Exim Bank Ltd.
ঢাকা, শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

রোহিঙ্গা বোমার ভ্রুকুটির সামনে বাংলাদেশ

অমিত গোস্বামী
কবি হিসেবেই পরিচিতি অমিত গোস্বামীর। তবে উপন্যাস, প্রবন্ধ ও বিশ্লেষণধর্মী লেখায়ও বেশ সুনাম রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের এই লেখকের। পেশায় সাংবাদিক। জন্ম, বাস, বেড়ে ওঠা সবই ভারতে। তবে বাংলাদেশের প্রতি রয়েছে বিশেষ টান। বাংলাদেশের শহীদ বুদ্ধিজীবী আলতাফ মাহমুদকে নিয়ে উপন্যাস লিখে এরইমধ্যে সাড়া ফেলেছেন।

মৌলবাদের একটি বৈশিষ্ট্য হল- প্রথমে জনগোষ্ঠীকে আতঙ্কগ্রস্থ করে তুলে তাকে রাষ্ট্রবিহীন করে তুলে তার মূলোচ্ছেদ অর্থাৎ বিতাড়ন। গল্পটা সবজায়গায় একই। সে ভারতের আসামে বাঙালি ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতি হোক, মিয়ানামারের রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি হোক বা বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের প্রতি হোক, এমন কি সিরিয়ার খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর প্রতি হোক। আমরা প্রথমেই ধরে নেই যে ধর্ম থেকে মৌলবাদের জন্ম এবং মৌলিক ধর্মীয় বিধিবিধান সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রয়োগ করাই মৌলবাদের উদ্দেশ্য। কিন্তু আদপেই তা নয়। পুরোটাই অর্থনীতির খেলা। মৌলবাদী নেতৃত্ব এমনকিছু ভক্তিভূষণ নয় যে বিনা অর্থনৈতিক স্বার্থে কিছুমাত্র উদ্যোগ নেবে। ধান ভানতে কেন এই শিবের গাজন সে প্রসঙ্গে সরাসরি এবারে ঢুকছি।

মাত্র একবছর হল রোহিঙ্গা মুসলিম ও সামান্য পরিমাণে হিন্দু মিয়ানামার ছেড়ে বাংলাদেশে আসা শুরু করেছে। ২৫ আগস্ট ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলায় ১২ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হওয়ার পর মায়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরোদ্ধে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ শুরু করে। এই অপারেশনে ৩০০০ রোহিঙ্গা নিহত হন, অনেক রোহিঙ্গা আহত, নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হন। তাদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয় এবং ৪০০,০০০ (মিয়ানমারের রোহিঙ্গার ৪০%) এর বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। রোহিঙ্গাদের মূল চরিত্র কি? এরা পাকিস্তানপন্থী। ১৯৪৭ বৌদ্ধ ধর্মের দেশ বলে রোহিঙ্গারা পাকিস্তান ইউনিয়নে যোগ দিতে ব্যর্থ হয়ে তারা নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে । দেশভাগের ডামাডোলের মাঝে মুসলমানের নিরাপদ ভুখণ্ড সার জামিনে পাকিস্তানে পাকিস্তানের জনক কওম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রোহিঙ্গাদের ঠাঁই দেননি। ওরা তখন বিশ্বব্যাপী ইসলামি বিপ্লবের লাইনে রওনা দিল। সেই থেকে শুরু, বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গা মুজাহিদরা মংডু ও বুছিডংসহ বিভিন্ন জায়গায় সরকারী অফিস আদালতে হামলা করে, নন-মুসলিম লোকজনকে মারে। এইরকম কয়েকদিন চলার পর বার্মিজ আর্মি কড়াকড়ি কয়েকটা অভিযান চালায় আর মুজাহিদরা অস্ত্র শস্ত্র ফেলে আর্মির কাছে আত্মসমর্পণ করে। এইভাবে বেশ কয়েকটা মুজাহিদ গ্রুপ জন্ম হয়েছে, সন্ত্রাস করেছে, আত্মসমর্পণ করেছে। এই সন্ত্রাসী মুজাহিদদের দাবী কি ছিল? ওরা মুসলিম, ওরা মায়ানমারের নাগরিকত্ব মানে না, ওরা রাখাইন প্রদেশ নিয়ে মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের সাথে যোগ দিতে চায়। রোহিঙ্গাদের হামলায় মায়ানমারের এথনিক বার্মিজরা সবসময় অতিষ্ঠ হয়ে থাকতো। ২০১২ সালে যে ভয়াবহ রায়ট হলো সেটা শুরু করেছিল রোহিঙ্গারা। ২৮ মে ‘মা থিডা টিয়ে’ নামে একজন রাখাইন নারীকে রুহিঙ্গা মুসলিমরা গ্যাং র‌্যাপ করে হত্যা করেছিল। সেটার পর অহিংস বৌদ্ধ তথা রাখাইনরা তাৎক্ষণিক ক্ষোভে আক্রমণ করে তাদের উপর। সেখানেই বিষয়টি থেমে যেত, কিন্তু ৯ জুন ২০১২ মসজিদে নামাজের পর রুহিঙ্গা মুসলিমরা মংডু শহরে ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে যা ১০ জুন ব্যাপরোয়াভাবে চলে রাখাইনদের ঘর বাড়ির উপর। ১১৯২টি বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। রাখাইনরা ও পুরো দেশ তাদের বিরুদ্ধে চলে গিয়ে রুহিঙ্গাদেরও ১৩৩৪টি ঘর পুড়িয়ে দেয়। রুহিঙ্গা মুসলিমরা বেশি ব্যাপরোয়া ছিল মূলত মনে করেছিল, টিকতে না পারলে পেছনে বাংলাদেশের ভূমি আছে। সেজন্য ওরা কখনো আপোসকামী হয়নি।

বাংলাদেশকে এখনও নিরাপদ ভূমি মনে করার কারণ কি? ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর ১৯৭৮ সালে সামরিক জিয়ার সরকার মুসলিম বিশ্বে নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সামরিক সরকারের স্বীকৃতি আদায়ের জন্য জাতিসংঘের প্রস্তাবে বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দেয়। বার্মা থেকে পালিয়ে আসা দুই থেকে আড়াই লাখ রোহিঙ্গা তখন বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এই রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার ও উখিয়ায় উদ্বাস্তু হিসেবে জাতিসংঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক হাইকমিশন সহযোগিতা করতে শুরু করে। এরপর ১৯৯১-৯২ সালে খালেদা জিয়ার শাসনামলে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের আধা-সামরিক বাহিনী নাসাকা এবং অন্য সম্প্রদায়ের সম্মিলিত আক্রমণের পর নতুন করে আবার প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। মজার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে বলে জাতিসংঘ স্বীকার করে। অথচ কক্সবাজারের স্থানীয়দের মতে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৪ থেকে ৫ লাখের বেশি। বাস্তবে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি।

যারা বাংলাদেশে আশ্রয় পেয়েছিল তাদের কর্মকাণ্ড কি? সত্তর দশকের শেষদিকে পাকিস্তানভিত্তিক ধর্মান্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ (হুজি) বাংলাদেশের ধর্মান্ধ গোষ্ঠী জামায়াতে ইসলামী ও এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশের রোহিঙ্গাদের আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধে মুজাহিদ হিসেবে নিয়োগ করে। আফগান ফেরত রোহিঙ্গা যোদ্ধারা পরবর্তী সময়ে রাখাইন প্রদেশে ঢোকে ও একাধিক জঙ্গি সংগঠন গড়ে তোলে। এই রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠনগুলো রাখাইন অঞ্চলে নিজেদের দাবি আদায়ে জন্য নতুন করে আবার সশস্ত্র সংগ্রামের সূচনা করে। এসব সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও), আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (এআরএনও) ও আরাকান লিবারেশন ফ্রন্ট (এএলএফ) জাতীয় বেশ কয়েকটি সংগঠন। যেগুলো আরাকান অঞ্চলে সশস্ত্র আন্দোলনের পাশাপাশি বেশিরভাগ কার্যক্রম পরিচালিত করে বাংলাদেশ সীমান্ত অঞ্চল থেকে। মিয়ানমার সরকারের অভিযোগ হলো, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের বেনামি জঙ্গি সংগঠন জেএমবি, জেএমজেবি, হুজি এবং পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বা, জইসী মুহাম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলো এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স) রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্রশস্ত্রের যোগান দেয়। আর এদের অর্থ সহায়তা প্রদান করে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও তুরস্ক। ফলে এই রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠনগুলো সক্রিয়ভাবে মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চলে নানা কিসিমের জঙ্গি অপারেশন পরিচালনা করে।

এই ছিন্নমূল মানুষদের দেশে দেশে প্রত্যাখ্যান, যখন তারা খিদে তেষ্টায় মারা যাচ্ছেন তখনও রেহাই নেই— কোনও দেশই তাদের দায় নিতে চাইছে না। রোহিঙ্গাদের ছিন্নমূল অবস্থা তাদের উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে এই সত্যিটাও আজ পুরোপুরি অস্বীকার করা বাতুলতা। এই সমস্যায় এই উপমহাদেশের প্রভাবশালী দেশগুলি কি প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে? মায়ানমার ধীরে ধীরে ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। রাশিয়া থেকে চিন মার্কিন দেশ থেকে আরব বিশ্ব সবাই মিয়ানমারের লোভনীয় সম্পদ ব্যাবহারে আগ্রহী। বিনিয়োগে আগ্রহী। আগামী দশ বছরের মধ্যে মিয়ানমারে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। এমন একটা অবস্থায় ব্যবসা বান্ধব আন্তর্জাতিক রাজনীতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে মায়ানমারকে কখনোই চাপ দিতে চায়নি কেউই বরং ক্ষমতাধর দেশগুলি রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সরব নয় যাতে ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক(!), ব্যাবসা-বান্ধব আর সুখে অভ্যস্ত মায়ানমারকে বাগে আনা সহজ হয়। পশ্চিমা বিশ্ব এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মিয়ানামারের বাড়তি গুরুত্বের কারণ হলো বিশ্বশক্তি হওয়ার পথে দ্রুত ধাবমান চীন ও ভারতের অবস্থান এই অঞ্চলে। সংগত কারণেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারত ও চীন উভয়েই তাদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তাছাড়া মিয়ানামার ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অভ্যন্তরে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে তেল-গ্যাসের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। দ্রুত প্রবৃদ্ধির ফলে জনশক্তি এবং ভোগ্যপণ্যের চাহিদাও এসব দেশে দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম এবং মিয়ানমারে কৃষি উপযোগী জমির তুলনায় জনসংখ্যা কম হওয়ায় এ দেশগুলোতে বিপুল জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। ফলে ওইসব দেশে কৃষি ক্ষেত্রে প্রচুর বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে। কাজেই তাদের দায় কিসের? বাংলাদেশে গেছে যখন ঝামেলা পোয়াক বাংলাদেশ।

মানবিকতার কারনে নিতান্ত বাধ্য হয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার রোহিঙ্গাদের জন্যে সীমান্ত উন্মুক্ত করেছিল। গনসমর্থণ তখন ছিল রোহিঙ্গাদের আসতে দেওয়ার পক্ষে। গান বাদ্যি কবিতা স্লোগানে দরদী বাংলাদেশের জনগন বুঝেও বোঝে নি এর পরিণাম কি হতে চলেছে? এখনো একই অবস্থা বিদ্যমান। কিন্তু অবস্থাটা কি? মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি বলেছেন, মিয়ানমার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ব্যবস্থা করছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমঝোতার ভিত্তিতেই মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে। ২৩ নভেম্বর ২০১৭ বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক চুক্তি সই করেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং মিয়ানমারের পক্ষে সু চি র এক বৈঠক শেষে বাংলাদেশের পক্ষে এ এইচ মাহমুদ আলী এবং মিয়ানমারের পক্ষে কাইয়ো থিন সোয়ে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী বলেন, শিগগির রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করবে মিয়ানমার। কিন্তু কোথায় কী? আজ অব্ধি টালবাহানা করে একজনও রোহিঙ্গাকে দেশে ফেরানো হয় নি।

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গারা কি সত্যি দেশে ফিরতে চাইছে? এককথায় না। কারন তারা বিনা পয়সায় খাদ্য পাচ্ছে। এনজিও গুলির সাহায্যে কাজ পাচ্ছে। আতঙ্ক নেই। বরং মুসলিম ধর্মীয় মৌলবাদীদের হেফাজতে ক্রমে তারা আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দেশি-বিদেশি এনজিওগুলো খুঁটি গেড়ে বসেছে। তাদের ব্যবসা জমে উঠেছে বেশ। রোহিঙ্গারা যতদিন থাকবে ততদিন তাদের পোয়াবারো। রোহিঙ্গারা ফেরত গেলে তাদের ব্যবসায় ধস। তাই দেশে ফিরতে অস্বীকৃতি জানাতে নানাভাবে রোহিঙ্গাদের উস্কানি দিচ্ছে তারা। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে কর্মরত দেশি-বিদেশি ৯২টি এনজিও প্রায় সাত হাজার রোহিঙ্গাকে চাকরি দিয়েছে। তাদের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনবিরোধী করতে নানাভাবে উস্কানি দিচ্ছে, মিছিল-সমাবেশ করাচ্ছে, প্রত্যাবাসনবিরোধী লিফলেটও বিতরণ করেছে। গত এক বছরে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ৬০ হাজার শিশু জন্ম নিয়েছে। আগামি এক বছরে জন্ম নেবে আরো ৬০ হাজার। মিয়ানমার যদি রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ও, এই ১ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গাকে নেবে না। কারণ তাদের জন্মভূমি মিয়ানমার নয়, বাংলাদেশ। যতই দিন যাবে এই গণপ্রজননের ফলে রোহিঙ্গার সংখ্যা ততই বাড়বে। জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে সাহায্য সংস্থাগুলোর কোনো উদ্যোগ নেই। কারণ যত রোহিঙ্গা তত টাকা। সাহায্য এখানে একটা বিরাট ব্যবসা। তারা উদ্যোগ নিলেও রোহিঙ্গারা মানবে কেন? কারণ তাদের ধর্মমতে জন্মনিয়ন্ত্রণ হারাম। বাংলাদেশ সরকার চাইলে হয়ত এই আন্ধেলা কূপমণ্ডুক মানসিকতা থেকে তাদের বের করে আনতে পারে। কিন্তু সরকার পারবে না। কারণ ইতোমধ্যেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো অলিখিতভাবে হেফাজত অনুসারীদের কাছে ইজারা দেওয়া হয়ে গেছে। সেসব ক্যাম্পে মসজিদ-মাদ্রাসা খুলেছে হেফাজত। রোহিঙ্গা শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা দিচ্ছে। জন্মনিয়ন্ত্রণবিরোধী তাদের অব্যাহত প্রচারণার ফলে রোহিঙ্গাদের কেউ জন্মনিয়ন্ত্রণ গ্রহণে আগ্রহী হবে না।

সম্প্রতি কক্সবাজারে চাটগাঁর ভাষায় দেওয়া তাঁর একটা ওয়াজে এ প্রসঙ্গে বিস্তর কথাবার্তা ছিল। বাংলা অনুবাদে তার কিয়দংশ এমন :

‘রিজিকের মালিক কে? আল্লাহপাক পরওয়ারদেগার। তুমি কেন শুধুশুধু জন্মনিয়ন্ত্রণ করবা? তুমি তো তাকে খাওয়াবা না। আল্লাহপাক বলেছেন, ‌‘আমি তোমাকেও খাওয়াবো, তোমার ছেলেমেয়েকেও খাওয়াবো।’ তুমি কেন শুধুশুধু জন্মনিয়ন্ত্রণ করবা? খবরদার!! বড় গুনাহ।’

আজ যদি ঢাকা শহরে একটা আনবিক বোমা ফেলা হয় তাহলে বড়জোর ঢাকা শহর ধংস হবে। গোটা বাংলাদেশ হবে না। কিন্তু রোহিঙ্গা নামক যে বোমাটি আজ ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে তা পুর্ণতাপ্রাপ্ত হলে ধর্ম নিরপেক্ষতার চেতনা নিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে ইসলাম জঙ্গিবাদের হাতে ধ্বংস হবে। কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আজ ধ্বংসের পথে। কক্সবাজারে আদি বাস যাদের তারা আজ সংখ্যালঘু। রাষ্ট্রের ভিতরে জন্ম নিয়েছে আরেক রাস্ট্র। কিন্তু কি করবে বাংলাদেশ? ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় দেড় কোটি শরণার্থীর চাপে ভারতের অর্থনীতি যখন ভেঙে পড়ার মুখে তখন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পশ্চিম বিশ্বভ্রমনের পরে বুঝেছিলেন যে স্থায়ী সমাধানের একটাই রাস্তা তা হল বাংলাদেশ সৃষ্টি। তিনি ফিল্ড মার্শাল শ্যাম মানেকশ’কে ডেকে বলেছিলেন, যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী, প্রস্তুত হও। আমাদের দু সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশকে পাকসেনা মুক্ত করতে হবে। দেরী হলে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ হবে ও বাংলাদেশ সৃষ্টি হবে না। আজ একই রকমের দ্রুত ও আকস্মিক পদক্ষেপ নিতে হবে বাংলাদেশকে। কী পদক্ষেপ নেবেন তারা ঠিক করবেন। কিন্তু না নিয়ে আবেদন নিবেদন করে কালক্ষেপন করলে অনতিবিলম্বে ‘রোহিঙ্গা’ নামক বোমাটি ফাটবে। আর তার আঁচে পুড়ে শেষ হয়ে যাবে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানে এগিয়ে থাকা গোটা বাংলাদেশ।

আরোও পড়ুন
সর্বাধিক পঠিত
শিস দিয়েই দুই বাংলার তারকা জামালপুরের অবন্তী
শিস দিয়েই দুই বাংলার তারকা জামালপুরের অবন্তী
আশুরার রোজা: নিয়ম ও ফজিলত
আশুরার রোজা: নিয়ম ও ফজিলত
তরুণীদের বেডরুমে নেয়ার পর হত্যা করাই কাজ
তরুণীদের বেডরুমে নেয়ার পর হত্যা করাই কাজ
রাতে ফেসবুক বন্ধ চান রওশন
রাতে ফেসবুক বন্ধ চান রওশন
সূরা আল নাস এর গুরুত্ব ও ফজিলত
সূরা আল নাস এর গুরুত্ব ও ফজিলত
অবন্তী সিঁথির জয়জয়কার
অবন্তী সিঁথির জয়জয়কার
যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবেই তুমি বাংলাদেশ!
যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবেই তুমি বাংলাদেশ!
যৌনতায় ঠাসা ৫টি সিনেমা
যৌনতায় ঠাসা ৫টি সিনেমা
উচ্চতা বাড়ায় যেসব খাবার
উচ্চতা বাড়ায় যেসব খাবার
মিলনে ‘অপটু’ ট্রাম্প, বোমা ফাটালেন এই পর্নো তারকা!
মিলনে ‘অপটু’ ট্রাম্প, বোমা ফাটালেন এই পর্নো তারকা!
‘শাহরুখ’ আর রেডি গোয়িং টু জাহান্নাম!
‘শাহরুখ’ আর রেডি গোয়িং টু জাহান্নাম!
‘তারেকের তিন গাড়ি, আমার বোন চলে বাসে’
‘তারেকের তিন গাড়ি, আমার বোন চলে বাসে’
নিককে প্রকাশ্যে চুমু খেলেন প্রিয়াঙ্কা
নিককে প্রকাশ্যে চুমু খেলেন প্রিয়াঙ্কা
বিয়ে ছাড়াই মা হলেন জিৎ-এর প্রেমিকা!
বিয়ে ছাড়াই মা হলেন জিৎ-এর প্রেমিকা!
স্টিফেন হকিংয়ের পাঁচ ভয়ংকর ভবিষ্যদ্বাণী
স্টিফেন হকিংয়ের পাঁচ ভয়ংকর ভবিষ্যদ্বাণী
‘পবিত্র আশুরা’
‘পবিত্র আশুরা’
চাকরি না পাওয়ায় সুইসাইড নোট লিখে যুবকের আত্মহত্যা
চাকরি না পাওয়ায় সুইসাইড নোট লিখে যুবকের আত্মহত্যা
‘বিয়ে’ নিয়ে হৈচৈ, বুবলী প্রসঙ্গে যা বললেন শাকিব
‘বিয়ে’ নিয়ে হৈচৈ, বুবলী প্রসঙ্গে যা বললেন শাকিব
সূরা বাকারার শেষ অংশের ফজিলত
সূরা বাকারার শেষ অংশের ফজিলত
স্টিফেন হকিংয়ের জীবন বদলানো ১০ উক্তি
স্টিফেন হকিংয়ের জীবন বদলানো ১০ উক্তি
সর্বশেষ:
ইরানের আহবাজ শহরে সেনা প্যারেডে বন্দুকধারীর হামলা, আহত ২০ ইরানের আহবাজ শহরে সেনা প্যারেডে বন্দুকধারীর হামলা, আহত ২০ সড়ক পরিবহন আইনে যাত্রীদের অধিকার সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে: যাত্রীকল্যাণ সমিতি সড়ক পরিবহন আইনে যাত্রীদের অধিকার সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে: যাত্রীকল্যাণ সমিতি ২০১৮ শেষ অথবা ২০১৯’র শুরুতে জাতীয় নির্বাচন: সিইসি ২০১৮ শেষ অথবা ২০১৯’র শুরুতে জাতীয় নির্বাচন: সিইসি যশোরে ও বান্দরবানে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২ যশোরে ও বান্দরবানে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ওসমান গণি মারা গেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ওসমান গণি মারা গেছেন তানজানিয়ায় ফেরি ডুবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৬ তানজানিয়ায় ফেরি ডুবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৬