লাই ডিটেক্টিং পরীক্ষায় টেক্কা দিবেন যেভাবে...

ঢাকা, বুধবার   ২৬ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১৩ ১৪২৬,   ২২ শাওয়াল ১৪৪০

লাই ডিটেক্টিং পরীক্ষায় টেক্কা দিবেন যেভাবে...

রাজ চৌধুরী

 প্রকাশিত: ১৩:৩৩ ১২ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৩:৩৩ ১২ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পলিগ্রাফিক টেস্ট বা লাই ডিটেক্টর টেস্ট অপরাধীকে শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। এর দ্বারা কে মিথ্যা বলতে তা সহজেই নির্ণয় সম্ভব! এই পলিগ্রাফিক টেস্টকে সহজে বলা যায়, কোনো প্রশ্নের প্রতি একজনের রক্তচাপের পরিবর্তন কিংবা তার শ্বাস-প্রশ্বাসের পরিবর্তন বা সেই ব্যক্তির শরীর বিশেষ করে হাতের তালু ঘামছে কিনা এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে সত্য-মিথ্যা আলাদা করা। মিথ্যা বলতে গেলে মানুষের মানসিক অবস্থা কিছুটা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যায়। তবে এই লাই ডিটেক্টরের নির্ভুলতা কতটা যথার্থ তা নিয়ে ভাববার বিষয় থেকেই যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স এবং মার্কিন সাইকোলজিকাল এসোসিয়েশন এ নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যত যাই হোক না কেন এই লাই ডিটেক্টর টেস্ট এখনো বিভিন্ন সন্দেহভাজন অপরাধীকে পরীক্ষা করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

যখন কোনো ব্যক্তিকে লাই ডিটেক্টর টেস্টে সবগুলো প্রশ্নের সত্য জবাব দিতে বলা হয় তখন যারা সত্যি কোনো অপরাধ করেননি তারা নির্দ্বিধায় সকল প্রশ্নের উত্তর সহজভাবে দিয়ে দেন আবার যেসব ব্যক্তিরা অপরাধী তারা নিজেদের কৃতকর্ম নিয়ে চিন্তা করেন এবং মিথ্যা বলতে গেলে তাদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন দিয়ে তাদের এই মিথ্যাকে ধরা যায়। তবে এই যন্ত্রটিকে বোকা বানানো অসম্ভব কিছু না। তবে এই বিষয়টি জানার পূর্বে জানতে হবে কীভাবে লাই ডিটেক্টর যন্ত্রটি কাজ করে? মস্তিষ্ক আমাদের সকল কার্যক্রমের উৎস, আমরা কী করবো বা বলবো এ সবকিছুই এর অন্তর্গত। যখন আমরা কোনো কিছু বলতে চাই তখন ব্রেইন সেটা আগে প্রসেস করে নেয় এবং তারপর তা মুখের মাধ্রমে প্রকাশ পায়।

লাই ডিটেক্টরের খেলাটাও ব্রেইন এর সঙ্গে পরোক্ষভাবে সম্পর্কিত। আগেই যেমনটা বলেছিলাম এই মেশিন মূলত প্রশ্নের জবাবের সময় আমাদের রক্তচাপ, শ্বাস-প্রশ্বাসের অবস্থা, শরীর ঘামছে কিনা বা কতটুকু এসব কিছুই মনিটর করে থাকে। আর এই টেস্টে প্রশ্নের জবাব দিতে হয় মূলত হ্যাঁ বা নাতে। এ টেস্টটি করার সময় প্রশ্নকর্তা প্রাসঙ্গিক ও অপ্রাসঙ্গিক দু’ধরনের প্রশ্ন করে থাকেন। প্রাসঙ্গিক ও অপ্রাসঙ্গিক সব ধরনের প্রশ্ন শুরুতে করে নেয়া হয়। এর কারণ যাকে প্রশ্ন করা হবে তার স্বাভাবিক প্যারামিটার কেমন তা জেনে নেয়া। এই প্যারামিটারের ভিত্তিতেই বিবেচনা করা হয়, ব্যক্তিটি আসলে সত্য বলছে নাকি মিথ্যা। এই প্যারামিটার সেট করার জন্য প্রশ্নকর্তা যার ওপর টেস্ট টি করা হচ্ছে তাকে কিছু প্রশ্ন করেন এবং একইসঙ্গে তাকে বলে দেন যেন তিনি সত্য ও মিথ্যা দু’ধরনের উত্তরই দেন। এ ধরনের একটি টেস্ট সম্পন্ন হতে মূলত ১ থেকে ৩ ঘন্টা সময় লাগে।

লাই ডিটেক্টরকে টেক্কা দেয়ার উপায়

এই যন্ত্রটিকে বোকা বানানোর বিভিন্ন উপায় ইন্টারনেটে দেয়া আছে। আপনি গুগল করলেও এর বিভিন্ন ধরনের উপায় পেয়ে যাবেন। কিন্তু এসকল উপায়ের মধ্যে কার্যকর উপায় হাতেগোনা কয়েকটি। বেশ কিছু উপায় ঠিকভাবে কাজ করেনা। ভালো একটি উদাহরণ হিসেবে বলা যায় আপনি যদি আপনার জিহ্বাতে কামড় দিয়ে ব্যথা অনুভব করার মাধ্যমে আপনার রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণ করেন তারপরেও এই উপায়ে আপনি লাই ডিটেক্টর যন্ত্রকে বোকা বানাতে পারবেন না। এর কারণ হচ্ছে যদিও এতে করে আপনি রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণ করছেন কিন্তু আপনার নিঃশ্বাসের হার আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে যায়। তাছাড়াও আপনি যদি নিজে থেকে মনে মনে জোর দিয়েও ভাবেন আপনি সত্য বলার সময়ও সেটি মিথ্যা কিংবা মিথ্যা বলার সময় সে ঘটনাটি সত্য এটিও কোনো কার্যকরী উপায় না। তবে এতকিছুর পরো আপনি দু’টি উপায়ে লাই ডিটেক্টর কে টেক্কা দিতে পারেন।

১) আপনি যদি লাই ডিটেক্টরকে সত্যিই বোকা বানাতে চান তাহলে আপনাকে যেটা প্রথমে করতে হবে সেটা হচ্ছে পুরো টেস্ট চলাকালীন সময়ে বিষন্ন এবং ভীত থাকা। এর পাশাপাশি আপনি কোনো উত্তর সত্যি সত্যি জেনে থাকলেও বিভ্রান্ত বোধ করুন। তবে বাইরে থেকে আপনাকে এমন ভাব নিতে হবে যেন আপনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছেন। এজন্য আপনি যেটা করতে পারেন সেটা হচ্ছে আপনার আগের কোনো তিক্ত অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ভাবুন কিংবা জটিল কোনো গাণিতিক সমস্যা নিয়ে চিন্তা করুন। এর ফলে আপনি বিভ্রান্ত থাকার পাশাপাশি বিষন্নতা বোধ করবেন। আরো একটু সহজ উপায় হচ্ছে আপনাকে কোনো প্রশ্ন করা হলে সেটি সম্পর্কে যদি আপনি ভয় পেয়ে থাকেন তাহলে প্রত্যেকটি প্রশ্ন কী সেই প্রশ্ন ভেবে জবাব দিতে পারবেন।

২) যেকোনো প্রশ্ন আপনাকে করা হোক না কেন আপনাকে যেটা করতে হবে সেটা হচ্ছে আপনি বেশ খানিকটা সময় নিন। আপনাকে ভেবে দেখতে হবে প্রশ্নটা প্রাসঙ্গিক নাকি অপ্রাসঙ্গিক? অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন হচ্ছে আপনার নাম কি কিংবা যে রুমে আপনাকে পরীক্ষা করা হচ্ছে সেই রুমের বাতি জ্বালানো আছে নাকি নেভানো। অন্যদিকে, আপনাকে যদি অপরাধী হিসেবে ধরে এনে লাই ডিটেক্টর টেস্ট করানো হয় তাহলে একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন হতে পারে আপনি কি অপরাধের সঙ্গে জড়িত ইত্যাদি। এজন্য আপনাকে প্যারামিটার সেটের সময় বেশ খানিকটা স্মার্ট হতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস