Alexa লবন সহিঞ্চু আখে সাফল্য

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ২ ১৪২৬,   ১৭ মুহররম ১৪৪১

Akash

লবন সহিঞ্চু আখে সাফল্য

 প্রকাশিত: ১৯:৫৭ ২৯ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ১৯:৫৭ ২৯ আগস্ট ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দেশের উপকুলীয় জেলা হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরায় পরিক্ষামূলক লবন সহিঞ্চু নতুন জাতের আখ চাষ করে সফল হয়েছে কৃষকেরা।

বাংলাদেশ আখ গবেষণা ইন্সটিটিউট ইশ্বরদীর ব্যবস্থাপনায় সাতক্ষীরার চলতি বছর পরীক্ষামূলক লবনাক্ত এলাকাতে উচ্চ মাত্রার লবন সহিঞ্চু ৩৯ ও ৪৬ জাত চাষ করা হয়েছে। আখের ফলন ভালো হওয়ায় আখ চাষিরাও বেশ খুশি।

কৃষকেরা জানায়, এখান থেকে ১০ বছর আগেও সাতক্ষীরার তালা, কলারোয়া ও সাতক্ষীরা সদরে আখের চাষ হতো। কিন্তু জলাবায়ু পরিবর্তনের ফলে এসব এলাকার ফসলি জমিতে দেখা দিয়েছে মাত্রা অতিরিক্ত লবনাক্ততা। আর লবনাক্ততার করণে এসব এলাকা থেকে আখ চাষ উঠে গেছে বললে ভূল হবে না।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় ১৫০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৫ হেক্টর, কলারোয়ায় ২ হেক্টর, তালায় ৭৫ হেক্টর, দেবহাটায় ৩৫ হেক্টর, কালিগঞ্জে ২৫ হেক্টর, আশাশুনিতে ৫ হেক্টর এবং শ্যামনগর উপজেলাতে ৪ হেক্টর পরিমাণ জমিতে ফসলটি চাষ করা হয়েছে। যেসব জমিতে আখ চাষ করা হয়েছে তা সবই লবনাক্ততা সহিঞ্চু জাতের।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বালিথা গ্রামের আখ চাষি আল-আমিন হোসেন  জানান, তার এলাকার অধিকাংশ জমিতে লবনাক্ততা বেড়ে গেছে। দানাদার জাতীয় ফসল আগের মত আর ফলে না। তাই আখ গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরামর্শে চলতি মৌসুমে ২ বিঘা জমিতে পরিক্ষামুলক লবন সহিঞ্চু নতুন ৩৯ জাতের আখ রোপণ করে সাফল্য অর্জন করেছেন।

তিনি বলেন, গত ডিসেম্বরে আখের ডোগা রোপণ করার পর বর্তমানে ক্ষেতে বড় বড় ঝাড়ে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া তেমন কোনো রোগবালাইও এখনো পর্যন্ত দেখা দেয়নি ।

একই গ্রামের আখ চাষি জোসনা বেগমও পাবনা ইশ্বরদীর আখ গবেষণা ইন্সটিটিউটের লোকজনের পরামর্শে তার ৩ বিঘা পরিমাণ জমিতে লবন সহিঞ্চু নতুন ৩৯ জাতের আখ চাষ করেছেন। তিনি বলেন, এমন ভালো ফলন হবে জানলে আরো বেশি পরিমান জমিতে আখ রোপণ করতেন।

বি.এস.আর.আই-এর সমন্বিত গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরন প্রকল্পের অধিনে সাতক্ষীরার লবনাক্ততা প্রবন সাতক্ষীরা সদর, তালা, কালিগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলাতে লবন সহিঞ্চু জাতের আখ চাষ করা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সমজিত কুমার পাল জানান, উপকুলীয় সাতক্ষীরা জেলার ৭টি উপজেলার সবচেয়ে বেশি লবনাক্ততা এমন ৫টি উপজেলাতে পরিক্ষামূলক লবন সহিঞ্চু নতুন ৩৯ ও ৪৬ জাতের আখ চাষ করা হয়েছে। এই নতুন ৩৯ ও ৪৬ জাতের আখ যেমন উচ্চমাত্রার লবন সয্য করতে পারবে তেমনি অধিক পরিমাণ ফলন দেবে। এটি বিঘা প্রতি সব্বোর্চ ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বিঘা জমির আখ বিক্রি হবে কমপক্ষে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা। ফলে কৃষক লাভবান হবে এই লবন সহিঞ্চু জাতের আখ চাষ করে। তিনি বলেন, ৩৯ ও ৪৬ জাতের আখ ১৫ থেকে ১৬ মাত্রার লবন সয্য করতে পারবে অনায়াশে। তাছাড়া রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাব খুবই কম। তিনি আরো বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক এ জাতের আখ চাষ করে লাভবান হতে পারবে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজী আব্দুল মান্নান জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি লবনাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় উপকুলীয় সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে আখ উৎপাদন কমে যাচ্ছে আশংকজনক ভাবে। তবে লবন সহিঞ্চু নতুন ৩৯-৪৬ জাতের আখ চাষে সাফল্য এসেছে সাতক্ষীরায়। আগামীতে জেলার সব অঞ্চলেই এ জাতের আখ চাষ করতে পারলে কৃষক লাভবান হবে জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর