লাশ নিয়ে কাড়াকাড়ি!

ঢাকা, রোববার   ১৬ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ২ ১৪২৬,   ১১ শাওয়াল ১৪৪০

লাশ নিয়ে কাড়াকাড়ি!

জালালউদ্দিন সাগর, চট্টগ্রাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০২:৪৫ ১২ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৬:৩৩ ১২ জুন ২০১৯

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে লাশ বের হওয়ার আগেই সে লাশ নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে যায়। কে কার গাড়িতে (লাশ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স) তুলবেন। একই অবস্থা হাসপাতাল থেকে বদলি বা ডিসচার্জ হওয়া রোগীর বহনের ক্ষেত্রেও। সেই সঙ্গে লাশ বা রোগী বহনের ক্ষেত্রে ধরাবাধা ভাড়ার কোনো নিয়ম মানছে না অ্যাম্বুলেন্স চালকরা।

সরজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগী মারা গেলে সে তার লাশটি বাড়িতে বা গন্তব্যে পৌঁছে দিতে ওয়ার্ডের মধ্যেই টানাটানি শুরু হয়। কে কার আগে লাশের প্রতিনিধিকে বাগিয়ে লাশ অ্যাম্বুলেন্সে তুলবেন সে নিয়ে চলে প্রতিযোগিতা।

লাশ বা রোগী বাগিয়ে নিতে শ’খানেক অ্যাম্বুলেন্সের দালাল  বা চালক নিজেই ঘোরাফেরা করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে। কমিশনের ভিত্তিতে দালাল হিসেবে কাজ করে স্থানীয় কিছু যুবক, চমেক  ওয়ার্ড বয় বা কর্মচারীরা। যে চালক বা অ্যাম্বুলেন্সের মালিক বেশি কমিশন দেয় তাদের অ্যাম্বুলেন্সে রোগী যেতে বাধ্য করে ঐ সব দালাল। আর সে কমিশন দিতে গিয়ে রোগী বা লাশের প্রতিনিধির কাছ থেকে আদায় করা হয় অতিরিক্ত ভাড়া।

চালকদের ভাড়া নৈরাজ্য ঠেকাতে জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া মাইলপ্রতি নির্ধারিত করে দিলেও সে নিয়ম মানছে না কেউ। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকার পরও সে নীতিমালার তোয়াক্কা না করে যে যার মতো ভাড়া হাকাচ্ছে অ্যাম্বুলেন্সের।

বিষয়টি যাচাই করার জন্য রোগীর আত্মীয় সেজে ফোন করা হয় কয়েকজন অ্যাম্বুলন্সে চালককে। চমেক থেকে কাপ্তাই যাওয়ার অ্যাম্বুলেন্স (এসি) ভাড়া কত জানতে চাইলে কেউ হাঁকান সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার। আবার কেউ বলেন সাড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৪ হাজার। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্ধানিত ভাড়া হলো ৩ হাজার ১২৫টাকা।

চমেক থেকে পটিয়া সদর যাওয়ার ভাড়া জানতে চাইলে, কেউ বলেন তিন হাজার থেকে থেকে সাড়ে তিন আবার কেউ চান আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। চমেক থেকে পটিয়ার নিধারিত ভাড়া হচ্ছে ১হাজার ৫শ’ টাকা।

অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাম্বুলন্সে চালক মো.শাহজাহান জানান, শহরের বাইরে গেলে চমেকের নির্ধারিত ভাড়ার সাথে অতিরিক্ত ১৫শ’ টাকা যোগ করতে হয়। ১৫শ’ টাকা অতিরিক্ত নেয়া হয় কেন জানতে চাইলেও উত্তর দেননি তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ডিসি মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, আমি চট্টগ্রামে যোগ দেয়ার পর ভাড়া নির্ধারণ করা হয়নি। আগে হয়েছে কি না সে বিষয়টি আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের সরকারি মোবাইলে ফোন করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম