Alexa রোহিঙ্গা সংকট দ্রুত সমাধানে দায় নেবে না নিরাপত্তা পরিষদ

ঢাকা, শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ১০ ১৪২৬,   ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

রোহিঙ্গা সংকট দ্রুত সমাধানে দায় নেবে না নিরাপত্তা পরিষদ

 প্রকাশিত: ১৪:০৬ ২৯ এপ্রিল ২০১৮   আপডেট: ২১:০৪ ২৯ এপ্রিল ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা সংকট দ্রুত সমাধানে দায় নেবে না, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। এখনো প্রস্তাব দেয়ার সময় আসেনি, মুল কারণ খোঁজার আহ্বান তাদের।

রোববার দুপুরে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে সফররত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিনিধি দল এমনটা জানায়। সফরকারীদের পক্ষে আনুষ্ঠানিক ব্রিফি করেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাজ্যের স্থায়ী প্রতিনিধি কারেন পিয়ার্স। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে। তাই যে সমস্যা তৈরি হয়েছে তা মিয়ানমারকেই সমাধান করতে হবে। রোহিঙ্গাদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে নিরাপদে বসবাসের সুযোগ দিতে হবে।

তাদের ভাষ্য, রোহিঙ্গাদের অবশ্যই ফেরত যেতে ও নিরাপদ জীবন দিতে হবে। তবে এই প্রক্রিয়ায় কিছু সময় লাগতে পারে।

কারেন পিয়ার্স আরো বলেন, আমরা এখান থেকে মিয়ানমারে যাবো। তাদের কাছ থেকে শুনতে চাইবো, সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হতে পারে তারা। এদিকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আমরা নিরাপত্তা পরিষদে সমর্থন দেয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবো ও রোহিঙ্গাদের উপকারে আসে এমন সিদ্ধান্ত নেবো।

প্রতিনিধি দলের আরেক সদস্য পেরুর গুস্তাভো মেজা কোয়াদ্রার মন্তব্য, আমরা এই শরণার্থী সংকট দেখে খুব উদ্বিগ্ন। পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। রোহিঙ্গাদের জন্য যেন কিছু করতে পারি, তাই সমস্যাটিকে আরো ভালোভাবে জানতে আমরা এখানে এসেছি।

এরআগে বান্দরবানের তুমব্রু সীমান্তের জিরো পয়েন্ট এলাকা পরিদর্শন  ও রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের কথা শুনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য তালাল বলেন, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে না আসলে বুঝতে পারতাম না এখন রোহিঙ্গা কী কারণে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছে। কীভাবে তারা নির্যাতনের শিকার হয়েছে তা এখানে জেনেছি ও শুনেছি। এটি এখান থেকে যাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে।

আরেক প্রতিনিধি অনটুলি এনডিং বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা নির্যাতিত হয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। এসব বিষয়গুলো সরেজমিনে দেখলাম। এখন রোহিঙ্গারা যাতে অধিকার নিয়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে তা নিয়ে কাজ করব।

এদিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরা সরজমিনে পরিস্থিতি দেখতে আসায় এবং তারা নির্যাতনের কথা শোনায় বেশ আনন্দিত রোহিঙ্গারা। তাদের আশা, জাতিসংঘের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল এখন তাদের অধিকার নিয়ে কথা বললেই তারা খুশি।

শূন্যরেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা দিল মোহাম্মদ বলেন, অতি অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু পেরেছি ততটুকু নির্যাতনের কথা প্রতিনিধি দলের কাছে তুলে ধরেছি। কিন্তু সময় পেলে আরো অনেক বলার ছিল। তবে যতটুকু তাদের বলতে পেরেছি সেজন্য অনেক খুশি আমরা।

আরিফ নামের আরেক রোহিঙ্গা বলেন, আমরা খুবই খুশি। কারণ আমাদের কথা শুনে প্রতিনিধিরা আশ্বস্ত করেছে রোহিঙ্গাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া ও নিজ দেশে স্বাধীনভাবে বসবাস করার ব্যবস্থা করে দেবেন তারা।

এদিকে, নিরাপত্তা পরিষদের উচ্চ পর্যায়ের এ প্রতিনিধি দলের কক্সবাজার সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রায় সাড়ে ৭শ` পুলিশ ঘেরাও করে রাখে পুরো এলাকা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এলকে

Best Electronics
Best Electronics