লিচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত শেখাচ্ছেন চৌদ্দ বছরের মুসলিম শিশু!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৭,   ০২ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

লিচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত শেখাচ্ছেন চৌদ্দ বছরের মুসলিম শিশু!

আরাফাত হাসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০৬ ১০ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৮:৪৬ ১০ এপ্রিল ২০২০

২০১৮ সালে তাকে গণিতের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়

২০১৮ সালে তাকে গণিতের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়

যে বয়সে অন্য শিশুরা খেলায় মগ্ন থাকে ঠিক সেই বয়সে আমেরিকার লিচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেন ইয়াসা অ্যাসলে। তার বয়স এখন চৌদ্দ বছর। আর এই বয়সে শেখাচ্ছেন গণিত।

ইয়াসা ইরানি বংশদ্ভূত। ২০১৮ সালে তাকে গণিতের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তারচেয়ে বয়সে বড়দের শেখাচ্ছেন গণিত। তিনি সাইদ ইউনিভার্সিটিতে গণিতে বিএসসি শেষ করেছেন। বিএসসিতে ৯২% নম্বর পেয়ে দেশের সবচেয়ে কম বয়সী গ্র্যাজুয়েট এখন তিনি। এছাড়াও তাকে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী প্রফেসর বলা হচ্ছে।

ইয়াসা অ্যাসলে শিশু-কিশোরদের জন্য অনুপ্রেরণার একটি নাম। তিনি একটি সম্ভ্রান্ত পরিবার থেকে ওঠে এসেছেন। তার বাবা ৫৪ বছর বয়সী মুসা অ্যাসলে একমাত্র সন্তানের সাফল্যে খুবই খুশি। 

তিনিই প্রতিদিন অ্যাসলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে দেন। মাত্র আট বছর বয়সে বেশ কয়েকটি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাস করে ডিগ্রী পর্যায়ের গণিত শেষ করেন।

বিবিসি জানায় ২০১২ সালে ইয়াসার অসামান্য প্রতিভা তাকে আলোচনায় নিয়ে আসে।

মুসা অ্যাসলে বলেন, ইয়াসা এ-লেভেলের স্ট্যাটিস্টিক্স, গণিত এবং মৌলিক গণিতের উপর নিখুঁত ১০০% নম্বর পেতে সক্ষম।

তার বাবা আরও জানান, ছেলেকে গণিতের সমস্যা সমাধানে সত্যিই কোনও প্রচেষ্টা করতে হয়নি। গণিতের সমস্যাগুলো তার কাছে প্রায় স্বয়ংক্রিয়, যা অসাধারণ।  শৈশবকাল থেকেই, ইয়াসা সংখ্যায় বিশেষ দক্ষতা প্রদর্শন করেছিলো, যা তার বাবাকে  সত্যিই তার পুত্রের প্রতিভাকে সম্মোহিত করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

ডেইলি সান অনুসারে, ইয়াসা তার বর্তমান কর্মস্থল সম্পর্কে অত্যন্ত আগ্রহী, তিনি লিচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পদে অন্যান্য প্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীদেরকে ছাড়িয়ে তবেই সুযোগ পেয়েছিলেন।

ইয়াসা অ্যাসলের অসামান্য প্রতিভার কারণে তাকে এখন অনেকেই ‘মানব ক্যালকুলেটর’ হিসাবে অভিহিত করেন। এত কম বয়সে গণিতের সহজাত উপলব্ধির জন্য শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের একসঙ্গে অবাক করে চলেছেন। লিচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাসলে এখন গণিতের বিভিন্ন বিষয়ে প্রাপ্ত বয়স্কদের শিক্ষা দিয়ে থাকেন। 

তার পেশা সম্পর্কে অনুভূতির কথা জানতে চাইলে বলেন, এ পেশায় বেশ উল্লসিত আমি। খুবই ভালোবাসি এ পেশা। এখন আর নির্দিষ্ট পোশাক পরতে হবে না। 

এর আগে মাত্র তেরো বছর বয়সে অ্যাসলে লিচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেসময় প্যানেল রিভিউকারী দল তার প্রতিভা দেখে আশ্চর্যান্বিত হয়েছিলো। সেসময় তাকে প্রফেসর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। 

অ্যাসলে জানান যখন তিনি প্রথমবারের মতো নির্বাচক প্যানেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তখন নির্বাচক প্যানেলের সদস্যরা তাকে বেশ কিছু প্রশ্ন করেছিলো। যখন অ্যাসলে সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেন তখন তারা বুঝতে পেরেছিলেন লেসেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অ্যাসলে কী হতে যাচ্ছেন! এত কম বয়সে অতিথি প্রফেসর হিসেবে লিচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার জন্য এইচআরডি ডিপার্টমেন্টের বেশ কিছু পক্ষের অনুমোদন লেগেছিলো। এমনকি যখন অনুমোদন পত্রটা বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিলে উপাস্থাপন করা হয় তারা এটা বিশ্বাস করতে চাইলো না।

যাহোক, একসময় তারা ইয়াসা অ্যাসলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং বুঝতে পারে যে অ্যাসলের অবদানে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় আরও সমৃদ্ধ হতে যাচ্ছে। তরুণ এই প্রতিভাধর অ্যাসলের ক্যারিয়ার নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে তিনি তার পিএইচডি ডিগ্রী শেষ করতে চান। 

এই মুহূর্তে তিনি লেসেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক লোকদের গণিতের জটিল বিষয়গুলো শিখতে সাহায্য করেই খুশি। গণিতের সমস্যাগুলি গ্রহণ করা, সেগুলো বিশ্লেষণ করা এবং যে কেউ বুঝতে পারার মতো সহজ পদ্ধতিতে সেগুলো ব্যাখ্যা করার মতো বিশেষ দক্ষতা ইয়াসার রয়েছে। যা সত্যিই বিরল প্রতিভার প্রমাণ।

অ্যাসলের খুব ছোট বয়সেই তার এই বিরল প্রতিভার কথা জানতে পারেন বাবা।তখন থেকেই ছেলেকে পরিচর্যা করা শুরু করেন তিনি। মূলত বাবার পরিচর্যাতেই আজকের ইয়াসা অ্যাসলে পৃথিবীব্যাপী পরিচিতি পয়েছেন।

সূত্র: ডেইলি মেইল, ইউরস্টোরি ডট কম।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম/এআর