Alexa লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গাদ্দাফির ছেলে

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৩ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৮ ১৪২৬,   ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪০

লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গাদ্দাফির ছেলে

 প্রকাশিত: ১২:৫২ ২৩ মার্চ ২০১৮  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

লিবিয়ায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেয়ার পরিকল্পনা করছেন দেশটির সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি।

সোমবার তার মুখপাত্র আয়মান বোরাস তিউনেশিয়ায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই ঘোষণা দেন। ‘লিবিয়া রাষ্ট্রের পুনর্গঠন ও সবার জন্য লিবিয়া’ ভিশন নিয়ে নির্বাচনে লড়ার ইচ্ছা সাইফের।

গত বছরের জুনে কারাগার থেকে মুক্তি পান গাদ্দাফির এই ছেলে। এরপর থেকে তিনি কোথায় আছেন, কেউ জানে না। তবে বোরাস দাবি করেন, তিনি লিবিয়াতেই আছেন এবং রাজনীতিতে অংশ নিতে প্রস্তুত।

এদিকে গাদ্দাফিপুত্রের পক্ষ থেকে এই ঘোষণায় লিবীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ আল-দারাত জানান, সাইফ আল ইসলামের নির্বাচনে লড়ার ইচ্ছা বিশেষ কোনো আকর্ষণের কারণ নয়। গাদ্দাফির শাসন চিরদিনের জন্য বিদায় হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আল-দাররাত বলেন, সাইফ আল ইসলাম যদি রাজনীতিতেই ফিরে আসতে চান, তবে বিপ্লবের মানে কী ছিল?

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোও চায় না, তিনি রাজনীতিতে ফিরুক।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক কামেল আল-মেরাশ অবশ্য ভিন্নটা মনে করেন। তার মতে, লিবিয়ার সবাইকে একভাবে দেখা উচিত নয়। অনেকে সাইফ আল-ইসলামের বিরোধিতা করলেও, অনেকেই তাকে সমর্থন করে।

তিনি জানান, কোনো আঞ্চলিক শক্তি সাইফকে সরাসরি সমর্থন না দিলেও অনেকেই তার প্রেসিডেন্ট প্রার্থীতার বিরোধিতা করবে না। আল-মেরাশের সঙ্গে একমত পোষণ করেন লিবীয় সংসদ সদস্য খলিফা হাফতার।

তিনি মনে করেন, আইনি কোনো বিধিনিষেধ না থাকলে লিবিয়ার নাগরিক হিসেবে সাইফ আল ইসলামের নির্বাচনে লড়ার অধিকার কেউ অস্বীকার করে না।

গাদ্দাফির সময়ে যারা সরকারে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে ২০১৩ সালে আইন করে লিবিয়া। পরে ২০১৫ সালে ওই আইন বাতিল করা হয়।

লিবিয়ার প্রতিনিধি পরিষদের সভাপতি আগুইলা সালেহ মনে করেন, সুতরাং সাইফ আল ইসলামের নির্বাচনে অংশ নেয়ার অধিকার আছে, যেহেতু তার ওপর থেকে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে।

২০১৫ সালে লিবিয়ার একটি আদালত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে সাইফকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরে এক সাধারণ ক্ষমার আওতায় মাফ পেয়ে যান তিনি।

২০১১ সালে আরব বিশ্বের অন্য দেশের মতো লিবিয়ায় আরব বসন্ত ‍শুরু হলে পতন হয় গাদ্দাফির ৪০ বছরের শাসনের। ওই বছরই অক্টোবরে বিদ্রোহীরা তাকে ধরে এনে রাজপথে হত্যা করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ