লিবিয়া হত্যাকাণ্ডে হদিস নেই ভৈরবের দুই যুবকের 

ঢাকা, রোববার   ১২ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৯ ১৪২৭,   ২১ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

লিবিয়া হত্যাকাণ্ডে হদিস নেই ভৈরবের দুই যুবকের 

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৩২ ৬ জুন ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

লিবিয়ার ত্রিপোলীতে ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার পর থেকে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের দুই যুবকের কোনো হদিস মিলছে না।

তারা হলেন, পৌর শহরের জগনাথপুরের ফল ব্যবসায়ী আসাদ মিয়া ছেলে বিজয় এবং একই গ্রামের আলী আকবরের ছেলে ইসার উদ্দিন।

নিখোঁজ হওয়া যুবকদের স্বজনেরা জানান, ভৈরব পৌর শহরের জগনাথপুর গ্রামের দালাল জাফরের কথায় সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে অবৈধ পথে লিবিয়ায় পাড়ি জমান একই গ্রামের ইসার উদ্দিন ও বিজয়। জাফরের কথা মতো তারা প্রত্যকে সাড়ে চার লাখ করে টাকা দিয়ে লিবিয়া যান।

সর্বশেষ পরিবারের কাছে গত ২৫ মে একটি ভয়েজ রেকর্ড পাঠায় তারা। রেকর্ডে তারা দু’জনেই ফের ১০ লাখ টাকা করে পাঠাতে বলেন, নতুবা তাদেরকে মেরে ফেলা হবে। সন্তানের এমন আকুতিতে টাকা জোগাড় করতে যখন স্বজনেরা দিশেহারা। ঠিক তখনই মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের গুলিতে ২৬ জন বাংলাদেশি নিহত হয়।

এ ঘটনার পর থেকে ইসার উদ্দিন এবং বিজয়ের কোনো খোজঁ মিলছে না। এছাড়াও প্রশাসনের হাতে আসা ভৈরব উপজেলার নিহত ৬ জন এবং আহত ৩ জনের নাম তালিকায় থাকলেও নাম নেই নিখোঁজ হওয়া দু’জনের। ফলে বিপাকে পড়েছেন ইসার উদ্দিন এবং বিজয়ের স্বজনেরা। 

বিজয়ের বাবার ফল ব্যবসায়ী আসাদ মিয়া বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে ২৬ জন বাংলাদেশি গুলিতে নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেলেও তালিকায় ২৪ জনের নাম রয়েছে। তাহলে বাকি দু’জন কারা জানতে চাই আমরা।  

লিবিয়ায় মানবপাচারকারী চক্র বা দালালদের কথা মতো টাকা দিতে না পারায় প্রথমে তাদের ওপর চলে অমানুষিক নির্যাতন। পরে এই নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে দেশে তাদের পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দাবি করা হয়, মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ। আর এই টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই হয়েছেন নিঃস্ব। ফলে কেউ সন্তান হারিয়ে আবার কেউ বা সন্তানের খোঁজ না পেয়ে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও পরিবারগুলোতে এখনো থামছে না শোকের মাতম।  

এ বিষয়ে ভৈরবের ইউএনও লুবনা ফারজানা বলেন, লিবিয়া হত্যাকাণ্ডে নিহত এবং আহতদের তালিকায় তাদের কারো নাম নেই। হতাহতের বাইরেও কেউ থাকতে পারে। যেহেতু তাদের কোনো হদিস নেই। আমরা তাদের পরিবারের কাছ থেকে দু’জন নিখোঁজের বিষয়টি জেনেছি। এরই মধ্যে আমি লিবিয়ার ত্রিপোলীতে দায়িত্বরত বাংলাদেশি কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করেছি। তিনি নিখোঁজ হওয়া যুবকদের সঠিক তথ্য খুজেঁ বের করতে চেষ্টা করছেন।    
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ