.ঢাকা, সোমবার   ২৫ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ১১ ১৪২৫,   ১৮ রজব ১৪৪০

রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া ঠেকাতে ইসির বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বাড়লো

ডেইল বাংলাদেশ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ২১:৩২ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭   আপডেট: ২১:৩৪ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

নির্বাচন কমিশনের (ইসির) বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিধি বাড়লো। দেশের ৪টি জেলার ৩০টি উপজেলাকে আগে বিশেষ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও এখানে নতুন করে দু’টি উপজেলা যুক্ত করেছে ইসি। উপজেলা দু’টি হলো চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও রাঙ্গুনিয়া।

ইসি ভোটার তালিকা হালনাগাদের চলমান কার্যক্রমে রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে ভোটার হওয়ার ঠেকাতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও রাঙামাটি জেলার ৩০টি উপজেলাকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে।

আগের বছর ২০টি উপজেলা বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের এই ৪টি জেলায় বিভিন্ন এলাকায় রোহিঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার খবরে গত ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত ভোটার তালিকা হালনাগাদ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয় সভায় ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ১০টি বাড়িয়ে ৩০টি উপজেলাকে চিহ্নিত করা হয়।এর মধ্যে কক্সবাজার ও রাঙামাটির ৮টি করে এবং বান্দরবান ও চট্টগ্রামের ৭টি করে উপজেলা ছিল।

পরে গত ২৬ আগস্ট নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী চট্টগ্রামে সংশ্লিষ্ট উপজেলার সঙ্গে সমন্বয় সভা করতে গেলে মাঠ প্রশাসন থেকে কিছু নতুন এলাকায় রোহিঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার তথ্য উঠে আসে। পরে নির্বাচন কমিশন নতুন করে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলাকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই বিশেষ ৩২টি উপজেলায় নাগরিকদের ভোটার হতে বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের পাশাপাশি চাচা ও ফুফুর পরিচয়পত্রের অনুলিপি জমা দিতে হবে। এছাড়া ভোটার নিবন্ধনের নির্ধারিত ফরম ছাড়াও তাদের পূর্বপুরুষের ধারাবাহিকতার প্রমাণে অতিরিক্ত একটি ফরম পূরণ করতে হচ্ছে।

এছাড়া এসব উপজেলায় রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া ঠেকাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে সদস্যসচিব করে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির যাচাই-বাছাই ছাড়া এসব উপজেলায় কেউ ভোটার হতে পারবেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘কোন বিদেশি নাগরিক যেন অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে না পারে সেজন্য কমিশন খুবই সতর্ক।

আমরা আগে ৩০টি উপজেলাকে বিশেষ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছিলাম। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে নতুন করে আরও দু’টি উপজেলাকে আমরা এর সঙ্গে যুক্ত করেছি।

বিশেষ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত কক্সবাজার জেলার সবগুলো উপজেলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শমূলক সভায় যোগ দিতে ভারপ্রাপ্ত সচিব আগামী ৯ সেপেম্বর কক্সবাজার যাচ্ছেন বলেও জানান।

বিশেষ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত উপজেলাগুলো

বিশেষ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত কক্সবাজার জেলার উপজেলাগুলো হলো- সদর, চকোরিয়া, কুতুবদিয়া, উখিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, রামু ও টেকনাফ; বান্দরবানের সদর, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানছি।

রাঙামাটির ১০টি উপজেলার মধ্যে বিশেষ এলাকা চিহ্নিত ৮টি উপজেলা হচ্ছে- সদর, লংগদু, রাজস্থলী, বিলাইছড়ি, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি ও বরকল

চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলার মধ্যে চিহ্নিত ৯টি উপজেলা হচ্ছে- বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, রাঙ্গুনিয়া ও কর্ণফুলী।

ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২৫ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে একযোগে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যাদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে তাদের যাচাই-বাছাই ও নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত। এই নিবন্ধন কার্যক্রমের সময় নিবন্ধন কেন্দ্র ও আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিটি উপজেলা নির্বাচন
অফিসে গিয়ে বাদ পড়া যেকেউ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।

চলমান নিবন্ধন কার্যক্রমে রোহিঙ্গারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে অবৈধভাবে ভোটার হওয়ার চেষ্টা তদ্বির চালাচ্ছে বলে অভিযোগ
রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে