Alexa বগুড়ায় লবণকাণ্ডে আটক ৪৪

ঢাকা, রোববার   ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৩ ১৪২৬,   ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

বগুড়ায় লবণকাণ্ডে আটক ৪৪

বগুড়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৪:২৮ ২০ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৫:৪৬ ২০ নভেম্বর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

বগুড়ায় মঙ্গলবার হঠাৎ করে লবণ সংকটের গুজব ছড়িয়ে দাম বাড়ানোর চেষ্টা চালান হয়। গুজবে লোকজন শহরের বাজার ও পাড়া মহল্লার দোকানগুলোতে লোকজন লবণ কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন। গুজব চরম আকার ধারণ করায় সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে গুজব উল্লেখ করে মাইকে লোকজনকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহ্বান করা হয়। 

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কেউ কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির জন্য গুজব ছড়াচ্ছে। লবণের কোনো সংকট নেই। 

এদিকে বাজার ঘুরে জানা যায়, একটি সংগঠনের সঙ্গে জড়িতরা পরিকল্পিতভাবে বাজারে দলবেঁধে লবণ কিনে গুজব ও সংকট সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। তাদের কারণেই গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওই সংগঠনের নারী শাখার কর্মীদের বেশ তৎপর দেখা গেছে। তাদের পরিকল্পিত গুজবেই অনেকে বিভ্রান্ত হয়ে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি লবণ কেনা শুরু করেন। 

এদিকে গুজব ছড়িয়ে লবণ বিক্রি এবং গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বগুড়া এবং বগুড়ার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে ৪৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। 

বগুড়ার অ্যাডিশনাল এসপি সনাতন চক্রবর্তী আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত আদমদীঘিতে ৩টি দোকান ও ১টি গোডাউন সিলগালা করেছে। এছাড়া ১লাখ ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

খোজঁ নিয়ে জানা যায় দুপুরের পর থেকে লবণ সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এতে লোকজন লবণ কেনার জন্য পাড়া মহল্লার দোকানে গেলে দোকানদাররা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে থাকেন। বিকেলের মধ্যে পাড়া মহল্লার মুদি দোকানিরা দোকান বন্ধ করে দেন। লোকজন ছুটে আসেন পাইকারি বাজার ফতেহ আলী ও রাজাবাজারে। তবে বেশির ভাগ দোকানি জানান, লবণ শেষ হয়েছে। 

ফতেহ আলী বাজারের অবনী স্টোরের মালিক জানান, প্রতিদিন তার দুই বস্তার বেশি লবণ বিক্রি হয় না। প্রতি বস্তায় থাকে ২৫ কেজি (এক কেজি ওজনের প্যাকেট)। তবে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনি দোকানে থাকা ১০ বস্তা বিক্রি করেন। 

শহরের রাজা বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার জানান, তিনি বিকেল পর্যন্ত ১২ বস্তা বিক্রি করেছেন। বেশির ভাগ দোকানি কেজি প্রতি প্রায় ৫ টাকা বেশি দরে প্যাকেটজাত লবণ বিক্রি করেন। 

গুজবের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন বাজার মনিটরিং শুরু করেন। 

বাজারে দেখা গেছে, সাধারণ ক্রেতারা একেকজন ২ থেকে ৫ কেজি কেউ বা আবার ১০ কেজি পর্যন্ত লবণ কেনেন। 

একাধিক সূত্র জানায়, একটি চক্রের নারী ও পুরুষ একসঙ্গে ইচ্ছানুযায়ী পরিকল্পিতভাবে লবণ কিনে। 

সূত্র আরো জানায়, একটি সংগঠনের কর্মীসহ নারী শাখা লবণ সংক্রান্ত গুজব ছড়িয়ে বাজারে দলের পর দল লবণ কিনতে আসায় সাধারণ লোকজন বিভ্রান্ত হয়ে লবণ কেনা শুরু করেন। ওই চক্রটিই লবণ নিয়ে নানা গুজব ছড়াতে থাকে। বিকেলের পর বেশিরভাগ পাইকারি দোকান এমনকি শহরের বড়গোলা এলাকার লবণের আড়তদার তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন। 

শহরে লবণের পাইকারি দোকান রয়েছে রাজাবাজার ও বড়গোলা এলাকায়। সন্ধ্যায় এসব দোকান বন্ধ দেখা যায়। 

সন্ধ্যায় পুলিশ বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লোকজনকে গুজবে কান না দিয়ে বেশি দামে লবণ না কেনার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করা হয়। 

প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকে বলা হয়, যথেষ্ট পরিমাণ লবণ মজুদ রয়েছে এবং লবণের কোনো সংকট নেই বলে লোকজনকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। 

ডিসি মো. ফয়েজ আহাম্মদ জানান, একটি মহল লবণ নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে। তিনি নিজেও বাজার পরিদর্শনে বিকেলে বের হন। বাজারে লবণের কোনো সংকট নেই। গুজব প্রতিরোধে প্রতিটি উপজেলায় ইউএনওরা বাজার মনিটরিং করতে মাঠে রয়েছেন।


 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ