লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা

ঢাকা, সোমবার   ২০ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৬,   ১৪ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা

 প্রকাশিত: ১৩:৩৯ ৭ জুন ২০১৮   আপডেট: ০০:৪২ ৯ জুন ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

২০০৬ এ তিনি ছিলেন ‘বাচ্চা’, ২০১০ এ ‘অনভিজ্ঞ’, আর ২০১৪ তে তিনি ছিলেন গোটা ফুটবল বিশ্বের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু। কণ্টকাকীর্ণ পথের প্রায় সবটাই পাড়ি দিয়ে ফেলেছিলেন, শুধু ফাইনালের বাধাটাই পেরোতে পারেননি। লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা তাহলে কেমন?

বিশ্বকাপ আর মেসি- এই দুটো নাম একসাথে এলেই তুলনা চলে আসে ’৭৮ এর কেম্পেস ও ’৮৬ এর ম্যারাডোনার সাথে। যেখানে বাকি দুজনের চেয়ে বরাবরই কম নম্বর পেয়ে এসেছেন মেসি। কারোর কারোর মতে, সর্বকালের সেরাদের কাতারে যাওয়ার জন্য বিশ্বকাপ জয়ের বিকল্প নেই মেসির। আবার কারোর মতে, মেসি এমনিই যা অর্জন করেছেন, তাতেই তিনি সর্বকালের সেরাদের কাতারে থাকার যোগ্য, বিশ্বকাপ জয় তাতে বাড়তি একটা প্রলেপ দেবে শুধু। সামনেই খেলতে নামছেন আরেকটি বিশ্বকাপ, তার আগে মেসির বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতার গল্প শুনে নেয়া যাক একবার। তাও তাদেরই মুখে, যারা কিনা সে সময়ে মেসিকে চাক্ষুষ দেখেছেন।

২০০৬ বিশ্বকাপ:
মেসির বেড়ে ওঠার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল জেরার্ডো স্যালোরিওর। প্রথমে ২০০৫ সালের অনূর্ধ্ব ২০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফ হিসেবে, এরপর এক বছর পরে জার্মানিতে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে, দুই জায়গায়ই মেসির বেড়ে ওঠার পেছনে অবদান ছিল স্যালোরিওর। মেসির ব্যাপারে তার এক কথায় স্বীকারোক্তি, ‘ফুটবলের ব্যাপারে ও স্বয়ং ঈশ্বরের আশীর্বাদপ্রাপ্ত।’

স্যালোরিওর এমন উচ্ছ্বাসের মর্যাদাও রেখেছিলেন মেসি, নিজের বিশ্বকাপ অভিষেকেই গোল করেছিলেন ১৮ বছরের ‘বাচ্চা’ ছেলে মেসি, সার্বিয়ার বিপক্ষে দেখিয়েছিলেন ১৬ মিনিটের ক্যামিও। মেসির প্রতিভায় এএফএ এতটাই মুগ্ধ ছিল, দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ অভিষেক ঘটিয়ে দেন মেসির।



কিন্তু ১৮ বছরের মেসির কাছে দলের প্রত্যাশা পাহাড়সম কিছু ছিল না। ১৫-২০ মিনিট খেলবেন, তাতেই নিজের প্রতিভা দিয়ে প্রতিপক্ষকে এলোমেলো করে দেবেন, এটাই ছিল আর্জেন্টিনার কৌশল। স্যালোরিওও জানালেন সে কথাই, ‘এই পর্যায়ে এসে ৯০ মিনিট এক দমে খেলতে হয়। আমাদের মনে হয়েছিল ও তখনো পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত ছিল না। হ্যাঁ অনূর্ধ্ব ২০ পর্যায়ের জন্য ঠিক ছিল, কিন্তু সিনিয়র লেভেলে এসে আরেকটু বেশি কিছু দিতে হয়। দলের ওকে প্রয়োজন ছিল ১৫-২০ মিনিটের জন্য, যখন ও ওর অবিশ্বাস্য স্কিল দিয়ে প্রতিপক্ষকে ভড়কে দেবে।’

সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ম্যাচে শুরুর একাদশে জায়গা পেলেন মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে পাঁচটি অনূর্ধ্ব ২০ বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাওয়া স্যালোরিও এখনো ম্যাচের পরে মেসিকে দেয়া উপদেশগুলো মনে করতে পারেন, ‘আমি ওকে বলেছিলাম: “তুমি চারটা সুযোগ তৈরি করেছো, কিন্তু কোনো গোল করোনি। ফুটবলে গোল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তুমি চার-পাঁচজনকে কাটিয়ে গোল করলে, নাকি গোল লাইনের সামনে দাঁড়িয়ে বল ঠেলে দিলে, সেটা ব্যাপার না”। আমরা ওকে প্রতিদিন একটু একটু করে শিখাচ্ছিলাম। সিনিয়র পর্যায়ের ফুটবল কেমন হয়, এ ব্যাপারে বাচ্চা একটি ছেলেকে পরামর্শ দিচ্ছিলাম আমরা।’

কিন্তু বিস্ময়কর পারফরম্যান্স দেখানোর পরেও কোনো এক অজানা কারণে কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচে মেসিকে পুরো সময় বেঞ্চে বসিয়ে রাখলেন কোচ হোসে পেকারম্যান। আর্জেন্টিনাও সেই ম্যাচে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়। মেসিকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা বোঝানোর চেষ্টা করলেন স্যালোরিও, ‘ম্যাচের যখন ২৫ মিনিট বাকি, তখন পেকারম্যান বলছিলেন, জার্মানি কেবলমাত্র লং বলের মাধ্যমেই খেলায় সমতা আনতে পারবে, এছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই তাদের সামনে। এ কারণে তিনি রিকুয়েলমেকে উঠিয়ে ক্যাম্বিয়াসোকে নামালেন, যাতে করে ওদের ৪ নম্বর জার্সিধারীকে সামনে এগোনো থেকে বিরত রাখা যায়। এরপর কিছু ঘটনা ঘটে, যা খেলার ওপর একটা প্রভাব ফেলে যায়, যেমন এবোনডানজিয়েরির ইনজুরি।

দশ মিনিট বাকি থাকতে জার্মানি গোল করে বসে, খেলা গেলো টাইব্রেকারে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী আমরা অতিরিক্ত সময়ে এসে যদি আরেকজন খেলোয়াড় বদল করতে পারতাম, তাহলে নিশ্চিতভাবেই মেসিকে মাঠে নামাতাম। খেলার ফলাফল তখন অন্যরকমও হতে পারতো।’



তবে স্যালোরিওর পূর্ণ বিশ্বাস, আজকের এই মেসিকে গড়ে তোলার প্রথম ধাপটা শুরু হয়েছিল সেই ২০০৬ বিশ্বকাপেই, ‘এই পর্যায়ের ফুটবলে কীভাবে টিকে থাকতে হয়, সেটা আমরা মেসিকে শিখিয়েছিলাম। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

আর্জেন্টাইনদের কাছে ফুটবল হলো জীবন, আমাদের কাছে জেতাটা আমাদের জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মেসিকে এই জিনিসটা বুঝতে হতো, ওর মধ্যে জয়ের সেই ক্ষুধাটা তৈরি করে দিয়েছিলাম আমরা।’

‘বিশ্বকাপের পরপরই বার্সেলোনার পরিচালক আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন আমরা মেসির সাথে কী এমন করেছি যে ওর মধ্যে একটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে! আমরা ওকে শুধু এটাই বুঝিয়েছিলাম, আর্জেন্টিনায় ফুটবলকে যেভাবে দেখা হয়, অন্য কোথাও সেভাবে দেখা হয় না। ফুটবল এখানে জীবনের অংশ। এখানে না জিততে পারলে ওরা আপনাকে ছিঁড়েখুঁড়ে খাবে। স্পেনে বিষয়টা এতটা গুরুতর নয়।’

‘আমাদের বিশ্বাস ছিল, আজকের এই দুর্দান্ত মেসির উত্থানকালের সাক্ষী হয়ে থাকবে ২০১০ বিশ্বকাপ। ওটা ছিল মেসির উত্থানের একদম প্রাথমিক পর্যায় মাত্র।’

২০১০ বিশ্বকাপ:
সাউথ আফ্রিকা বিশ্বকাপ আসতে আসতে মেসি ততদিনে তার পাঁচ ব্যালন ডি’অরের প্রথমটি জিতে ফেলেছেন। বার্সেলোনার হয়ে এমন জাদুকরী সব পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তাকে নিয়ে প্রত্যাশার পারদ খুব উঁচুতে উঠে গিয়েছিল ভক্তদের। একমাত্র চাপের জায়গাটা ছিল ডিয়েগো ম্যারাডোনা। যেই লোকটার সাথে তার নিত্য তুলনা হয়, সেই ম্যারাডোনাই যে ডাগআউটে থাকবেন মেসির কোচ হয়ে।

১৯৮৩ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত ম্যারাডোনার ফিটনেস কোচ ছিলেন ফার্নান্দো সিগনোরিনি, ২০১০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফের সদস্যও ছিলেন তিনি। ওই সময়ই মেসির সাথে প্রথম ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ হয় সিগনোরিনির।

‘দুজনই দুজনের গুণমুগ্ধ ছিল। ডিয়েগো যেন মেসির মধ্যে ঠিক নিজের ছায়া দেখতে পেতো, নিজের আদর্শ উত্তরসূরি ভাবতো ওকে। লিও ও ডিয়েগোর খুব গুণমুগ্ধ ছিল।’



তবে দুজনের চরিত্রের মধ্যে বেশ ভালো রকম পার্থক্যই খুঁজে পেয়েছেন সিগনোরিনি, ‘মাঠে খেলার সময় মেসির মনোযোগ একদম অন্য পর্যায়ের। দুর্দান্ত কোনো গোল করা ছাড়া খুশি হলেও ও সেটাকে খুব একটা প্রকাশ করতে চায় না। ব্যাপারটা কিছুটা অদ্ভুত হলেও এটাই ওর চরিত্র।’

তবে যতটা আশা করা হয়েছিল, ঠিক সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি মেসি। তেভেজ, হিগুয়েইন, রিকুয়েলমে, ডি মারিয়াদের পাশে পেয়েও সাউথ আফ্রিকা বিশ্বকাপে গোলের দেখা পাননি মেসি, ‘হ্যাঁ এটা সত্যি যে সাউথ আফ্রিকা বিশ্বকাপে মেসি কোনো গোল করতে পারেনি। কিন্তু ও অনেক সুযোগ তৈরি করেছিল। কম করে হলেও ছয় থেকে আটটি পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করেছিল, কিন্তু যেকোনো কারণেই হোক সেগুলো গোল হয়নি।’

নাইজেরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও গ্রীসের গ্রুপ থেকে সহজে পার পেয়ে গেলেও নকআউট পর্বে এসে দেখা হয় পরিচিত দুই প্রতিপক্ষের সাথে। মেক্সিকোকে হারাতে পারলেও আগের বিশ্বকাপের মতো এবারও জার্মানির কাছে এসে আটকে যায় আর্জেন্টিনা।

‘আমাদের দলটা ভীষণ তরুণ ছিল। বিশ্বকাপে জার্মানির মতো এত শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ দলের কাছে এমন তরুণ ও অনভিজ্ঞ স্কোয়াড নিয়ে পেরে ওঠাটা কঠিনই ছিল।’ জোয়াকিম লো’র জার্মানির কাছে বিধ্বস্ত হয়ে বিদায় নিতে হলো আর্জেন্টিনাকে। মেসির বিশ্বকাপ গল্পটা এবারও অসম্পূর্ণ থেকে গেলো।

২০১৪ বিশ্বকাপ:
ব্রাজিল বিশ্বকাপের আগেই অনেকের চোখে সর্বকালের সেরা ফুটবলারের তকমা লেগে গেছে মেসির গায়ে। চার বছরের ব্যবধানে নিজেকে এমনই উচ্চতায় নিয়ে গিয়ে তুলেছেন, মেসিকে সর্বকালের সেরা হিসেবে মেনে নিতে যাদের এখনো সন্দেহ আছে, এই বিশ্বকাপ জয়ই পারে তাদের সেই সন্দেহ ঘুচিয়ে দিতে।

সিগনোরিনির ভাষ্যমতে, সেই ২০১০ সালেই তারা জানতেন, ব্রাজিল বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে মেসিদের। কারণ তখন তারা আরো অনেক অভিজ্ঞ হবেন, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে যা অমূল্য।

আলেহান্দ্রো সাবেলার কোচিং স্টাফের সদস্য জুলিয়ান কামিনো বললেন, নীরবেই দলকে নেতৃত্ব দেয়ার পন্থা বেছে নিয়েছিলেন মেসি, ‘লিও অনেক লাজুক প্রকৃতির। ওকে অনেক ছবির জন্য পোজ দিতে হয়, ভক্তদের অটোগ্রাফ দিতে হয়, আমার মনে হয় এগুলোতে ও লজ্জা পায়। কিন্তু মাঠে নামা মাত্রই ও সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মানুষ। মাঠে ও বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। একটা ফ্রি কিক, কিংবা অল্প একটু জায়গা পেলেই ও একা হাতে ম্যাচ শেষ করে দিতে পারে। ২০১৪ বিশ্বকাপেই সেটা দেখেছি আমরা।’



মেসির মনোযোগ যেন শুধু মাঠেই থাকে, সেজন্য সম্ভাব্য সবকিছুই করেছে এএফএ, জানালেন কামিনো, ‘আর্জেন্টিনাকে অবশ্যই মেসিকে সুখী রাখতে হতো, কারণ ও বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। মেসির জন্য সেরা সবকিছুর ব্যবস্থা করতে হতো তাদের। সেরা মাঠ, সেরা কাপড়, সেরা প্রস্তুতি, যাতে করে তার ও দলের বাকিদের মনোযোগ শুধু মাঠেই থাকে। আপনার দলে বিশ্বসেরা খেলোয়াড় থাকলে এটুকু তো আপনাকে করতেই হবে।’

‘আমরা ওকে ডান পাশে খেলিয়েছিলাম, যেন বল নিয়ে কাট করে ঢুকলে ওর সামনে শট নেয়ার জন্য পুরো গোলপোস্টটাই থাকে। সাবেলা আরো একজন বা দুইজন ফরোয়ার্ড খেলিয়েছিল, যেন প্রতিপক্ষ মেসিকে পুরো সময় জুড়ে মার্ক করতে না পারে, আর ও আরো ফ্রি হয়ে খেলতে পারে।’ গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করে সমর্থকদের আশান্বিতই করেছিলেন মেসি।

কিন্তু নকআউট পর্বে যেন মেসিকে ঠিক খুঁজে পাওয়া গেলোনা। সুইজারল্যান্ডের সাথে জিততে হলো শেষ মুহূর্তের গোলে, বেলজিয়ামের সাথে হিগুয়েইনের একমাত্র গোলে। সেমিফাইনালে ডাচ বাধা পার করলেন গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরা। ঠিক আর্জেন্টিনাসুলভ না খেললেও সত্য এটাই ছিল যে তারা ফাইনালে পৌঁছে গেছে, অমরত্ব থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন মেসি।

প্রথমার্ধে হিগুয়েইন ও দ্বিতীয়ার্ধে মেসি সহজ দুটো সুযোগ নষ্ট করলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ওই সময় দেখা যায়, পুরো দল এক হয়ে আছে, আর তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিচ্ছেন হাভিয়ের মাশচেরানো। নিয়মিত অধিনায়ক মেসি তখন দূরে, একা দাঁড়িয়ে। এই দৃশ্য নিয়ে মেসির সমালোচনা হয়েছে অনেক, মেসি নাকি দলকে নেতৃত্ব দিতে জানেন না। কামিনো এর ঘোরতর বিরোধিতা করলেন, ‘আমরা একটা বিরতি পেয়েছিলাম, আর বিরতিতে ও নিজের মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করছিল। কেবল একটা গ্রুপ চ্যাটে কথা বলেনি তার মানে এই না যে ও আমাদের নেতা না।’

‘মাশচেরানো আর মেসি সম্পূর্ণ আলাদা রকমের নেতা। মাশচেরানো হয়তো একটু বেশি কথা বলতে পারে, কিন্ত মেসি ওর উপস্থিতি দিয়েই একজন যোগ্য নেতার মতো কাজ করতে পারে।’



তবে মারাকানায় মেসির যে ছবিটি সবচেয়ে বিখ্যাত হয়েছিল, তা বোধহয় পারলে ভুলেই যেতেন মেসি। মারিও গোটশের একমাত্র গোলে হৃদয় ভেঙ্গেছে তার, টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েও পরম আরাধ্য বিশ্বকাপ ট্রফিটির দিকে মেসির সেই চাহনি কীভাবে ভুলবেন তার ভক্তরা! মেসি নিজেও কি পারবেন কোনদিন ভুলতে?

বয়স আর ফর্ম মিলিয়ে এবারই হয়তো লিওনেল মেসির শেষ সুযোগ। পারবেন কি মেসি? পারলে সর্বকালের সেরা হিসেবে নিজের দাবিটা আরেকটু জোরালো করতে পারবেন, আর না পারলে ব্রাজিল বিশ্বকাপের সেই ছবিটিই হয়ে থাকবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে লিওনেল মেসির একমাত্র স্মৃতি!

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

Best Electronics