Alexa লাশ নিয়ে জীবন্ত কফিন একাই নড়াচড়া করছে!  

ঢাকা, সোমবার   ২০ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ৬ ১৪২৬,   ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

লাশ নিয়ে জীবন্ত কফিন একাই নড়াচড়া করছে!  

সাদিকা আক্তার  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৩১ ১৬ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৩:১২ ১৬ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মানুষ মারা যাওয়ার পর কফিনে ভরে কবর দেয়া হয়, অনেক দেশেই এমন প্রচলন রয়েছে। তারপর কি আর কেও খবর নিয়েছে, কফিনের সেই মানুষটি মাটির তলায় নড়াচড়া করছে? এমন খবর শুনলে যে কেেই আজগুবি মনে করতে পারেন! অনেক ধরনের কফিনের কথা শোনা গেলেও এবার শোনা গেছে এক জীবন্ত কফিনের কথা। 

এটি ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপ বারবাডোজের কাহিনী। তবে এই কাহিনীর এই ঘটনা সত্যি সত্যিই ঘটেছে! এটি হচ্ছে ওয়েস্টে ইন্ডিয়ান দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপ বারবাডোজ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে রয়েছে অদ্ভুত এক ভয়াবহ স্থান। আর এই স্থানের ঘটনা মোটামুটি কিংবদন্তীতুল্য। সেটি হচ্ছে এখানে রয়েছে এমন এক শবাগার যেখানকার কফিনগুলো নিজে থেকেই নড়াচড়া করে জায়গা বদল করতো। কোন শক্তিতে কফিনগুলো এমন নড়েচড়ে-তা নিয়ে মাথা ঘামিয়েই যাচ্ছেন গবেষকরা।

চেজ ভল্টকফিন নড়ার ঘটনা ঘটে চেজ ভল্ট নামের এক বিশেষ কবরস্থানে। ব্রিজটাউন থেকে ৭ হাজার মাইল দূরে অবস্থিত বিশাল এই ভল্ট বা কফিন রাখার জায়গা নির্মাণ করা হয় চেজ পরিবার ও তাদের বন্ধুদের জন্য। ১৮০৭ সালের জুলাই মাসে হাজার থমাসিনা গডডার্ড মারা গেলে তার দেহ একটি সাধারণ কাঠের কফিনে ঢুকিয়ে এই ভল্টে রেখে দেয়া হয়। এর কয়েক বছর পরেই মাত্র ২ বছরের মেরি অ্যান চেজকে এই ভল্টে সমাহিত করা হয় আরেকটি কফিনে। 

১৮১২ সালে ৬ জুলাই মেরির বড় বোন ডকরাস চেজ মারা যায়, তাকে ও ভল্টে ঢোকানো হয়। কেউ কেউ বলেন, বাবার সঙ্গে ঝগড়া করে হতাশায় ডকরাস খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেন আর এতেই তার মৃত্যু হয়। এর কিছুদিন পরেই মেরি আর ডকরাসের বাবা থমাস চেজও মারা যান। যিনি ছিলেন বারবাডোজের সবচেয়ে ঘৃণ্য ব্যক্তি।

যখন থমাসকে সমাহিত করার জন্য সেই বিশেষ ভল্ট খোলা হলো, শেষকৃত্যানুষ্ঠানে আগত সবার মাথায় যেন বজ্রপাত হলো। এর আগে যে কফিনগুলো ভল্টের ভেতরে যেখানে রাখা হয়েছিল, সেগুলোর আর কোনোটিই সেখানে নেই। সবার ধারণা এটা নিশ্চয়ই কোনো ডাকাতদলের কাজ। ভল্টে মূল্যবান কিছু আছে ভেবে লুট করার উদ্দেশ্যে ঢুকেছিল আর খোঁজাখুঁজির সময় কফিনগুলো নাড়াচাড়া করেছিল।

এই ভল্টের মধ্যেই রাখা হত কফিনে আবৃত লাশসমস্যা হচ্ছে, ভল্টের ছিল একটি মাত্র ঢোকার পথ। এ পথে বিশাল এক পাথরের স্ল্যাব বসানো হয়েছিল। আর এটি এতটাই ভারী ছিল যে প্রতিবার এটি সরানোর জন্য প্রচুর লোকজনের দরকার হতো। সেই সময় এটাও ধারণা করা হয়েছিল যে, কোনোভাবে হয়তো কবর খননকারীদের কারণে কফিনগুলো নড়ে গিয়েছিল। যাই হোক, এরপর সরে যাওয়া কফিনগুলোকে আবার জায়গা মতো রেখে দেয়া হলো। আর নতুন যুক্ত হলো থমাসের কফিন। এরপর ভল্টের মুখ আবার আগের মতো বন্ধ করে দেয়া হলো।

১৮১৬ সালের ২৫সেপ্টেম্বর। ভল্ট এবার খোলা হলো ১১ বছর বয়সী চার্লস ব্রিউস্টার এমিসকে সমাহিত করতে। যথারীতি একই কান্ড। প্রতিটি কফিনকে যেন জায়গা থেকে তুলে দূরে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে। এমনকি থমাসকে বহনকারী কফিনের ওজন ছিল ২৪০ পাউন্ড, সেটাকে ও তার অবস্থান থেকে পাওয়া গেল অনেক দূরে! হতভম্ব অবস্থায় সবাই কফিনগুলোকে আবার আগের জায়গায় রেখে দিলো।

প্রতিবারই কফিনগুলো এভাবে নড়ে অন্য জায়গায় যেত৫২ দিন পর, এবার স্যামুয়েল ব্রিউস্টারকে সমাহিত করার জন্য ভল্ট খোলা হলো। এবার সেই জায়গাটি লোকে-লোকারণ্য। সবার সামনে পাথরের স্ল্যাব খুলে ভল্টের একমাত্র প্রবেশদ্বার উন্মুক্ত করা হলো। যথারীতি কফিনগুলো আবার তাদের নিজেদের জায়গায় নয়, অন্য জায়গায় পাওয়া গেল। এছাড়া বোর্ডে প্রথম সদস্য মিসেস থমাসিনা গডডার্ডের কাঠের কফিনটি পাওয়া গেল ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায়। এটাকে তার দিয়ে বেঁধে রাখা হলো। বেশ কয়েকজন তদন্তকারী যাদের মাঝে রেভারেন্ড থমাস ওডারসন ও ছিলেন,ভল্টের ভেতরও কফিনগুলো পরীক্ষা করে দেখলাম। অস্বাভাবিক কিছু না পাওয়াতে ভল্ট পরিষ্কার করে আবার বন্ধ করা বন্ধ করে দেয়া হয়। 

১৮১৯ সালের ১৭ জুলাই। আরো একবার ভল্ট খোলা হলোও যথারীতি কফিনগুলোকে এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেল। শুধু মিসেস থমাসিনার ভগ্নপ্রায় কফিনটি নিজের জায়গাটা ছিল। দ্বীপের গভর্নর লর্ড কম্বারমেয়ারের নির্দেশে তদন্ত করলো হলো। কফিনগুলোকে আবার নিজেদের জায়গা আনা হলো আর ভল্টের মেঝেতে বালি ছড়িয়ে দেয়া হলো। কে কফিনগুলো নাড়াচ্ছে তার পায়ের ছাপ নেয়ার জন্য।

উপর থেকে চেজ ভোল্ট১৮২০ সালের ১৮ এপ্রিল। এবার সরকারি নির্দেশে ভল্ট খোলা হলো। এবার দেখা গেল কফিনগুলো জায়গা থেকে শুধু নড়েই যায়নি, বেশ কয়েকটি কফিন পুরো উল্টো গিয়েছে! আর মেঝেতে যে বালি ফেলা হয়েছিল, তাতে কারো পায়ের ছাপ নেই! এরপর কফিনগুলো দ্রুত সরিয়ে অন্যত্র সমাধিস্থ করা হলো। গত ৩০০ বছর ধরে এই ভল্ট খালি পড়ে আছে। কারো মতে, এগুলো গুজব। 

তবে ইতিহাস ঘেঁটে তখনকার বারবাডোজে চেজ পরিবারের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। আর সেই ভয়াবহ ভল্ট এখনও দাঁড়িয়ে আছে সেখানেই। বহু পর্যটক এখনো এখানে আসেন সেই ইতিহাসখ্যাত কাহিনীর সেই সমাধিস্থল দেখতে। তবে যাদের বেশি সাহস রয়েছে তারাই কেবল সেখানে যেতে পারেন। ভিতুদের জন্য সেখানে না যাওয়ায় ভালো।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস