Alexa র‌্যাগিং অতঃপর বাবাকে চিনতে পারছেন না

ঢাকা, সোমবার   ১৪ অক্টোবর ২০১৯,   আশ্বিন ২৯ ১৪২৬,   ১৪ সফর ১৪৪১

Akash

র‌্যাগিং অতঃপর বাবাকে চিনতে পারছেন না

 প্রকাশিত: ১০:৫৬ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮   আপডেট: ১৫:০৭ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে এক নবীন শিক্ষার্থীর মানসিক ভারসাম্য হারানোর ঘটনা ঘটেছে। এমনকি শুক্রবার রাতে আত্মীয়-স্বজনসহ তার বাবা দেখা করতে গেলে কাউকেই চিনতে পারেনি সে।

র‌্যাগিংয়ের শিকার মো. মিজানুর রাহমান কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষে সদ্য ভর্তিকৃত।

মিজানুরের বন্ধুরা জানান, বুধবার দুপুরে বিভাগের ৪৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা তাদের (৪৭তম আবর্তন) সঙ্গে পরিচিত হওয়ার নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। মিজানুর সহজ-সরল হওয়ায় তাকে অকথ্য ভাষায় গালি দেয়াসহ শারীরিক নির্যাতন করে সিনিয়ররা। এছাড়াও তাকে হল ছেড়ে অন্য হলে আসতেও সিনিয়ররা চাপ প্রয়োগ করে। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে আবারো তাকে ধমক দেয়।

এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকে হলে বন্ধুদের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন মিজানুর। হলের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা তাকে দেখতে এলে অসংলগ্ন আচরণ করতে থাকেন।

এমনকি শুক্রবার দুপুরে তিনি তার বন্ধুদের বলেছেন, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে, শেষবারের মতো তোরা আমার বাবার সাথে দেখা করতে দে।

পরিবারকে বিষয়টি জানানো হলে শুক্রবার রাতে ক্যাম্পাসে আসেন তার বাবা ও চাচা। সাক্ষাতে কাউকে চিনতে পারেননি মিজানুর।

ঘটনা শুনে হলের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয় তাকে। ছেলেকে এ অবস্থায় দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মিজানুরের বাবা। ডাক্তারের কাছে যেতে অস্বীকার করে মিজানুর বলেন, মায়ের সাথে দেখা করব, তোরা আমার মায়ের কাছে নিয়ে চল।

এমতাবস্থায় ডাক্তারের রুমের দরজার সামনে বসিয়ে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। কিছুক্ষণ পর মানসিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন কর্তব্যরত ডাক্তার। পরে বিশ্রামের জন্য সাভারে চাচার বাসায় নেয়া হয় তাকে।

এদিকে র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে শুক্রবার রাত ১টার দিকে বিভাগের ৪৬তম আবর্তনের মামুন, হিমেল, সুদীপ্ত ও ক্লাস প্রতিনিধি আনোয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

এদিকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রোববার সকালে একাডেমিক বৈঠকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আজীবন বহিষ্কারের সুপারিশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাব আমরা।

ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ