লাভ বেশি হওয়ায় ঝুঁকছেন ফুল চাষে

ঢাকা, বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ১৮ ১৪২৬,   ০৭ শা'বান ১৪৪১

Akash

লাভ বেশি হওয়ায় ঝুঁকছেন ফুল চাষে

এবিএম ছাত্তার, গাইবান্ধা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২৬ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

অন্য যেকোনো ফসলের চেয়ে ফুল চাষে লাভবান হওয়ায় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের কৃষকরা ফুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ২০১৪ সালে মাত্র ২২ শতক জমি দিয়ে ফুল চাষ শুরু। বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হচ্ছে। একজনের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্যরাও ফুল চাষে ঝুঁকছেন।

উপজেলার ইদিলপুর ইউপির তাজনগর গ্রামের কৃষক মোখলেছুর রহমান বিপ্লব। ২০১৪ সালের মার্চ মাসের শেষের দিকে উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে মাত্র ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে যশোর থেকে ২৫ হাজার গোলাপের চারা সংগ্রহ করেন। পরে সেই চারা ২২ শতক জমিতে রোপণ করেন। এতে খরচ হয় ১০ হাজার টাকা। 

এর পাঁচ মাস পর আগস্ট মাস থেকে প্রতিদিন দুই হাজার টাকা করে গোলাপ ফুল বিক্রি শুরু করেন। সেই থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বিপ্লব এখন তিন বিঘা জমিতে চাষ করছেন গোলাপ ফুল। প্রতি মাসে তিনি এখন দেড় লাখ টাকার ফুল বিক্রি করেন। সব খরচ বাদে তার মাসিক আয় ৮৫ হাজার টাকা।

মোখলেছুর রহমান বিপ্লব জানান, প্রথম দিকে ফুল বিক্রি করতে বেশ বেগ পেতে হয়। গাইবান্ধা শহরের কয়েকটি ফুলের দোকানদারই ছিলো একমাত্র ক্রেতা। কিন্তু এখন রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, বগুড়াসহ উত্তরের প্রায় জেলা শহরে যাত্রীবাহী বাসের ছাদে করে ফুল যায়।

তিনি আরো জানান, বাগান থেকে ফুল ওঠানোর পর গোছা বেঁধে তাতে ঠিকানা ও ফোন নম্বর লিখে পলাশবাড়ী থেকে বাসে তুলে দিলেই যথাস্থানে চলে যায়। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টাকা হাতে চলে আসে। ফলে ফুল বিক্রি নিয়ে আর কোনো ঝামেলা নেই।

আমার ফুল চাষ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে গ্রামের আনিছুর রহমান, পাশের চকনদী গ্রামের মোস্তাফিজার মিয়া ও সবুজ মিয়া, রাঘবেন্দ্রপুর গ্রামের আশরাফুল ইসলাম, মহিপুর গ্রামের আমিনুর রহমান, গোবিন্দ্ররায় দেবত্তর গ্রামের শাহিন মিয়াসহ অন্যরা ফুল চাষ শুরু করেন। এ ইউপির এখন প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে চাষ হচ্ছে গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদা ও গ্লাডিওলাস ফুল।

রাঘবেন্দ্রপুর গ্রামের আশরাফুল ইসলাম বলেন, ধান, পাট, সবজি ও বিভিন্ন রবি ফসল চাষের চেয়ে ফুল চাষ লাভজনক। পরিশ্রম কমের পাশাপাশি বিনিয়োগও কম করতে হয়। একবার গোলাপ চারা লাগালে টানা দশ বছর ধরে ফুল পাওয়া যায়।

গোবিন্দরায় দেবত্তর গ্রামের ফুল চাষি শাহিন মিয়া জানান, অন্য ফসলের মতো ফুল চাষে তেমন ঝুট-ঝামেলা নেই। তাই অল্প পুঁজি আর স্বল্প পরিশ্রমে অনেক বেশি লাভের জন্য রাঘবেন্দ্রপুর গ্রামের আশরাফুল ইসলামের মতো অন্যরাও ফুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। আর এজন্য কৃষি বিভাগের সহায়তা চান তারা।

চকনদী গ্রামের মোস্তাফিজার মিয়া তিন বিঘা জমিতে গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস ও গাঁদা ফুলের চাষ করেন। তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে মাত্র ২০ হাজার টাকা খরচ করে রজনীগন্ধা চাষ করেছেন। তা থেকে গত এক বছরে এক লাখ টাকার ফুল বিক্রি করেছেন। আরো দুই বছর একই পরিমাণ টাকা পাওয়া যাবে। এছাড়া দুই হাজার টাকা খরচ করে ১৫ শতক জমিতে গ্লাডিওলাস চাষ করে মাত্র তিন মাসে ৩০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন।

গাইবান্ধা শহরের ফুল ব্যবসায়ী নয়ন মিয়া বলেন, আগে যশোর থেকে ফুল নিয়ে আসতে হতো। এতে খরচ বেশি হতো এবং অনেক ফুল নষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু এখন আমরা যে ফুল পাই, তা অনেক দিন তাজা থাকে এবং আমাদের ক্ষতিও কম হয়।

সাদুল্লাপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তানজিমুল হাসান বলেন, ফুল চাষের পরিচর্যায় মাঝে মাঝে সামান্য সার প্রয়োগ করতে হয়। কিন্তু প্রতিদিন নগদ টাকা কৃষকের হাতে আসে। ফলে দিন দিন ফুল চাষের দিকে এই উপজেলার কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খাজানুর রহমান জানান, উপজেলায় প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে ইদিলপুরে ২৫ বিঘা, রসুলপুরে দুই বিঘা ২০ শতক ও বনগ্রাম ইউপিতে দুই বিঘা ১০ শতক। এর মধ্যে গোলাপ ৫৯০ শতক, গ্লাডিওলাস ২০৫ শতক, রজনীগন্ধা ৯০ শতক ও গাঁদা ফুল ১০০ শতক জমিতে চাষ হচ্ছে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর