Exim Bank
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৯ জুন, ২০১৮
Advertisement

লাইলাতুল কদর এবং এর নিদর্শন

 নিউজ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৫০, ১২ জুন ২০১৮

আপডেট: ১২:৫৪, ১২ জুন ২০১৮

৮৬৫ বার পঠিত

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

‘লাইলাতুল কদর’ এ রাতে মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআন নাজিল করেছেন। আর এ রাতের ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-

سورة القدر:

إِنَّآ أَنزَلۡنَـٰهُ فِى لَيۡلَةِ ٱلۡقَدۡرِ
وَمَآ أَدۡرَٮٰكَ مَا لَيۡلَةُ ٱلۡقَدۡرِ
لَيۡلَةُ ٱلۡقَدۡرِ خَيۡرٌ۬ مِّنۡ أَلۡفِ شَہۡرٍ۬
تَنَزَّلُ ٱلۡمَلَـٰٓٮِٕكَةُ وَٱلرُّوحُ فِيہَا بِإِذۡنِ رَبِّہِم مِّن كُلِّ أَمۡرٍ۬
سَلَـٰمٌ هِىَ حَتَّىٰ مَطۡلَعِ ٱلۡفَجۡرِ

বাংলা উচ্চারণ:
ইন্না আনযালনাহু ফী লাইলাতিল কাদরি, ওয়ামা আদরাকা মা লাইলাতুল কাদরি, লাইলাতুল কাদরি খাইরুম মিন আলফি শাহর, তানাযযালুল মালাইকাতু ওয়াররূহ, ফিহা বিইযনি রাব্বিহিম মিন কুল্লি আমরিন, সালামুন হিয়া হাত্তা মাতলাইল ফাজর।

> আমি একে (কোরআন) অবর্তীণ করেছি লাইলাতুল কদরে।

> (হে রাসূল!) আপনি কি লাইলাতুল কদর সম্বন্ধে জানেন?

> লাইলাতুল কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।

> তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে এতে (এ রাতে) প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ এবং রূহ (জিবরিল আলাইহিস সালাম) অবর্তীণ হন।

> শান্তিময় সেই রাত; যা ফজর উদয় পর্যন্ত অব্যহত থাকে। (সূরা কদর)

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিমান্বিত রাত কদর তালাশে রমজানের প্রতম ১০ দিন ইতেকাফে বসেন। অতঃপর দ্বিতীয় ১০ দিন ইতেকাফে বসেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা ওহির মাধ্যমে প্রিয় নবীকে জানিয়ে দেন, এ তাৎপর্যপূর্ণ রাত শেষ দশকের বেজোড় রাতে রয়েছে। আর তা হলো ২১, ২৩,২৫, ২৭ ও ২৯তম রাত।

যদিও ২৬ রমজান দিবাগত রাত অর্থাৎ ২৭ তারাবিহ রাতে লাইলাতুল কদর হয়ে থাকে বলে অনেকে এ রাতে ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন।

আবার অনেকে ২১ রমজানের রাতকে পবিত্র কোরআন নাজিলের রাত মনে করে সে রাতকেই লাইলাতুল কদর হিসেবে পালন করে থাকেন।

মূল কথা হলো-
লাইলাতুল কদর রয়েছে শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে। এ রাতের রয়েছে কিছু উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। যে নিদর্শনগুলো দেখে সহজেই এ পবিত্র রাতকে চিহ্নিত করা যায়। আর তাহলো-

> লাইলাতুল কদরে পৃথিবীতে অধিক সংখ্যক ফেরেশতার আসা-যাওয়ার কারণে সূর্য তাদের পাখার আড়াল পড়ে যায়। যার ফলে সে রাতে সুর্যের তাপ থাকে কম। আর রাতটি হয় আলোকোজ্জ্বল। যা সাধারণত অন্য রাতে এত বেশি আলোকিত হয় না।

> অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানসহ প্রতিটি স্থানকেই মনে হয় যেন স্বর্গীয় আলোয় আলোকিত।

> রমজান মাসে যারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সামথ্য হয়েছে; তারা এ রাতে ফেরেশতাদের সালাম শুনতে পায়।

> এ রাতের শ্রেষ্ঠ আলামত হলো, আল্লাহ তাআলা এ রাতের বান্দার দোয়া কবুল করেন।

> এ পবিত্র রাতের শেষ ভাগে হালকা রহমতের বৃষ্টি বর্ষিত হয়।

আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি বলেন-
> এ রাতের একটি বিশেষ নিদর্শন হলো- সৃষ্টি জীবের প্রতিটি বস্তুকেই সেজদারত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।

এ রাতের সুস্পষ্ট নির্দশন হলো-

লাইলাতুল কদরের রাতের ইবাদতে মুমিন মুসলমান তাদের অন্তরে অন্যরমক প্রশান্তি লাভ করে। বিশেষ করে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতে তারা খুব আনন্দ পায়।

লাইলাতুল কদর লাভে আজকের রাতের করণীয়-
চলছে ২৬ রমজান। আজ সন্ধ্যা থেকেই শুরু হবে বহুল আকাঙ্ক্ষাতি লাইলাতুল কদরের রাত হিসেবে পরিচিত ২৭ রমজানের রাত। যদিও প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন, “শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ কর। লাইলাতুল কদর লাভে রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফে অংশগ্রহণ কর।”

তথাপিও মুসলিম উম্মাহর কাছে ২৭ রমজানের রাতের এক বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। শবে কদর আগে পরে যেদিনই হোক মুসলিম উম্মাহ ২৭ রমজানের রাতে সবচেয়ে বেশি ইবাদত বন্দেগি করে থাকে। আবার এ রাতে লাইলাতুল কদর পাওয়ার সম্ভাবনাও কম নয়।

সারা দুনিয়ার মুমিন মুসলমান এ রাতকেই লাইলাতুল কদর ভেবে সারা রাত জেগে থাকে। নামাজ, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতসহ যাবতীয় ইবাদত-বন্দেগিতে সারারাত কাটিয়ে দেন।

আরো পড়ুন>>> দরূদ পাঠে বিশেষ কল্যাণ ও নেকি

সুতরাং মুসলিম উম্মাহর জন্য এ রাতের কিছু করণীয় সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

>> লাইলাতুল কদর সন্ধান করা:
পবিত্র লাইলাতুল কদরের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো রাতকে নির্ধারণ করা না হলেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রমজানের শেষ ১০ দিনের বিজোড় রাতে ‘লাইলাতুল কদর’ তালাশ কর।

এ রাতে পবিত্র কোরআন নাজিলের সম্মানার্থে মহান আল্লাহ ঘোষণা দিলেন- ‘লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। সুতরাং পবিত্র কোরআন নাজিলের রাতে পবিত্র কোরআনকে বাস্তবজীবনে বাস্তবায়ন করার অঙ্গীকার গ্রহণের পাশাপাশি বিশ্ব নবীর সুন্নতের পরিপূর্ণ অনুসরণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করাই হবে লাইলাতুল কদরের সেরা প্রাপ্তি।

>> গোনাহ মাফ চাওয়া:
এ রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মহান আল্লাহর নিকট গোনাহ মাফের দোয়া শিখিয়েছিলেন। তাই উম্মতে মুহাম্মাদির উচিত প্রিয় নবী (সা.) এর শেখানো দোয়ার মাধ্যমে গোনাহ মাফের জন্য তাওবা করা। দোয়াটি হলো-

اَللَّهُمَّ اِنَّكَ عَفُوُّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُوْ عَنَّا

উচ্চারণ :
আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আ`ফুওয়ুন; তুহিব্বুল আ`ফওয়া; ফা`ফু আন্না।’

অর্থ :
হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালো বাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

>> কল্যাণের আবেদন
লাইলাতুল কদর যেহেতু হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম রাত। তাই বান্দার জন্য এ রাতের হক বা অধিকার হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভের পাশাপাশি মানুষের দুনিয়ার জীবনে সুখ-শান্তির আবেদন-নিবেদন আল্লাহর দরবারে পেশ করা। যাতে এ রাতে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য সর্বোত্তম ভাগ্য নির্ধারণ করেন। দুনিয়ার যাবতীয় কল্যাণ দান করেন।

রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে মহান আল্লাহ তাআলার ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করলে এ মর্যাদার রাতের সন্ধান পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে লাইলাতুল কদর পাওয়ার জন্য কোনো প্রকার নিদর্শন প্রকাশ পাওয়া আবশ্যক নয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে লাইলাতুল কদরে যথাযথ ইবাদত বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন। লাইলাতুল কদরে রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাত দান করুন। আমিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

সর্বাধিক পঠিত