.ঢাকা, শুক্রবার   ২২ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৭ ১৪২৫,   ১৫ রজব ১৪৪০

লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় কমেছে সাড়ে ৫ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ১৩:২০ ১১ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৩:২০ ১১ জানুয়ারি ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও কমেছে রাজস্ব আদায়। এতে ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ৯৭ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। যা শতাংশের হিসাবে সাড়ে পাঁচ শতাংশ কম।

ফলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ে এ বছর ২৯ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে আছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে ধীরগতিসহ কর ফাঁকি রোধে ব্যর্থতা ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের তৎপরতার অভাবকে দায়ি করছে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এবারের এই ঘাটতি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে আমাদের। এজন্য রাজস্ব আহরণ বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এনবিআর বলছে, এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতিসহ বিভিন্ন কারণে প্রতি অর্থবছরের শুরুতে স্বাভাবিকভাবেই রাজস্ব আদায় কম হয়। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়ে।

গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে প্রবৃদ্ধি হয় গড়ে ১০ থেকে ১৪ শতাংশ। অথচ এ বছর হয়েছে মাত্র সাড়ে পাঁচ শতাংশ।

এনবিআর সদস্য রেজাউল হাসান বলেন, এবার নির্বাচন ঘিরে অর্থ লেনদেনে প্রভাব লক্ষণীয় ছিল। গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম খাত মিলিয়ে মোট ২৬ হাজার কোটি টাকার অধিক আমরা পাইনি। ফলে ঘাটতির পাল্লাটাও ভারী হয়েছে।

ঘাটতির কারণ বিশ্লেষণে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ অবশ্য বিশাল এই ঘাটতির পেছনে কর্মকর্তাদের যথাযথ তৎপরতা ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে তাদের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন।

তিনি বলেন, রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি চার বা পাঁচে নেমে যাওয়া উদ্বেগজনক ও ব্যর্থতার পরিচায়ক। এতে এনবিআরের ডিপার্টমেন্টসমূহের বিদ্যমান নীতিমালা ও কর্মধারা অনুসরণে অপারগতা পরিলক্ষিত হয়।

সংস্থাটির সাবেক এই শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন এনবিআরের বর্তমান চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন।

এক্ষেত্রে রাজস্ব আদায়ে তিনি এনবিআর কর্মকর্তাদের কিছুটা গাফিলতি ছিল বলেও স্বীকার করেছেন। ফলে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজনে রদবদল ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআইএস