Alexa রোহিঙ্গা শরণার্থীদের উখিয়ায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৬ ১৪২৬,   ২১ মুহররম ১৪৪১

Akash

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের উখিয়ায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা

 প্রকাশিত: ১১:১৮ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭   আপডেট: ১১:২৩ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সেখান থেকে সরিয়ে শিগগির কক্সবাজারের উখিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ক্য শৈ হ্লা বুধবার নাইক্ষ্যংছড়িতে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ তথ্য জানান।

এদিকে, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক সংবাদ মাধ্যমকে জানান, রোহিঙ্গাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সরকার চিন্তা ভাবনা করছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও লিখিত নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নে টিকতে না পেরে রোহিঙ্গদের বাংলাদেশ সীমান্তে চলে আসার ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তারা ব্যাপক হারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীসমূহের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হ‌ওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এমন পরিস্থিতিতে ঘটনার ১২ দিন পর বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ক্য শৈ হ্লা বুধবার নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা সীমান্তের জিরো লাইনে অপেক্ষমাণ রোহিঙ্গাদের অবস্থা পরিদর্শন করেছেন। এ উপলক্ষে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা টিটিসি হলে আয়োজিত সমাবেশে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলার সময় এ বিষয়ে সরকারের সর্বশেষ পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম সারওয়ার কামাল, বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইসলাম বেবী এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের কাউন্সিলর মোজাম্মেল হক বাহাদুর উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ক্য শৈ হ্লা জানান, সরকারি নির্দেশনার আলোকে রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য প্রদান করা হচ্ছে। তিনি জানান, অসহায় মানুষদের মধ্যে সীমিত পর্যায়ে খাবার ও ওষুধপত্রসহ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটও প্রদান করা হচ্ছে।

জিরো লাইনে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা বিধানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার তথ্য জানিয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো একটি বিশেষ এলাকায় অন্য দেশের নাগরিকদের বেশিদিন অবস্থান করতে দেওয়া সমীচিন নয়।

পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, "বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষ এ অঞ্চলে বসবাস করে। এ অবস্থায় নির্যাতিত রোহিঙ্গারা যাতে অন্য সম্প্রদায়ের শঙ্কার কারণ না হয়ে ওঠে- সে বিষয়টিও আমাদের গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হচ্ছে। " তিনি জানান, কোনো ধরনের জোর-জবরদস্তি নয়, সম্মানের সঙ্গেই তাদেরকে পর্যায়ক্রমে কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের আশপাশের এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হবে। এতে শরণার্থী নিবন্ধন ও তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া অধিকতর সহজ হবে।

সভা শেষে বিকেল ৩টায় সীমান্তের জিরো লাইনে যান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘটিত ঘটনার সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা শোনেন।

এদিকে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারও উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক সংবাদ মাধ্যমকে জানান, রোহিঙ্গাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো লিখিত নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত ৩০ আগস্ট তিনি নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা সীমান্তের জিরো লাইনে গিয়ে সেখানে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক। এ সময় তাদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ