লাবণ্যের মৃত্যুতে উবারের গাফিলতি পেয়েছে পুলিশ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

লাবণ্যের মৃত্যুতে উবারের গাফিলতি পেয়েছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০৩ ২৮ এপ্রিল ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

উবারের মোটরসাইকেলে চড়ে ক্লাসে যাওয়ার সময় কাভার্ড ভ্যান চাপায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহমিদা হক লাবণ্য নিহতের ঘটনায় উবার কর্তৃপক্ষের গাফিলতি পেয়েছে পুলিশ। 

রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার। 

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সময় উবারের মোটরসাইকেল চালক সুমন যাত্রী ফাহমিদাকে নিয়ে বেপরোয়া গতিতে চালাচ্ছিলেন। এমনকি দুর্ঘটনার পর দায় এড়াতে মোবাইল ফোনও বন্ধ করে পালিয়ে যান সুমন। কিন্তু চালককে খুঁজে পেতে উবার কর্তৃপক্ষের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য চাওয়া হলেও তারা কোনো সহযোগিতা করেনি। তাছাড়াও ওই ঘটনায় অসহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উবারের গাফিলতি রয়েছে।

তিনি বলেন, চালক সুমন উবারে রেজিস্ট্রেশনের সময়ও ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন। উবারের এসব গাফিলতির কারণে সুমনকে খুঁজে পেতে বেগ পেতে হয়েছে। ঘটনার বিস্তর তদন্তে যাদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদের সবাইকেই আইনের আওতায় আনা হবে।

বিপ্লব কুমার বলেন, হাসপাতালে উবারের বাইকচালক সুমন যে ঠিকানা দিয়েছিলেন সেই ঠিকানা ভুয়া। এমনকি তার নম্বরটি দিয়ে যে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে সেটাও ভুয়া। এসব ঠিকানায় তাকে পাওয়া যায়নি। উবারে রেজিস্ট্রেশনের জন্য সুমন যে ঠিকানা দিয়েছেন তাও ভুয়া। তাই তাকে কোথাও পাওয়া যায়নি। উবারে ভুয়া ঠিকানা দিয়ে রাইডার নিবন্ধন করে সড়কে বাইক চালানোর অনুমতি পায়। এটা দেখার কেউ নেই। রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলো কোনো যাচাই বাছাই ছাড়াই চালকদের অনুমতি দিচ্ছে। এসব চালক দক্ষ না, মাদকসেবী কেউ কেউ। নারীদের বাইকে তুলে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হঠাৎ হঠাৎ বাইকে ব্রেক ধরে। এগুলো মনিটরিং করে না রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলো। তাদের আরোহীদের জন্য নিম্নমানের হেলমেট দেয়া হয়। এসব দ্রুত ঠিক করতে হবে।

গত সপ্তাহে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের মোটরবাইক থেকে পড়ে নিহত হন ২১ বছর বয়সী লাবণ্য। তিনি বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ও ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ইমদাদুল হকের মেয়ে। দুর্ঘটনার দিন তিনি রাজধানীর শ্যামলীর বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছিলেন।

শনিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ঢাকার আশুলিয়ার বাইশমাইল এলাকা থেকে কাভার্ডভ্যানসহ চালক আনিসুর রহমানকে আটক করে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের একটি দল। আনিসুরের বাড়ি দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার আশিনপাড়ায়। এর আগে শুক্রবার মোটরসাইকেলচালক সুমনকে মোহাম্মদপুর থেকে আটক করে পুলিশ।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/টিআরএইচ