Alexa ‘রোহিঙ্গা সঙ্কট বাংলাদেশের জন্য অসহনীয় হবে’

ঢাকা, সোমবার   ২২ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৭ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪০

‘রোহিঙ্গা সঙ্কট বাংলাদেশের জন্য অসহনীয় হবে’

ডেস্ক নিউজ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৪ ১২ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৬:২২ ১২ জুলাই ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

জাতি সংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য অসহনীয় সঙ্কট হতে পারে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির অবস্থা বুধবার সরেজমিনে দেখে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জনগোষ্ঠির আকার বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা দেখতে কক্সবাজারে যান গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের চেয়ারম্যান বান কি-মুন।

তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকারের অনেক বেশি কিছু করার আছে, যার ফলে রোহিঙ্গারা ভয়হীনভাবে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরতে পারে। নির্যাতনের মুখে রাখাইন থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়ার আশ্বাস মিয়ানমার দিলেও তাতে কোনো অগ্রগতি নেই।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়াটা বাংলাদেশের জন্য ‘বিরাট বোঝা’ উল্লেখ করে বান কি-মুন বলেন, দীর্ঘ সময়ের জন্য বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব না।

এর আগে, বুধবার ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে কক্সবাজারের উখিয়ায় পৌঁছান বান কি-মুন। তার সঙ্গে ছিলেন মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট হিলডা সি হেইন, বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস্টালিনা জর্জিওভা, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই থাকেন কুতুপালং ক্যাম্পে। মুন ও তার সফরসঙ্গীরা বৃষ্টির মধ্যে কুতুপালংয়ের ২০ নম্বর ক্যাম্পের অস্থায়ী হেলিপ্যাডে নামেন। সেখান থেকে গাড়িতে করে প্রায় ২০ মিনিটের পথ পাড়ি দিয়ে যান ১৭ নম্বর ক্যাম্পের সমন্বয় অফিসে।

১৭ নম্বর ক্যাম্পে পৌঁছাতে রোহিঙ্গাদের যে অবস্থা দেখেন, “তাতে বান কি-মুন বর্ণনা করেন ‘হৃদয় বিদারক’ এবং ‘বেদনাদায়ক’ চিত্র হিসেবে।”

বান কি-মুন বলেন, প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। যারা বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয় নিয়েছে এটা বিরাট ক্ষোভ ও উদ্বেগের বিষয়, যা আজ আমি নিজে দেখলাম। সুতরাং আশা করি, এই সমস্যার একটি প্রীতিকর সমাধান হবে। আশা করি, তারা তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদে ফিরতে পারবে।

রোহিঙ্গাদের অবস্থা যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার শরণার্থীদের চেয়েও খারাপ উল্লেখ করে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বলেন, আমি যখন জাতিসংঘে কাজ করেছি, তখন আমি লাখ লাখ শরণার্থীদের সাহায্য করেছি। এরমধ্যে সিরিয়ার শরণার্থীরাও ছিল। কিন্তু আজকে যা দেখলা, সেটা সত্যিই হৃদয়বিদারক।

এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের নিয়ে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো বিশেষ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (এফএও) এবং শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) ভূমিকার প্রশংসা করেন।      

এদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা ও এক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে বিনিয়োগ করেছে, তার প্রশংসা করেন গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের চেয়ারম্যান। তবে অ্যাডাপটেশন ও মিটিগেশন যেন একসঙ্গে চলে সেটাও নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ