Alexa রোহিঙ্গা শিবিরে মিয়ানমারের মুদ্রার রমরমা বাণিজ্য

ঢাকা, বুধবার   ১৬ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ২ ১৪২৬,   ১৭ সফর ১৪৪১

Akash

রোহিঙ্গা শিবিরে মিয়ানমারের মুদ্রার রমরমা বাণিজ্য

 প্রকাশিত: ১০:২১ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

গত ২৪ আগস্টের পর মিয়ানমারের আরকান রাজ্যে (সংশোধিত নাম রাখাইন স্টেট) সহিংস ঘটনার পর থেকে আরাকানের মোট ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে মংডু, বুচিদং ও আকিয়াব ৩টি মুসলিম অধ্যুষিত টাউনশিপ থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান টেকনাফ, উখিয়া এবং নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে দলে দলে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। এখনো তা অব্যাহত রয়েছে। বলতে গেলে এখন বাংলাদেশ-মিয়ানমারের ৫৪ কিলোমিটার সীমান্ত অঘোষিতভাবে উন্মুক্ত রয়েছে।

অর্ধাহারে-অনাহারে পাহাড়ে জঙ্গলে লুকিয়ে এবং দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়ে বহু কষ্টে দলে দলে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারীরা প্রত্যেকেই থাকেন তীব্র ক্ষুধার্ত ও ক্লান্ত। অসুস্থ, বৃদ্ধ ও শিশুদের অবস্থা তো আরও বেদনাদায়ক। প্রথমেই অতি জরুরি হয়ে পড়ে নগদ বাংলাদেশি টাকা, খাবার, শিশু খাদ্য এবং পানির। এই প্রয়োজনীয় মুহূর্তের কথা চিন্তা করেই হয়ত হাতের কাছে যত ‘কায়াট’ আছে সব নিয়েই সীমান্ত পাড়ি দেয় তারা।

অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের ভয়াবহ এ পরিস্থিতিতে চরম অসহায়ত্বের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নেমে পড়ে বাংলাদেশে মিয়ানমারের মুদ্রা ‘কায়াট’ ব্যবসায়ীরা।

অনুপ্রবেশকারী লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের অসহায়ত্ব এবং প্রশাসনের নিরবতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সীমান্ত এলাকায় অসাধু চক্র ও সিন্ডিকেট তৎপর রয়েছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। বলতে গেলে এখন পুরো সীমান্ত এলাকা জুড়ে প্রকাশ্যে মিয়ানমারের মুদ্রা ‘কায়াট’ এর রমরমা বাণিজ্য চলছে।

বৈদেশিক মুদ্রা আইনের তোয়াক্কা করছেনা কেউ। ফলে দালালদের হাতে কোটি কোটি মিয়ানমারের মুদ্রা ‘কায়াট’ বিনিময় হচ্ছে। অথচ মুদ্রা বিনিময়ের জন্য এ পর্যন্ত খোলা হয়নি কোন বুথ।

বুচিদং থেকে আসা একাধিক রোহিঙ্গার সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভিটা, সহায়-সম্বল, ঘরবাড়ি, গরু-ছাগল, মহিষ, হাঁস-মুরগি, বাড়ির নিত্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ফেলে নাড়ি কাটা প্রিয় মাতৃভূমি ফেলে জীবনের তাগিদে চলে আসার সময় সকলেরই কাছে থাকে প্রচুর স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ লাখ লাখ মিয়ানমারের মুদ্রা ‘কায়াট’। বাংলাদেশে আসার পর তাদের আসহায়ত্বের সুযোগে দালালরা তাদের সব ‘কায়াট’ হাতিয়ে নিচ্ছে। বিনিময়ে দিয়েছে স্বল্প বাংলা টাকা যা দিয়ে একবেলা খাবারও কিনা যায়না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলে দলে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের প্রথম দিকে ১ লাখ মিয়ানমারের মুদ্রা ‘কায়াট’ এর বিনিময়ে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশি মাত্র ২ হাজার টাকা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় এবং নিত্য নতুন সুবিধাবাদী দালাল সিন্ডিকেট এ ব্যবসা অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় অনেকেই এ ব্যবসায় নেমেছেন। তাই এখন বিনিময় দর কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী।

সরেজমিনে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে জানা গেছে, বর্তমানে ১ লাখ মিয়ানমারের মুদ্রা ‘কায়াট’ এর বদলে ৪ হাজার ৩০০ টাকা দেয়া হচ্ছে। মিয়ানমারে বর্তমানে ৫০ কায়াট, ১০০ কায়াট, ২০০ কায়াট, ৫০০ কায়াট, ১০০০ কায়াট, ৫০০০ কায়াট, ১০,০০০ কায়াট চালু রয়েছে। ৫০ কায়াটের নিচে মুদ্রা নেই। পয়সাও এখন অচল।

এ ব্যাপারে টেকনাফের একটি ব্যাংকের ব্যাবস্থাপকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আর্ন্তজাতিক মুদ্রা বিনিময় হার অনুসারে বাংলাদেশি ১ টাকার সমমান মিয়ানমারের ১৬ থেকে ১৭ কায়াট। সে হিসাবে মিয়ানমারের মুদ্রা ‘কায়াট’ দালাল সিন্ডিকেট চক্র দিয়েছে মাত্র ২ টাকা। আর এখন দিচ্ছে ৪ টাকা ৩ পয়সা। যা আকাশ-পাতাল তফাৎ। মিয়ানমারের মুদ্রা ‘কায়াট’ দালাল সিন্ডিকেট চক্র বর্তমানে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছের অবস্থা। অসহায় রোহিঙ্গাদের শোষণ করে কামিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

অন্যদিকে সীমান্ত এলাকার স্বর্ণকারদের জয়জয়কার চলছেই। প্রয়োজনের তাগিদে হাজার হাজার রোহিঙ্গা তাদের ব্যবহৃত স্বর্ণালঙ্কার নিরুপায় হয়ে বিক্রি করে দিচ্ছেন। দুর্বলতার এ সুযোগে স্বর্ণালঙ্কার ভাল মানের নয়, মেশানো ইত্যাদি বাহানা স্বর্ণকাররা দিয়ে নাম মাত্র মূল্যে কিনে নিচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত যে এসব বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় এবং সুযোগ নেই। এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ ও এ ব্যাপারে আসছেন না।

বিনিময়ের জন্য বিশেষ বিবেচনায় বুথ স্থাপন বা অন্য কোন ব্যবস্থা আছে কি না জানতে চাইলে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বাংলাদেশ সোনালী ব্যাংক টেকনাফ শাখার ব্যবস্থাপক মো. ওসমান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সম্পর্কিত কোন নির্দেশনা আসেনি। তাছাড়া প্রচলিত নিয়ম অনুসারে মিয়ানমারের মুদ্রা ‘কায়াট’ স্থানীয় কোন ব্যাংকেই বিনিময় করার সুযোগ নেই।’

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ