Alexa লাইন হাসপাতাল ছাড়ালেও ডাক্তারের দেখা নেই

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৫ ১৪২৬,   ২০ মুহররম ১৪৪১

Akash

চাঁদপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল

লাইন হাসপাতাল ছাড়ালেও ডাক্তারের দেখা নেই

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০০ ৮ জুন ২০১৯   আপডেট: ০৭:৫৩ ৯ জুন ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ডাক্তারদের ইচ্ছামতো চলছে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা সরকারি জেনারেল হাসপাতালটি। সকাল থেকে রোগীদের লম্বা লাইন হাসপাতাল ছাড়ালেও সময় মত কোনো ডাক্তারেরই দেখা মেলে না। এছাড়া ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও দালালদের উৎপাত নিত্যদিনের ঘটনা। কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে সদর হাসপাতালটি অনিয়মে জর্জরিত হয়ে পড়েছে।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা সময় মত ডাক্তারের উপস্থিতি না পেয়ে পড়ছেন দালালদের খপ্পরে। এর ফলে সরকারি এ হাসপাতালের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অসহায় রোগীরা। সরকার চিকিৎসকদের যথাসময়ে কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশনা দিলেও মানছেন না ডাক্তাররা। আর যারা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে ভর্তি হচ্ছেন, শয্যা সংকটে অনেকেই মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে শুধু যে এ জেলার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন তা নয়, এখানে প্রতিনিয়ত পাশ্ববর্তী শরিয়তপুর, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার গরীব-অসহায় রোগীরা কম খরচে চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন। ফলে সরকারি চিকিৎসার এই প্রতিষ্ঠানটি পাশের জেলাগুলোর কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। অথচ হাসপাতালটিতে চিকিৎসক সংকট বেশ প্রকট আকার ধারণ করেছে।

শুধু তাই নয়, হাসপাতালের চারপাশ এবং প্রত্যেক ওয়ার্ডে নোংরা পরিবেশে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন রোগীরা। হাসপাতালের নিচতলা অতিপ্রয়োজনীয় জরুরি বিভাগ, গাইনী ওয়ার্ড, ২য় তলার পুরুষ ওয়ার্ড, ৩য় তলার কেবিন ও শিশু ওয়ার্ড এবং ৪র্থ তলার মহিলা ওয়ার্ডের প্রতিটি ক্ষেত্রে রোগীরা নোংরা পরিবেশে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাদ্দাম ও মেহরিন জানান, হাসপাতালে টয়লেটের গন্ধে থাকা দুস্কর। এছাড়া প্রতিটি টয়লেটের দরজা ভাঙ্গা, থাকে না পানি। পুরো হাসপাতালের চারপাশে দুর্গন্ধ আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। আয়াদের টাকা না দিলে কিছু পরিস্কার করতে চায় না। সবচেয়ে বেশি কষ্টে কাটাতে হয় রাতে। জীবানুবাহী মশা-মাছির কামড়ে রাতে ঘুমানো যায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মী জানান, সরকারি বন্ধ ছাড়া প্রতিদিন ডাক্তারের চেম্বারের সামনে রোগীদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও ভেতরে গিয়ে দেখা যায় ডাক্তার নেই। কিছু সময় ডাক্তার চেম্বারে থাকলেও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সামনেই রোগী দেখেন। অন্যদিকে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা আবার সেই প্রেসক্রিপশন নিয়ে ছবি তুলতে কাড়াকাড়ি শুরু করেন। এভাবে দীর্ঘক্ষণ ভোগান্তি শেষে একজন রোগীর চিকিৎসাসেবা নিতে হয়। শুধু এরমধ্যেই সীমাবন্ধ নয়, রোগীর জটিল সমস্যা হলে ডাক্তার তার পছন্দমত ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন।

চিকিৎসা নিতে আসা বৃদ্ধা জয়তুন নেছা বলেন, হাসপাতালে সকালে আইছি, এহন দেহি ডাক্তার আইয়ে না। একঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়া আছি। টাকা নাই দেহে সরকারি হাসপাতালে আইছি। কিন্তু ডাক্তারই আইয়ে না।

এ বিষয়ে হাসপাতালের প্রধান সহকারী মো. সফিউল আলম জানান, চাঁদপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল বলা হলেও আসলে এখানে রয়েছে ২০০ শয্যার জনবল। এ দিয়েই আমাদের পুরো কার্যক্রম চালাতে হয়। এছাড়া হাসপাতালে ৬৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও প্রায় ১৯টি পদ এখনো শূন্য রয়েছে। গাইনি, সার্জারি, চক্ষু ও এ্যানেসথেসিয়ার পদগুলোয় ডাক্তার নেই।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আনোয়ারুল আজিম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, হাসপাতালটিতে পূর্ণাঙ্গ শয্যা করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আর যেসব স্থানে চিকিৎসক সংকট রয়েছে, সেখানে অন্য চিকিৎসক দিয়ে সেবা চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে ৪৮ জন চিকিৎসক নিয়মিত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। আমরা এসব শূন্যপদে চিকিৎসক নিয়োগ চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরে চিঠি দিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নেবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের আমরা দুপুর একটার পর হাপাতালে প্রবেশ করার জন্য বলেছি। তারা যদি এর আগে ডাক্তারের চেম্বারে প্রবেশ করে, তাহলে আমরা পুনরায় তাদের এ বিষয়ে সতর্ক করবো।

হাসপাতালে খাবার পানির সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, খাবার পানি সমস্যা নিরসনে কাজ করা হচ্ছে। আমরা চাঁদপুর পৌরসভাকে বলেছি, তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আশা করি, খুব শিগগিরই এ সমস্যা দূর হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস/টিআরএইচ