Alexa রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর চাপ ফেলবে কমনওয়েলথ

ঢাকা, বুধবার   ২১ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৭ ১৪২৬,   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর চাপ ফেলবে কমনওয়েলথ

 প্রকাশিত: ২০:৪৬ ২৬ এপ্রিল ২০১৮   আপডেট: ২০:৪৭ ২৬ এপ্রিল ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সমর্থন মিয়ানমারের ওপর বাড়তি চাপ ফেলবে বলে মনে করেন সরকারের কর্মকর্তারা। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করা ছাড়াও কফি আনান কমিশন রিপোর্টের পূর্ণ বাস্তবায়নসহ রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের প্রতি জোর দিয়েছে।

এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এই প্রথমবারের মতো কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলন শেষে প্রকাশিত আউটকাম ডকুমেন্টে বাংলাদেশকে বিষয়ে একটি প্যারাগ্রাফ সংযুক্ত করা হয়েছে।’

এই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘এটি আমাদের কূটনীতির জন্য বিরাট একটি সাফল্য। কারণ, কমনওয়েলথভুক্ত অনেক সদস্য দেশ এই বিষয়টি নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছিল না।’ কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার কমনওয়েলথের সদস্য নয়। ওই দেশ সংক্রান্ত একটি সমস্যা কমনওয়েলথের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিলে উল্লেখ করতে অনেকে অনাগ্রহী ছিলেন। কিন্তু আমরা বিষয়টি নিয়ে আগ্রাসী কূটনীতি পরিচালনা করি। সর্বশেষে এই প্যারাটি সংযুক্ত করতে সমর্থ হই।’

এই প্যারাতে বলা হয়েছে, ‘মিয়ানমারের রাখাইন থেকে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। রোহিঙ্গাদের, যাদের নিশ্চিহ্ন করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে, আশ্রয় দেয়ার জন্য আমরা বাংলাদেশের প্রশংসা করি।’

যারা নির্যাতন করেছে তাদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা, সহিংসতা বন্ধ করা ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেয়া হয়েছে ওই প্যারাতে। এছাড়া মূল সমস্যার সমাধানের ওপরও জোর দেয়া হয়।

সবার জন্য ভবিষ্যতের পথে

ব্রেক্সিট-পরবর্তী অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে এবারের কমনওয়েলথের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘সবার জন্য ভবিষ্যতের পথে’।

এ প্রসঙ্গে সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘২০১৯ এরপর যুক্তরাজ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাবে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য স্বাভাবিকভাবে তার ঔপনিবেশিক দেশগুলোর সঙ্গে আরো বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অন্যান্য সহযোগিতা বাড়াতে করতে চায়।’

এবারের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ২০৩০-এর মধ্যে কমনওয়েলথভুক্ত ৫৩টি দেশের মধ্যে আন্তঃবাণিজ্যের পরিমাণ দুই লাখ কোটি ডলারে উন্নিত করা হবে। এ প্রসঙ্গে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘শুধু তাই নয়, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য একটি কাঠামো তৈরির ওপরও জোর দেয়া হয়েছে।’

মুক্ত বাণিজ্য

বর্তমান বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত মুক্তবাণিজ্য ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর এই ব্যবস্থার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে এটিকে বজায় রাখার জন্য সমর্থন করেছে।

জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ভারতসহ অনেক দেশ মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা চায়, এই ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে। এটি বাংলাদেশসহ অন্য ছোট ছোট অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ভালো সংবাদ।’ কারণ রক্ষণশীলতা প্রতিষ্ঠা হলে আমাদের মতো অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মতো পণ্য রফতানি করে থাকে। শুধু তৈরি পোশাকশিল্পে প্রায় ৪০ লাখ নারী কাজ করছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই

Best Electronics
Best Electronics