Alexa রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে বাস্তবসম্মত করতে সু চির নতুন উদ্যোগ

ঢাকা, সোমবার   ২৬ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ১১ ১৪২৬,   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে বাস্তবসম্মত করতে সু চির নতুন উদ্যোগ

 প্রকাশিত: ১৭:২৬ ২৮ এপ্রিল ২০১৮   আপডেট: ১০:৫০ ২৯ এপ্রিল ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বাস্তবসম্মত পরিবেশ সৃষ্টি করতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি। দ্য গার্ডিয়ান সু চি-ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে এই আভাস দিয়েছে।

প্রভাবশালী ওই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার ও উন্নয়নমূলক সংস্থাগুলোকে রাখাইনে প্রবেশাধিকার দিতে চান সু চি। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক পদক্ষেপ ত্বরান্বিত করতে তাদের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করতে চান তিনি।

জানুয়ারিতে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রত্যাবাসন চুক্তি করলেও কার্যত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া এখনো শুরু করেনি মিয়ানমার। চুক্তির পরও রাখাইনে গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। বুলডোজারে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের নজির। খবর মিলেছে সেখানে আদর্শ বৌদ্ধ গ্রাম নির্মাণ চলমান থাকার। ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘ প্রতিনিধিদলের মিয়ানমারে প্রবেশের কথা থাকলেও সে সময় ডি-ফ্যাক্টো সরকার এর অনুমতি দেয়নি। তবে সোমবার নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল রাখাইনে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। সেখানে সু চির সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে ওই দলের।

সু চির ঘনিষ্ঠজনদেরকে উদ্ধৃত করে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সেই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতের ব্যাপারে আলোচনা করবেন সু চি। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ক্ষমতাবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় সু চি সেই বৈঠকে জাতিসংঘের একজন বিশেষ দূত নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে আলোচনা করতে পারেন বলে আভাস দিয়েছে গার্ডিয়ান।

সু চি এবং তার ঘনিষ্ঠরা মনে করছেন, রাখাইনে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর কাজ করার বিষয়টি একটি চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হলে তা বাংলাদেশের শিবিরে থাকা শরণার্থী ও মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ শরণার্থীদের স্বেচ্ছাপ্রসূত, নিরাপদ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করবে। তাছাড়া জাতিসংঘের সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবে এবং দেশ ছাড়ার ঘটনা ঘটেছিল যেরকম সহিংসতার জন্য, সেরকম সহিংসতা আবার হওয়া ঠেকাতে ভূমিকা রাখতে পারবে। সু চির সহযোগীরা আশা করছেন, তিনি কূটনীতিকদের চুক্তির বিষয়টি বোঝাতে সক্ষম হবেন।

সু চির সহযোগীরা এখন স্বীকার করছেন, বর্ষাকাল কাছে চলে আসায় শরণার্থী প্রত্যাবাসনের বিষয়টি খুব দ্রুত করে ফেলা প্রয়োজন। কিন্তু জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনের প্রধান সাম্প্রতিককালে মন্তব্য করেছেন, নিরাপদে, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ও স্থায়ীভাবে শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার অনুকূল পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।

তিনি আরো বলেছিলেন, সেই অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারেরই।

রোহিঙ্গা শরণার্থীরা জানিয়েছেন, তারা মিয়ানমারের কাছে তাদের আইনি পরিচয়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি, নাগরিকত্ব পাওয়া ও রাখাইনে ফিরে গেলে নিরাপত্তা পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চয়তা চান।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বাস্তুচ্যুত অভ্যন্তরীণ শরণার্থীদের বাধাহীনভাবে চলাচলের নিশ্চয়তা বিধান করাটাই হওয়া উচিত প্রথম পদক্ষেপ। এতে করে বাংলাদেশে আসা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীরাও আস্থা ফিরে পাবে। অপর যে জরুরি পদক্ষেপটি নেওয়া উচিত তা হচ্ছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যখানে থাকা ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’ আটকে পড়া প্রায় ৬ হাজার শরণার্থীকে ফিরিয়ে নেয়া। গার্ডিয়ান মনে করে, পরিদর্শনে যাওয়া কূটনীতিকরা আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য অং সান সু চির ওপর চাপ দেবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই

Best Electronics
Best Electronics