Alexa লবণ সহিষ্ণু পাটে নতুন সম্ভাবনা

ঢাকা, রোববার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৮ ১৪২৬,   ২৩ মুহররম ১৪৪১

Akash

লবণ সহিষ্ণু পাটে নতুন সম্ভাবনা

শরীফা খাতুন শিউলী, খুলনা  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২০ ২৫ আগস্ট ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

উপকূলীয় অঞ্চলের জমিগুলো বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ততায় আক্রান্ত। যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অঞ্চলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য লবণাক্ত জেলাগুলো হল সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট এবং পিরোজপুর। এ জেলাগুলোতে লবণাক্ততার কারণে অনেক জমি পতিত থাকে। 

বাংলাদেশের লবণাক্ত পতিত জমি পাট চাষের আওতায় আনার জন্য ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাখিমারা গবেষণায় দেশি পাটের লবণ সহিষ্ণু চারটি জাতের পরীক্ষা চালানো হয়। স্থানীয় কৃষকদের পতিত জমিতে বিজেআরআই-৮ জাতের পাট চাষে শতভাগ সফলতা পাওয়া যায়। আর এ বছর খুলনা জেলার ডুমুরিয়াও শুরু হয়েছে এ জাতের পাটের চাষাবাদ। 

এর মাধ্যমে কৃষি অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। সোনালী আঁশ পাট ফিরে পাবে তার হারানো গৌরব আর কৃষক হবে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী। প্রথম এ ধরনের পাট চাষ দেখে কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বাড়ছে। রোগ-বালাই কম হওয়ায় এবং ফলন দেখেও খুশি কৃষকেরা। 

তাই বাণিজ্যিকভাবে এর উৎপাদনের জন্য কৃষকদের সম্পৃক্ত করে লবণাক্ত জমিতে বিজেআরআই-৮ জাতের পাট প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস।

ডুমুরিয়ার মালতিয়ার গ্রামে কৃষক আসাদ মোড়ল বলেন, বর্ষাকালে আমন চাষের জমি পতিত থাকে। শুকনো মৌসুমে লবণের পরিমাণ বেড়ে যায়। সেখানে অন্য ফসলের চাষাবাদ তেমন হয় না। উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় পাট চাষ করে বেশ ভালো ফলন পেয়েছি।

আটলিয়া ইউপির কৃষক কামরুল ইসলাম জানান, ফলন ভালো হয়েছে। গাছ আগের থেকে অনেক মোটা। গায়ের আঁশও অনেক বেশি। অন্য জাতের থেকে এ জাতের পাটে রোগ-বালাই নেই বললেই চলে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাদ্দেক হোসেন জানান, কৃষকের সব ধরনের ফসল ফলাতে ডুমুরিয়া কৃষি অফিস যথাযথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষি নির্ভরশীল আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মানুষ। কমছে কৃষি জমি। অথচ আমাদের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে কৃষির ওপর নির্ভর করে। সে কারণে গোপালগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ অঞ্চলের ৮০ কৃষককে বিজেআরআই-৮ জাতের পাট বীজ দেয়া হয়েছে। 

গোপালগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আলমগীর বিশ্বাস জানান, এ অঞ্চলের কৃষি উত্তরবঙ্গ থেকে অনেকখানি পিছিয়ে। এ অঞ্চলকে এগিয়ে নিতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। 
তিনি আরো জানান, ডুমুরিয়ায় এই প্রথম এ জাতের পাট চাষ করা হয়েছে। আগে বিঘাপ্রতি ১২/১৪ মণ পাট পেত কৃষকেরা এখন পাবে ১৬/১৮ মণ পাট। এ এলাকার লবণাক্ত জমিতে পাট চাষের সম্ভাবনা নিয়ে আমরা বেশ আশাবাদী।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস