাঠী, অন্যান্য শিক্ষার্থীদের প্রতি। দেশের মানুষ যেভাবে এগিয়ে এসেছে তা আমি মুখে বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারবো না।

নিজেদের সুস্থতার ব্যাপারে উর্মি বলেন, বাবা সুস্থ হতে ছয় মাসের মতো লাগতে পারে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আমার সুস্থ হতে তিনমাসের মতো লাগতে পারে।

বাবাকে লিভারের অংশ বিশেষ দেয়ার ব্যাপারে উর্মি জানান, বাবাকে লিভার দান ছিল কর্তব্যের অংশ। আর সবার সহযোগিতা করার আগ্রহ আমার সাহসিকতাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সবকিছুর জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম